ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চোয়ালের অস্ত্রোপচারের চার দিন পরেই জিমে ফিরেছেন দিবু মার্তিনেস কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাড়ছে হাম ও ডেঙ্গু রোগী মাটিরাঙ্গায় দুর্গোৎসব শেষে পাহাড় পরিচ্ছন্নতায় তরুণদের প্রশংসনীয় উদ্যোগ আমতলীতে হেলপারের চালনায় বাস উল্টে ২৯ যাত্রী আহত সাজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি তোতলামি রোগ নয়, ভ্রান্ত ধারণা দূর করার আহ্বান পটিয়ায় চালককে অজ্ঞান করে ১৬ লাখ টাকার চিনি ছিনতাইয়ের অভিযোগ অতিরিক্ত এআই ব্যবহারে কি মানুষের স্মৃতিশক্তি কমছে, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা কটিয়াদীতে ১৮ মামলার আসামি সাজন ঘোষ গ্রেপ্তার সিরিয়ার বিজয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্মরণ করা হবে: এরদোয়ান

তোতলামি রোগ নয়, ভ্রান্ত ধারণা দূর করার আহ্বান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কথা বলার আড়ষ্টতাজনিত প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্তদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং নানা ধরনের কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা দূর করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ২২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস পালন করা হয়। ১৯৯৮ সালে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো এই দিবস পালন শুরু হয়েছিল। বিশ্বজুড়ে অন্তত ১ শতাংশ মানুষের তোতলামির সমস্যা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সেই হিসাবে বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৮ কোটি এবং বাংলাদেশে অন্তত ১৮ লাখ মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন।

বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে দিবসটি পালনে তেমন সরকারি উদ্যোগ না থাকলেও ২০১৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে নিজস্ব উদ্যোগে কর্মসূচি পালন করে আসছে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্যামারিং রিমুভ সেন্টার’। অন্যান্য বছরের মতো এবারও র‌্যালি, সমাবেশ ও সচেতনতামূলক প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যক্তি, সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা।

স্ট্যামারিং রিমুভ সেন্টারের কোর্স পরিচালক জানান, গত ১৪ বছর ধরে তিনি একক প্রচেষ্টায় সহস্রাধিক মানুষকে তোতলামির সমস্যা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছেন এবং এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে তোতলামি কোনো রোগ নয়, জন্মগত বা বংশগত সমস্যাও নয়। এটি মূলত দীর্ঘদিনের অভ্যাসগত ও মনস্তাত্ত্বিক একটি বিষয়। যেহেতু এটি কোনো রোগ নয়, তাই কোনো ওষুধ বা অস্ত্রোপচারে এর সমাধান হয় না।

অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, কুমিল্লার এক প্রকৌশলী তোতলামি সারাতে নামকরা চিকিৎসকের পরামর্শে জিহ্বায় অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। এতে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন তো হয়ইনি, বরং তিনি শারীরিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া মুখে সীসা বা মার্বেল রাখা কিংবা ঝাড়ফুঁক ও পানিপড়া খাওয়ার মতো নানা ভ্রান্ত ধারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগী অসহায় মানুষকে প্রতারিত করার ঘটনাও ঘটে। এসব কুসংস্কার থেকে মানুষদের রক্ষা করতেই আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস পালনের গুরুত্ব অপরিসীম।

তোতলামি হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো একটি কারণ নেই, তবে বেশ কিছু বিষয় এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে:

