বাংলাদেশে কম দামে ইউরিয়া সার দিতে আগ্রহী রাশিয়া

- আপডেট সময় : ১০:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর আগ্রহ থেকে রাশিয়া ইউরিয়া সার সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করছে, তার তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে ১০ ডলার কম দামে সার সরবরাহের এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সচিবালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি সহযোগিতা এবং সার সরবরাহকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গম ও মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার সরবরাহে রাশিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু এবং আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বৈঠকে রাশিয়ার প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সরবরাহের আগ্রহ প্রকাশ করে। এ সহযোগিতা বাস্তবায়িত হলে সারের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় কমবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং রাশিয়ার প্রোডিনটর্গের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে সূর্যমুখী তেল, হলুদ মটরশুঁটি, ছোলা ও লাল মসুর ডালসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। সভায় শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
চলতি মাসে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দেশের কৃষিখাতে ব্যবহারের জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় রাশিয়া ও কানাডা থেকে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয় ৩৫১ কোটি ২৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানি প্রোডিনটর্গের কাছ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়, যাতে ১৬৩ কোটি ৯২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। ওই সময় এমওপি সার আমদানির ব্যয় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কানাডা ও রাশিয়া থেকে প্রতি টন একই দরে কিনছে সরকার।



























