জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজন দূরদর্শী নেতৃত্ব ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় নীতি
- আপডেট সময় : ১০:৩৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

জনপরিসরে বর্তমানে জাতীয় সমস্যাগুলোর গভীর বিশ্লেষণ বা সমাধানের চেয়ে ক্ষোভ ও হতাশার আলোচনাই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং যানজটের মতো বিষয়গুলো জনজীবনের প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বাইরেও আরও অনেক বড় জাতীয় সমস্যা রয়েছে, যা অনেক সময় জনদৃষ্টির আড়ালে থেকে যায়। পরিবেশবাদীদের ‘ডার্টি ডজন’ তালিকার আদলে দেশ ও সমাজের দুর্ভোগ সৃষ্টিকারী সমস্যাগুলোর একটি ত্রৈমাসিক ফর্দ তৈরি করা হলে নাগরিকরা সমস্যার স্বরূপ বুঝতে পারতেন এবং সমাধানের দাবি আরও জোরালো হতো। এতে গণতান্ত্রিক সরকারের পক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াও রাজনৈতিকভাবে সহজতর হতো।
বর্তমান বাংলাদেশে এমন কিছু সংকট রয়েছে যা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার কালাহারি মরুভূমিতে উটপাখিদের চোখ বন্ধ করে ডিম লুকিয়ে রাখার মতো আচরণ করার অবকাশ নেই। অতীতে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার জুলুম ও গলাবাজির মাধ্যমে ব্যর্থতা আড়ালের চেষ্টা করলেও জুলাই ২০২৪-এর বিপ্লবের আগ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সামনে পূর্ববর্তী ব্যবস্থা ও দেশি-বিদেশি চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতে হরিলুটের বিষয়টি এবং আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষা না হওয়ার বিষয়গুলো জনসমক্ষে তুলে ধরা জরুরি। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই জানতে চায় হাসিনার সময় বিদ্যুৎ সংকট কেন ছিল না এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি আমদানির বিকল্প পরিকল্পনা কী। দীর্ঘ দুঃশাসন ও বিপ্লব পরবর্তী অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক নৈরাজ্যের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের আস্থার সংকট হওয়া অস্বাভাবিক নয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ে সমালোচনা ক্ষমতাকেন্দ্রের মানুষকে বিরক্ত করলেও আয় বৃদ্ধি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকলে এ নিয়ে হতাশা অনেক কম থাকত। যানজটে নগরবাসীর সময় নষ্ট ও ক্লান্তি নিরসনেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
এছাড়া ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে হাঁটার জন্য ব্যাপক বিনিয়োগ ও উদ্দীপনা প্রয়োজন হলেও কৃষি ও কলকারখানা চালু রাখা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক খাতের জালিয়াতির দায় সাধারণ আমানতকারী ও করদাতাদের ওপর পড়ছে। আর্থিক সংকটের কারণে জ্বালানি সমস্যার সমাধান ব্যাহত হচ্ছে, আর জ্বালানির অভাবে উৎপাদন ও রপ্তানি খাত সংকোচনের মুখে পড়েছে। এই দুষ্টু চক্র ভাঙার দায়ভার বর্তমান বিএনপি সরকারের ওপর। জনগণের ম্যান্ডেট ও ২০২৪-এর বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকারের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তরুণ প্রজন্মের বেকারত্ব ও উদ্যোগ গ্রহণে বাধার বিষয়গুলো আমলে নিয়ে দ্রুত কার্যকর রাষ্ট্রীয় নীতি, সুস্থ রাজনীতি ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে এসব সমস্যা উত্তরণই এখন সময়ের দাবি।





























