ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবে জনসমর্থন হারাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ১১:১৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানে হামলা চালানোর ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। যদিও যুদ্ধের শুরুর দিকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের যে ভয়াবহ আশঙ্কার কথা শোনা গিয়েছিল, বাস্তবে প্রভাবটি কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে এবং তেলের দাম এখনো ১০০ ডলারের নিচেই আছে, তবুও রাজনীতির সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বর্তমানে ইরান যুদ্ধই সবচেয়ে বড় কলঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের ভূমিকা সমর্থন করছেন।
মার্কিন নাগরিকদের জন্য বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই যুদ্ধ। জরিপে দেখা গেছে, ১০ জনের মধ্যে ৮ জন নাগরিক মনে করেন, যুদ্ধের কারণেই তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের জনমত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনের চেয়েও এগিয়ে আছেন এবং কানসাস, আইওয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা ও ফ্লোরিডার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনগুলো এখন তাদের দখলের পথে।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার গ্রাফ বসন্তকালে যুদ্ধের সূচনার পর থেকেই নিম্নমুখী। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে ট্রাম্পের নিট জনপ্রিয়তা ২৫ পয়েন্ট নিচে নেমে গেছে। তরুণ, কৃষ্ণাঙ্গ ও অশ্বেতকায় ভোটারদের রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকে পড়ার যে সম্ভাবনা আলোচিত হচ্ছিল, তা বাস্তবে দেখা যায়নি। রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও অর্থনীতির প্রতি আস্থা কমেছে; গত জানুয়ারিতে যেখানে ৭২ শতাংশ রিপাবলিকান অর্থনীতিকে শক্তিশালী মনে করতেন, সেপ্টেম্বরে সেই সংখ্যা ২৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
সামরিক দিক থেকে এই সংঘাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চরম অপমানজনক হিসেবে গণ্য হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র শক্তির ড্রোন ও মিসাইলের মুখে পিছু হটতে হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার কথা জানানো হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো খালি করতে হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমেছে এবং যুদ্ধজাহাজগুলো বিশ্বমঞ্চে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের তথ্যমতে, এই অভিযানে পেন্টাগনের খরচ ইতিমধ্যে ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং প্রতি মাসেই তা বাড়ছে।
দেশের ভেতরেও যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব ভয়াবহ। গত ছয় মাসে মার্কিন নাগরিকেরা জ্বালানি বাবদ অতিরিক্ত ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমান। সিবিওর অনুমান অনুযায়ী, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির এক-তৃতীয়াংশের বেশি এই যুদ্ধের সরাসরি ফলাফল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান সুদের হার কমাতে পারছেন না। এছাড়া ফেব্রুয়ারির পর থেকে গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে এবং ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি সাড়ে ৬ ডলারে পৌঁছেছে। লোহিত সাগরের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং চীনের জ্বালানি আমদানি বাড়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, যা আসন্ন শরতে আরও বড় বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।





























