যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকবে ইরান
- আপডেট সময় : ০৩:১৮:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিমান হামলা বন্ধ রাখা হলে ইরানও পাল্টা সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকবে বলে জানিয়েছে তেহরান। দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ হামলা স্থগিত রাখবে, ততক্ষণ ইরানও কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নেবে না। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এই বার্তা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং ইরানের অবস্থান স্পষ্ট—হামলার জবাব কেবল হামলাতেই সীমাবদ্ধ।
টানা ১৩ রাত ধরে ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর গত শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে তাদের অভিযান স্থগিত করে। এরপর শনিবার ও রোববার নতুন কোনো মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাল্টা কোনো হামলা চালায়নি। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে বিরতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের এই বিরতির পেছনে সামরিক কৌশলগত কারণও থাকতে পারে। ওই কর্মকর্তার মতে, পূর্বনির্ধারিত বেশির ভাগ লক্ষ্যবস্তুতে ইতোমধ্যে হামলা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কায় জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বড় পরিসরের অভিযান পুনরায় শুরুর ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা বন্ধের সিদ্ধান্তকে স্থায়ী কোনো নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছে না। তাদের মতে, এটি প্রকৃত যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত না হয়ে কৌশলগত বিরতি হতে পারে। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ধারাবাহিক হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। বর্তমানে হামলা সাময়িক বন্ধ থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।





