ছোটবেলায় অতিরিক্ত আতঙ্ক, উদ্বেগ কিংবা কঠোর শাসন।আকস্মিক শারীরিক বা মানসিক আঘাত এবং ভয়ানক কোনো দুর্ঘটনার মুখোমুখি হওয়া।খুব দ্রুত কথা বলার কুঅভ্যাস।বিশেষ কোনো ব্যক্তিকে ভয় পাওয়া এবং বারবার তার মুখোমুখি হওয়া।শিশুকালের স্বাভাবিক অভ্যাস জোরপূর্বক বদলে দেওয়া (যেমন বাঁহাতি শিশুকে ডান হাতে কাজ করতে বাধ্য করা)।শৈশবে বাবা-মা বা আপনজনদের ছেড়ে দীর্ঘ সময় একা থাকা।দীর্ঘকালীন জ্বরসহ কোনো রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা মস্তিষ্কে আঘাতজনিত কারণ।অন্য তোতলা ব্যক্তিকে অনুকরণ করা বা ভেংচি কাটার অভ্যাস।স্থান, কাল ও পাত্রভেদে তোতলামির মাত্রা কম-বেশি হতে পারে। নতুন পরিবেশ, অপরিচিত মানুষ, কড়া মেজাজের ব্যক্তিত্বের সামনে, সামাজিক সমাবেশ কিংবা মৌখিক ইন্টারভিউয়ের সময় তোতলামি বেড়ে যায়। অনেক সময় হঠাৎ করে নিজের বা বাবার নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর বলতে গিয়েও ভুক্তভোগীরা বিপাকে পড়েন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বীকার বা লুকিয়ে রেখে তোতলামি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। অনেকেই সমস্যাটি লুকিয়ে রাখতে চান, ফলে তারা সমাজ থেকে পালিয়ে বেড়ান এবং অন্তর্মুখী হয়ে জীবনযুদ্ধে পিছিয়ে পড়েন। সমাধান পাওয়ার প্রথম শর্তই হলো সমস্যাটি স্বীকার করা এবং সমাধানের জন্য মনস্থির করা।

স্ট্যামারিং রিমুভ সেন্টারে আসা ব্যক্তিদের ‘রোগী’ না বলে ‘শিক্ষার্থী’ বা ‘ছাত্র’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেখানে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয় না, বরং দক্ষ মেন্টরের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় প্র্যাকটিস ও সঠিক কৌশল শেখানো হয়। এই সমস্যা মোকাবেলায় করণীয় বিষয়গুলো হলো:

নিজের তোতলামির সমস্যা আছে তা মেনে নেওয়া এবং তা সারানোর মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা।অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত অনুশীলন করা।শেখা কৌশলগুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা।সকলের মন থেকে অযৌক্তিক চিন্তা ও ভ্রান্ত ধারণা দূর করে সঠিক অনুশীলনের মাধ্যমে তোতলামিমুক্ত জীবন গড়াই আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবসের প্রধান অঙ্গীকার।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

তোতলামি রোগ নয়, ভ্রান্ত ধারণা দূর করার আহ্বান

আপডেট সময় : ০২:২৭:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

কথা বলার আড়ষ্টতাজনিত প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্তদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং নানা ধরনের কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা দূর করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ২২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস পালন করা হয়। ১৯৯৮ সালে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো এই দিবস পালন শুরু হয়েছিল। বিশ্বজুড়ে অন্তত ১ শতাংশ মানুষের তোতলামির সমস্যা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সেই হিসাবে বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৮ কোটি এবং বাংলাদেশে অন্তত ১৮ লাখ মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন।

বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে দিবসটি পালনে তেমন সরকারি উদ্যোগ না থাকলেও ২০১৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে নিজস্ব উদ্যোগে কর্মসূচি পালন করে আসছে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্যামারিং রিমুভ সেন্টার’। অন্যান্য বছরের মতো এবারও র‌্যালি, সমাবেশ ও সচেতনতামূলক প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যক্তি, সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা।

স্ট্যামারিং রিমুভ সেন্টারের কোর্স পরিচালক জানান, গত ১৪ বছর ধরে তিনি একক প্রচেষ্টায় সহস্রাধিক মানুষকে তোতলামির সমস্যা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছেন এবং এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে তোতলামি কোনো রোগ নয়, জন্মগত বা বংশগত সমস্যাও নয়। এটি মূলত দীর্ঘদিনের অভ্যাসগত ও মনস্তাত্ত্বিক একটি বিষয়। যেহেতু এটি কোনো রোগ নয়, তাই কোনো ওষুধ বা অস্ত্রোপচারে এর সমাধান হয় না।

অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, কুমিল্লার এক প্রকৌশলী তোতলামি সারাতে নামকরা চিকিৎসকের পরামর্শে জিহ্বায় অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। এতে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন তো হয়ইনি, বরং তিনি শারীরিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া মুখে সীসা বা মার্বেল রাখা কিংবা ঝাড়ফুঁক ও পানিপড়া খাওয়ার মতো নানা ভ্রান্ত ধারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগী অসহায় মানুষকে প্রতারিত করার ঘটনাও ঘটে। এসব কুসংস্কার থেকে মানুষদের রক্ষা করতেই আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস পালনের গুরুত্ব অপরিসীম।

তোতলামি হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো একটি কারণ নেই, তবে বেশ কিছু বিষয় এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে:

ছোটবেলায় অতিরিক্ত আতঙ্ক, উদ্বেগ কিংবা কঠোর শাসন।আকস্মিক শারীরিক বা মানসিক আঘাত এবং ভয়ানক কোনো দুর্ঘটনার মুখোমুখি হওয়া।খুব দ্রুত কথা বলার কুঅভ্যাস।বিশেষ কোনো ব্যক্তিকে ভয় পাওয়া এবং বারবার তার মুখোমুখি হওয়া।শিশুকালের স্বাভাবিক অভ্যাস জোরপূর্বক বদলে দেওয়া (যেমন বাঁহাতি শিশুকে ডান হাতে কাজ করতে বাধ্য করা)।শৈশবে বাবা-মা বা আপনজনদের ছেড়ে দীর্ঘ সময় একা থাকা।দীর্ঘকালীন জ্বরসহ কোনো রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা মস্তিষ্কে আঘাতজনিত কারণ।অন্য তোতলা ব্যক্তিকে অনুকরণ করা বা ভেংচি কাটার অভ্যাস।স্থান, কাল ও পাত্রভেদে তোতলামির মাত্রা কম-বেশি হতে পারে। নতুন পরিবেশ, অপরিচিত মানুষ, কড়া মেজাজের ব্যক্তিত্বের সামনে, সামাজিক সমাবেশ কিংবা মৌখিক ইন্টারভিউয়ের সময় তোতলামি বেড়ে যায়। অনেক সময় হঠাৎ করে নিজের বা বাবার নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর বলতে গিয়েও ভুক্তভোগীরা বিপাকে পড়েন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বীকার বা লুকিয়ে রেখে তোতলামি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। অনেকেই সমস্যাটি লুকিয়ে রাখতে চান, ফলে তারা সমাজ থেকে পালিয়ে বেড়ান এবং অন্তর্মুখী হয়ে জীবনযুদ্ধে পিছিয়ে পড়েন। সমাধান পাওয়ার প্রথম শর্তই হলো সমস্যাটি স্বীকার করা এবং সমাধানের জন্য মনস্থির করা।

স্ট্যামারিং রিমুভ সেন্টারে আসা ব্যক্তিদের ‘রোগী’ না বলে ‘শিক্ষার্থী’ বা ‘ছাত্র’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেখানে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয় না, বরং দক্ষ মেন্টরের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় প্র্যাকটিস ও সঠিক কৌশল শেখানো হয়। এই সমস্যা মোকাবেলায় করণীয় বিষয়গুলো হলো:

নিজের তোতলামির সমস্যা আছে তা মেনে নেওয়া এবং তা সারানোর মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা।অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত অনুশীলন করা।শেখা কৌশলগুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা।সকলের মন থেকে অযৌক্তিক চিন্তা ও ভ্রান্ত ধারণা দূর করে সঠিক অনুশীলনের মাধ্যমে তোতলামিমুক্ত জীবন গড়াই আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবসের প্রধান অঙ্গীকার।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin