ঢাকা ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কিংবদন্তি হলিউড অভিনেতা টিম কারি আর নেই, ৮০ বছর বয়সে প্রয়াণ ২০১৪-২০২৫: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ওপর সাত ধরনের নিপীড়নের তথ্য প্রকাশ টানা দ্বিতীয় জয়ে লা লিগার শীর্ষে বার্সেলোনা স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের সিংহাসন ফিরে পেলেন পোলার্ড নভেম্বরে তুরস্ক সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চৌগাছায় সার বাজারে প্রশাসনের মনিটরিং, ১০ হাজার টাকা জরিমানা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ, বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদ ও ওয়াকআউট কক্সবাজারে হোটেল বারে সংঘর্ষে ভাঙা গ্লাসের আঘাতে যুবক নিহত পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫৩ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার দেশের ৬৪ জেলায় আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন তদারকিতে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ

আমেরিকায় ‘ভালো মুসলিম’ হওয়ার শর্ত এখন ইসরাইলের প্রতি আনুগত্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৫:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষ বা ইসলামফোবিয়া অত্যন্ত প্রকট আকার ধারণ করেছে। মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরব ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং ঘৃণ্য অপরাধের অভিযোগ রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন রাজনীতি ও প্রশাসনের ওপর ইহুদি লবির ব্যাপক প্রভাব থাকায় মুসলিমদের যেকোনো ইসরাইলবিরোধী অবস্থানকে অত্যন্ত নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে।

আজকের আমেরিকায় একজন ‘ভালো’ মুসলিম হওয়ার অর্থই হলো ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব থাকা। ইসরাইলের সমালোচনা করলেই একজন মুসলিমকে অপবাদ, সন্দেহ ও সামাজিকভাবে একঘরে করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনসের মতে, দেশটিতে ইসলাম ও আরববিদ্বেষের কারণে বৈষম্য এবং হয়রানির অভিযোগ এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রচারণায় ভুল তথ্য ও ইসলামবিরোধী বক্তব্যের কারণে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুসলিমরা প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

২০০৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইনের অভিজ্ঞতা এই বিদ্বেষের একটি পুরোনো নজির। সে সময় তার প্রচারণায় অংশ নেওয়া এক নারী ওবামাকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছিলেন, তিনি ওবামাকে বিশ্বাস করতে পারেন না কারণ তিনি একজন ‘আরব’। ম্যাককেইন তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে ওবামাকে ভালো পারিবারিক মানুষ ও আমেরিকান নাগরিক হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। বর্তমানের নির্বাচনি প্রচারণায় সেই বিদ্বেষ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আব্দুল আল-সায়েদকে তার নামের কারণে ‘সমাজতন্ত্রী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ন্যান্সি মেস আল-সায়েদ ও জোহরান মামদানির মতো মুসলিম প্রার্থীদের ‘ট্রোজান হর্স’ বা ছদ্মবেশী শত্রু হিসেবে অভিহিত করে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন।

সিআইএর সাবেক পরিচালক মাইক পম্পেওর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও আল-সায়েদকে ‘হামাস সমর্থক’ হিসেবে চিহ্নিত করতে দ্বিধা করেননি। এই বিদ্বেষ থেকে বাঁচতে আমেরিকান মুসলিমদের ইসরাইলের প্রতি আনুগত্যের শর্ত মানতে হয়, যা আল-সায়েদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেনসের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা তৈরি করেনি। নিও-কনজারভেটিভ চিন্তাবিদ রবার্ট কাগান স্বীকার করেছেন যে, আমেরিকা সামগ্রিকভাবে ইসলামবিদ্বেষী এবং ইসরাইলকে ইসলামের বিরুদ্ধে ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে দেখা হয়। এমনকি ইসরাইলের সমালোচনা করলে ইহুদিদেরও ‘বাজে ইহুদি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যার নজির পাওয়া গেছে অ্যালান ডারশোভিটজের মন্তব্য এবং জার্মানি ও ব্রিটেনের বিভিন্ন গণমাধ্যমের পর্যবেক্ষণে। সব মিলিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে ‘ভালো’ মুসলিম বা ইহুদি হওয়ার সংজ্ঞা এখন ইসরাইলের প্রতি অবিচল আনুগত্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

আমেরিকায় ‘ভালো মুসলিম’ হওয়ার শর্ত এখন ইসরাইলের প্রতি আনুগত্য

আপডেট সময় : ০৮:২৫:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষ বা ইসলামফোবিয়া অত্যন্ত প্রকট আকার ধারণ করেছে। মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরব ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য এবং ঘৃণ্য অপরাধের অভিযোগ রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন রাজনীতি ও প্রশাসনের ওপর ইহুদি লবির ব্যাপক প্রভাব থাকায় মুসলিমদের যেকোনো ইসরাইলবিরোধী অবস্থানকে অত্যন্ত নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে।

আজকের আমেরিকায় একজন ‘ভালো’ মুসলিম হওয়ার অর্থই হলো ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব থাকা। ইসরাইলের সমালোচনা করলেই একজন মুসলিমকে অপবাদ, সন্দেহ ও সামাজিকভাবে একঘরে করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনসের মতে, দেশটিতে ইসলাম ও আরববিদ্বেষের কারণে বৈষম্য এবং হয়রানির অভিযোগ এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রচারণায় ভুল তথ্য ও ইসলামবিরোধী বক্তব্যের কারণে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুসলিমরা প্রতিনিয়ত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

২০০৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইনের অভিজ্ঞতা এই বিদ্বেষের একটি পুরোনো নজির। সে সময় তার প্রচারণায় অংশ নেওয়া এক নারী ওবামাকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছিলেন, তিনি ওবামাকে বিশ্বাস করতে পারেন না কারণ তিনি একজন ‘আরব’। ম্যাককেইন তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে ওবামাকে ভালো পারিবারিক মানুষ ও আমেরিকান নাগরিক হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। বর্তমানের নির্বাচনি প্রচারণায় সেই বিদ্বেষ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী আব্দুল আল-সায়েদকে তার নামের কারণে ‘সমাজতন্ত্রী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ন্যান্সি মেস আল-সায়েদ ও জোহরান মামদানির মতো মুসলিম প্রার্থীদের ‘ট্রোজান হর্স’ বা ছদ্মবেশী শত্রু হিসেবে অভিহিত করে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন।

সিআইএর সাবেক পরিচালক মাইক পম্পেওর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও আল-সায়েদকে ‘হামাস সমর্থক’ হিসেবে চিহ্নিত করতে দ্বিধা করেননি। এই বিদ্বেষ থেকে বাঁচতে আমেরিকান মুসলিমদের ইসরাইলের প্রতি আনুগত্যের শর্ত মানতে হয়, যা আল-সায়েদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যালি স্টিভেনসের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা তৈরি করেনি। নিও-কনজারভেটিভ চিন্তাবিদ রবার্ট কাগান স্বীকার করেছেন যে, আমেরিকা সামগ্রিকভাবে ইসলামবিদ্বেষী এবং ইসরাইলকে ইসলামের বিরুদ্ধে ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে দেখা হয়। এমনকি ইসরাইলের সমালোচনা করলে ইহুদিদেরও ‘বাজে ইহুদি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যার নজির পাওয়া গেছে অ্যালান ডারশোভিটজের মন্তব্য এবং জার্মানি ও ব্রিটেনের বিভিন্ন গণমাধ্যমের পর্যবেক্ষণে। সব মিলিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে ‘ভালো’ মুসলিম বা ইহুদি হওয়ার সংজ্ঞা এখন ইসরাইলের প্রতি অবিচল আনুগত্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh