ঢাকা ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নোয়াখালীতে নিম্নমানের সেতু নির্মাণ, দুই প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সাবেক সাত এমপি ও তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা আপা আর ফিরে আসবে না, খুনিদের ছাড় নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বারিধারায় গাড়িচাপা: কিশোর চালক আজান আলী শরীফ অবশেষে গ্রেপ্তার সম্ভাবনা থেকে সংকটে গণঅধিকার পরিষদ: রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই মাস্টার্স পরীক্ষার আগেই বিচারক হলেন ইবির রাজু আহমেদ শাল্লায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত সিলেটে সওজের সরকারি জমিতে গোরস্থান নির্মাণের চেষ্টা, কাজ বন্ধ

শান্তির সন্ধানে প্রবীণ প্রজন্ম: এক বৈশ্বিক হাহাকার ও প্রত্যাশা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



২১শে সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে আবারও শান্তির খোঁজ চলছে। তবে এই দিনটিতে ৮৫ বছর বয়সী প্রবীণ সমাজ কোনো মেকি উৎসবে শামিল না হয়ে বরং তাদের বুকের ভেতর জমে থাকা গভীর হতাশার কথা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে চায়। দীর্ঘ পঁচাশী বছরের বেশি সময় ধরে তারা মানব ইতিহাসের দ্রুততম রূপান্তর প্রত্যক্ষ করেছে—পরমাণু ভাঙা থেকে শুরু করে আকাশ জয় এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলা পর্যন্ত। কিন্তু এত প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের দিনেও বিশ্বশান্তি আজও তাদের কাছে এক মরীচিকা হয়েই রয়ে গেছে।

বিদায়ী প্রজন্মের এই প্রবীণরা আজ এক নির্মম সত্যের মুখোমুখি। তাদের মতে, এই গভীর বেদনা কেবল মানুষের অক্ষমতা নয়, বরং বৈশ্বিক প্রজ্ঞা ও বিবেচনাবোধের চরম অভাব থেকে তৈরি হয়েছে। বিশ্বের ক্ষমতাধর শাসকেরা আজ এক অদ্ভুত অন্ধত্বে ভুগছেন, যেখানে তাদের মূল মন্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে "আগে আমাদের শান্তি"। প্রবীণরা মনে করেন, আধুনিক যুগে কেবল নিজের দেয়ালটুকু বাঁচিয়ে শান্তিতে থাকার চিন্তা একটি আত্মঘাতী বিভ্রম। কোনো দেশই আজ বিচ্ছিন্ন কোনো শান্তির দ্বীপ হয়ে টিকে থাকতে পারে না, কারণ যুদ্ধের আগুন বা ক্ষুধার হাহাকার কোনো কাঁটাতার মানে না।

তবে এত হতাশার মধ্যেও এই প্রবীণ সমাজ পুরোপুরি নিরাশ হতে চায় না। তারা পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার আগে একটি মৌলিক জাগরণ দেখে যেতে চায়। তাদের শেষ ইচ্ছা, বিশ্বনেতারা যেন অন্তত এইটুকু বুঝতে পারেন যে, একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পৃথিবী গড়ে তোলাই মানবজাতির টিকে থাকার একমাত্র উপায়। যদি কোনো পরার্থপরতা থেকে নয়, তবে অন্তত নিজেদের সন্তান ও আগামী প্রজন্মের প্রতি ভালোবাসার টানে হলেও নেতাদের উচিত বারুদহীন এক হিংসামুক্ত পৃথিবী নিশ্চিত করা।

প্রবীণদের মতে, বর্তমান বিশ্ব যদি যুদ্ধের এই চোরাবালি থেকে পথ পরিবর্তন করে, তবেই শক্তিশালী দেশের নেতাদের সন্তান এবং উন্নয়নশীল দেশের শিশুদের জন্য অভিশপ্ত ভবিষ্যৎ থেকে মুক্তি সম্ভব। বিশ্ববাসী যদি এই পরম সত্যে জেগে ওঠে, তবেই বিদায়ী প্রজন্মের বুকের দীর্ঘশ্বাস পরম শান্তিতে জুড়িয়ে যাবে এবং এটিই হবে বর্তমান প্রজন্মের কাছ থেকে তাদের পাওয়া জীবনের শ্রেষ্ঠতম উপহার।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

শান্তির সন্ধানে প্রবীণ প্রজন্ম: এক বৈশ্বিক হাহাকার ও প্রত্যাশা

আপডেট সময় : ০২:৪৪:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২১শে সেপ্টেম্বর, আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে আবারও শান্তির খোঁজ চলছে। তবে এই দিনটিতে ৮৫ বছর বয়সী প্রবীণ সমাজ কোনো মেকি উৎসবে শামিল না হয়ে বরং তাদের বুকের ভেতর জমে থাকা গভীর হতাশার কথা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে চায়। দীর্ঘ পঁচাশী বছরের বেশি সময় ধরে তারা মানব ইতিহাসের দ্রুততম রূপান্তর প্রত্যক্ষ করেছে—পরমাণু ভাঙা থেকে শুরু করে আকাশ জয় এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলা পর্যন্ত। কিন্তু এত প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের দিনেও বিশ্বশান্তি আজও তাদের কাছে এক মরীচিকা হয়েই রয়ে গেছে।

বিদায়ী প্রজন্মের এই প্রবীণরা আজ এক নির্মম সত্যের মুখোমুখি। তাদের মতে, এই গভীর বেদনা কেবল মানুষের অক্ষমতা নয়, বরং বৈশ্বিক প্রজ্ঞা ও বিবেচনাবোধের চরম অভাব থেকে তৈরি হয়েছে। বিশ্বের ক্ষমতাধর শাসকেরা আজ এক অদ্ভুত অন্ধত্বে ভুগছেন, যেখানে তাদের মূল মন্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে "আগে আমাদের শান্তি"। প্রবীণরা মনে করেন, আধুনিক যুগে কেবল নিজের দেয়ালটুকু বাঁচিয়ে শান্তিতে থাকার চিন্তা একটি আত্মঘাতী বিভ্রম। কোনো দেশই আজ বিচ্ছিন্ন কোনো শান্তির দ্বীপ হয়ে টিকে থাকতে পারে না, কারণ যুদ্ধের আগুন বা ক্ষুধার হাহাকার কোনো কাঁটাতার মানে না।

তবে এত হতাশার মধ্যেও এই প্রবীণ সমাজ পুরোপুরি নিরাশ হতে চায় না। তারা পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার আগে একটি মৌলিক জাগরণ দেখে যেতে চায়। তাদের শেষ ইচ্ছা, বিশ্বনেতারা যেন অন্তত এইটুকু বুঝতে পারেন যে, একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পৃথিবী গড়ে তোলাই মানবজাতির টিকে থাকার একমাত্র উপায়। যদি কোনো পরার্থপরতা থেকে নয়, তবে অন্তত নিজেদের সন্তান ও আগামী প্রজন্মের প্রতি ভালোবাসার টানে হলেও নেতাদের উচিত বারুদহীন এক হিংসামুক্ত পৃথিবী নিশ্চিত করা।

প্রবীণদের মতে, বর্তমান বিশ্ব যদি যুদ্ধের এই চোরাবালি থেকে পথ পরিবর্তন করে, তবেই শক্তিশালী দেশের নেতাদের সন্তান এবং উন্নয়নশীল দেশের শিশুদের জন্য অভিশপ্ত ভবিষ্যৎ থেকে মুক্তি সম্ভব। বিশ্ববাসী যদি এই পরম সত্যে জেগে ওঠে, তবেই বিদায়ী প্রজন্মের বুকের দীর্ঘশ্বাস পরম শান্তিতে জুড়িয়ে যাবে এবং এটিই হবে বর্তমান প্রজন্মের কাছ থেকে তাদের পাওয়া জীবনের শ্রেষ্ঠতম উপহার।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh