ঢাকা ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৭ প্রবাসীর মরদেহ আত্রাইয়ে পৌঁছেছে মক্কা জোটে নতুন দেশ যুক্ত হওয়ার পথ খোলা রয়েছে: পাকিস্তান পাহাড়ের ঢালে হামাগুড়ি দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন তাঁরা বাড়িতেই ১০-১২ হাজার বইয়ের সংগ্রহ গড়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান নেপালের অবকাঠামো ধ্বংস কেন বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে? হিমবাহধসের পর এবার ভূমিকম্পে কাঁপল তিব্বত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে সাউথ ব্লকের চাপ ও অস্বস্তি বেসামরিক প্রশাসনে সামরিকীকরণ ও মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক সিলেটে ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিন হত্যায় রেস্টুরেন্ট কর্মচারী জালালের স্বীকারোক্তি বেসিস নির্বাচন: ২৬ সেপ্টেম্বর ভোট, চূড়ান্ত তালিকা ৫ সেপ্টেম্বর

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কেন ইসরায়েল-আমিরাত জোটের জন্য বড় চমক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৫৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ আরব আমিরাত এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় চমক ছিল। গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিক্রিয়ায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান একটি মুসলিম জোট গঠনের কথা স্পষ্ট করেছিলেন, তবে পর্দার আড়ালে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি এমনভাবে অগ্রসর হচ্ছিলেন যেন ইরান যুদ্ধের উভয় পক্ষই তার পদক্ষেপে সমন্বয় খুঁজে পায়।

ওয়াশিংটনে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাতে বাধা দেন এবং সৌদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত জুড়ে দেন। এর আগে, সৌদি ও মার্কিন যুদ্ধবিমান দক্ষিণ ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একই সময়ে ইয়েমেনের সানাতেও সৌদি বিমান হামলা চালানো হয়, কারণ হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছিল।

এই অঞ্চলে মৌলিক পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। ইরান, গাজা ও লেবাননের সাম্প্রতিক যুদ্ধ সৌদি মানসিকতায় বড় পরিবর্তন এনেছে। পশ্চিমা দেশগুলো ইসরায়েলের গণহত্যায় সহায়তা করায় অনেক সৌদি বিশ্লেষক আর নিজেদের পশ্চিমা শিবিরের অংশ ভাবতে পারছেন না। মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা তাদের মধ্যে চরম অবজ্ঞার জন্ম দিয়েছে। সৌদি শুরা কাউন্সিলের সাবেক সদস্য ড. আহমেদ আলতুওয়াইজরি বলেন, ট্রাম্পের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলা এই অঞ্চলের দেশগুলো মক্কা চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চাইছে।

এই চুক্তির ফলে ট্রাম্পের দুর্বলতাও উন্মোচিত হয়েছে। ইরানি মধ্যস্থতাকারীরা মনে করছেন, ট্রাম্পের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ করলে তাকে আলোচনার টেবিলে আনা সহজ হবে। ড. আলতুওয়াইজরির মতে, মক্কা চুক্তি পাকিস্তানকে ভারতকে সামলাতে সাহায্য করবে এবং তুরস্ককেও ইসরায়েলের সরাসরি হুমকির মুখে সুরক্ষা দেবে। সৌদি আরব কেবল তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক শক্তি নয়, তাদের গোয়েন্দা ও যুদ্ধকৌশলগত পরিকল্পনা থেকেও লাভবান হবে।

ইসরায়েলি পরিকল্পনাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কেন্দ্র করে একটি সুন্নি মুসলিম জোট তৈরির চেষ্টা করছিলেন। ইরানে যৌথ আক্রমণের ফলে সেই গোপন জোট প্রকাশ্যে আসে। আবুধাবি যখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে কোণঠাসা ছিল, তখন ইসরায়েল সেখানে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করে। ইসরায়েলের স্বপ্ন ছিল ভারত থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি জোটের কেন্দ্রে থাকা, যেখানে সামরিক চাবিকাঠি থাকবে তেল আবিবের হাতে।

সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের মধ্যকার কৌশলগত বিরোধ এখন চরমে। ইয়েমেন ও সুদানে আমিরাতের ভূমিকা রিয়াদকে ক্ষুব্ধ করেছে। সৌদিরা মনে করে, আমিরাত ইচ্ছা করেই বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে এবং মিসরকে সৌদির বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছে। পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে পৌঁছালে রিয়াদ আবুধাবিতে ক্ষমতার পরিবর্তনের কথাও ভাবতে পারে।

মক্কা চুক্তি নিয়ে আমিরাতি বিশ্লেষক আবদুল খালেক আবদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এটি জিসিসি-কে দুর্বল করে দিচ্ছে। তবে সৌদি প্রিন্স আবদুলরহমান বিন মুসাইদ পাল্টা জবাবে বলেছেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব পছন্দমতো চুক্তি করার সার্বভৌম অধিকার রয়েছে। ড. আহমেদ আল-সানি মনে করেন, মক্কা চুক্তি তেতো সত্য সামনে এনেছে যে, রিয়াদ এখন কেবল অর্থায়ন নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণেও নেতৃত্ব দিতে চায়। মিসরকে এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করেছে সৌদি আরব, যদিও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান কায়রোকে এতে যুক্ত করার আশা প্রকাশ করেছিলেন।

সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা থিওডর সিঙ্গার মনে করেন, দীর্ঘ মেয়াদে মক্কা চুক্তি সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। ইসরায়েলের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকলেও আঞ্চলিক বৈধতার অভাব রয়েছে। গাজা ও লেবাননে ইসরায়েল তাদের সামরিক লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আরব বিশ্ব এখন সমাধানের জন্য মক্কা জোটের দিকেই তাকিয়ে আছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কেন ইসরায়েল-আমিরাত জোটের জন্য বড় চমক

আপডেট সময় : ০১:৫৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ আরব আমিরাত এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় চমক ছিল। গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিক্রিয়ায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান একটি মুসলিম জোট গঠনের কথা স্পষ্ট করেছিলেন, তবে পর্দার আড়ালে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি এমনভাবে অগ্রসর হচ্ছিলেন যেন ইরান যুদ্ধের উভয় পক্ষই তার পদক্ষেপে সমন্বয় খুঁজে পায়।

ওয়াশিংটনে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান একটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাতে বাধা দেন এবং সৌদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত জুড়ে দেন। এর আগে, সৌদি ও মার্কিন যুদ্ধবিমান দক্ষিণ ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একই সময়ে ইয়েমেনের সানাতেও সৌদি বিমান হামলা চালানো হয়, কারণ হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়েছিল।

এই অঞ্চলে মৌলিক পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। ইরান, গাজা ও লেবাননের সাম্প্রতিক যুদ্ধ সৌদি মানসিকতায় বড় পরিবর্তন এনেছে। পশ্চিমা দেশগুলো ইসরায়েলের গণহত্যায় সহায়তা করায় অনেক সৌদি বিশ্লেষক আর নিজেদের পশ্চিমা শিবিরের অংশ ভাবতে পারছেন না। মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা তাদের মধ্যে চরম অবজ্ঞার জন্ম দিয়েছে। সৌদি শুরা কাউন্সিলের সাবেক সদস্য ড. আহমেদ আলতুওয়াইজরি বলেন, ট্রাম্পের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলা এই অঞ্চলের দেশগুলো মক্কা চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে চাইছে।

এই চুক্তির ফলে ট্রাম্পের দুর্বলতাও উন্মোচিত হয়েছে। ইরানি মধ্যস্থতাকারীরা মনে করছেন, ট্রাম্পের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ করলে তাকে আলোচনার টেবিলে আনা সহজ হবে। ড. আলতুওয়াইজরির মতে, মক্কা চুক্তি পাকিস্তানকে ভারতকে সামলাতে সাহায্য করবে এবং তুরস্ককেও ইসরায়েলের সরাসরি হুমকির মুখে সুরক্ষা দেবে। সৌদি আরব কেবল তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক শক্তি নয়, তাদের গোয়েন্দা ও যুদ্ধকৌশলগত পরিকল্পনা থেকেও লাভবান হবে।

ইসরায়েলি পরিকল্পনাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কেন্দ্র করে একটি সুন্নি মুসলিম জোট তৈরির চেষ্টা করছিলেন। ইরানে যৌথ আক্রমণের ফলে সেই গোপন জোট প্রকাশ্যে আসে। আবুধাবি যখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে কোণঠাসা ছিল, তখন ইসরায়েল সেখানে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন করে। ইসরায়েলের স্বপ্ন ছিল ভারত থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি জোটের কেন্দ্রে থাকা, যেখানে সামরিক চাবিকাঠি থাকবে তেল আবিবের হাতে।

সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের মধ্যকার কৌশলগত বিরোধ এখন চরমে। ইয়েমেন ও সুদানে আমিরাতের ভূমিকা রিয়াদকে ক্ষুব্ধ করেছে। সৌদিরা মনে করে, আমিরাত ইচ্ছা করেই বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে এবং মিসরকে সৌদির বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছে। পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে পৌঁছালে রিয়াদ আবুধাবিতে ক্ষমতার পরিবর্তনের কথাও ভাবতে পারে।

মক্কা চুক্তি নিয়ে আমিরাতি বিশ্লেষক আবদুল খালেক আবদুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এটি জিসিসি-কে দুর্বল করে দিচ্ছে। তবে সৌদি প্রিন্স আবদুলরহমান বিন মুসাইদ পাল্টা জবাবে বলেছেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব পছন্দমতো চুক্তি করার সার্বভৌম অধিকার রয়েছে। ড. আহমেদ আল-সানি মনে করেন, মক্কা চুক্তি তেতো সত্য সামনে এনেছে যে, রিয়াদ এখন কেবল অর্থায়ন নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণেও নেতৃত্ব দিতে চায়। মিসরকে এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতা করেছে সৌদি আরব, যদিও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান কায়রোকে এতে যুক্ত করার আশা প্রকাশ করেছিলেন।

সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা থিওডর সিঙ্গার মনে করেন, দীর্ঘ মেয়াদে মক্কা চুক্তি সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। ইসরায়েলের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র থাকলেও আঞ্চলিক বৈধতার অভাব রয়েছে। গাজা ও লেবাননে ইসরায়েল তাদের সামরিক লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় আরব বিশ্ব এখন সমাধানের জন্য মক্কা জোটের দিকেই তাকিয়ে আছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo