যশোরে দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০২:০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে যশোরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা জোরদার, উচ্চ শব্দ ও ডিজে পার্টি নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘অমিত্রাক্ষর’ সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সভায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা মণ্ডপ ও তার আশপাশে ডিজে পার্টি, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা এবং মদ্যপান করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা অভিযোগ করেন, কিছু স্থানে পূজার নামে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান-বাজনা, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং মদ্যপ অবস্থায় মাতলামি করা হয়। এর ফলে পূজামণ্ডপে আসা নারী, শিশু ও বয়স্ক দর্শনার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় এবং উৎসবের ধর্মীয় পরিবেশ নষ্ট হয়। নেতারা পুরো পূজার সময়জুড়ে মণ্ডপগুলোতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের দাবি জানান。
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই জাতীয় স্বার্থে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা পরিহার করে মণ্ডপ ও প্রতিমাকেন্দিক সীমিত পরিসরে আলো ব্যবহার করতে হবে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, ব্যাপক আলোকসজ্জার কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং জেনারেটরের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে আমদানি করতে হয়।
নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে সভায় জানানো হয়, আগামী ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু হবে এবং অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হবে। পূজামণ্ডপে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা বা পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিজ নিজ এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবার যশোর জেলায় মোট ৭৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে, যা গত বছরের ৭০৯টির চেয়ে ২৮টি বেশি। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি মন্দিরের জন্য সরকারি চালের বরাদ্দ দ্বিগুণ করে ১ হাজার কেজি করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৫০০ কেজি। এছাড়া মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিয়ন্ত্রণ এবং ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
যশোরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বিভিন্ন থানার ওসি, ইউএনও, বিজিবি ও এনএসআইয়ের কর্মকর্তা এবং যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।


























