ঢাকা ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৭ প্রবাসীর মরদেহ আত্রাইয়ে পৌঁছেছে মক্কা জোটে নতুন দেশ যুক্ত হওয়ার পথ খোলা রয়েছে: পাকিস্তান পাহাড়ের ঢালে হামাগুড়ি দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন তাঁরা বাড়িতেই ১০-১২ হাজার বইয়ের সংগ্রহ গড়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান নেপালের অবকাঠামো ধ্বংস কেন বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে? হিমবাহধসের পর এবার ভূমিকম্পে কাঁপল তিব্বত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে সাউথ ব্লকের চাপ ও অস্বস্তি বেসামরিক প্রশাসনে সামরিকীকরণ ও মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক সিলেটে ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিন হত্যায় রেস্টুরেন্ট কর্মচারী জালালের স্বীকারোক্তি বেসিস নির্বাচন: ২৬ সেপ্টেম্বর ভোট, চূড়ান্ত তালিকা ৫ সেপ্টেম্বর

হামাস কি আসলেই শেষ হয়ে গেছে? গাজার বর্তমান বাস্তবতার বিশ্লেষণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজকের গাজার ধ্বংসস্তূপ, হামাসের শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু, সামরিক শক্তির ক্ষয়ক্ষতি এবং সাধারণ মানুষের চরম ক্ষোভ ও ক্লান্তির দিকে তাকালে খুব সহজেই মনে হতে পারে যে সংগঠনটির অবসান ঘটেছে। তবে এই বাস্তবতা থেকে ‘হামাসের ইতি ঘটেছে’—এমন সিদ্ধান্তে আসা একটি বড় ভুল হবে। আংশিক সামরিক পরাজয় মানেই একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের বিলুপ্তি নয়, ঠিক যেমন শাসনক্ষমতা কমে যাওয়া মানেই প্রভাব সম্পূর্ণ মুছে যাওয়া নয়।

হামাস এই যুদ্ধ থেকে একটি ভিন্ন রূপ নিয়ে বের হয়েছে। তারা এখন সামরিকভাবে দুর্বল হলেও রাজনৈতিকভাবে আগের চেয়ে বেশি ওজনদার। তারা এখন শাসন করার ক্ষমতার চেয়ে টিকে থাকার সক্ষমতার ওপর বেশি নির্ভরশীল। ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক ইতিহাসে হামাসের বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি এবং তারা বিলুপ্তও হয়ে যায়নি। ৭ অক্টোবরের আগের তুলনায় হামাস আগের মতো শক্তিশালী না হলেও, গাজার ভবিষ্যৎ, বন্দী বিনিময়, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কিংবা যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তারা এখনও একটি বড় ফ্যাক্টর। যারা হামাসকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায়, তারাও তাদের অস্ত্র ও প্রভাবকে ঘিরে আলোচনা করতে বাধ্য হচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে হামাস এখনও সমীকরণের অংশ।

খোদ ইসরায়েলও হামাস শেষ হয়ে গেছে এমন আচরণ করছে না। যদি হামাস সত্যিই শেষ হয়ে যেত, তবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বা গাজা দখল করে রাখার অজুহাত ইসরায়েলের শেষ হয়ে যেত। কিন্তু ইসরায়েল এখনও হামাসের অস্ত্র সমর্পণ ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে। মূলত ‘হামাস আতঙ্ক’ বাঁচিয়ে রেখে ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অজুহাত তৈরি করছে এবং গাজার ভবিষ্যৎ বা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মতো কঠিন প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাচ্ছে।

গাজার মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ থাকা মানেই এই নয় যে তারা ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ বা বিকল্প মেনে নিয়েছে। নিজের নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্তের বিচার করা আর জাতীয় সংগ্রামের মূল ভিত্তি নস্যাৎ করে দেওয়া এক নয়। হামাস কেবল একটি সরকার নয়, বরং এটি একটি সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামরিক নেটওয়ার্ক। শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে এই সংগঠনকে শেষ করা সম্ভব নয়; তারা নতুন কৌশল ও নতুন নামে ফিরে আসতে পারে।

দখলদারি, অবরোধ, বসতি স্থাপন এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অভাব—যে কারণগুলো হামাসের জন্ম দিয়েছিল, সেগুলো এখনও বিদ্যমান। তাই হামাসের অবসান ঘোষণা করা বস্তুনিরপেক্ষ বিশ্লেষণের চেয়ে রাজনৈতিক ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ বেশি। এই যুদ্ধের পর হামাস কী রূপ ধারণ করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তারা কি শাসক দল হিসেবে থাকবে, নাকি কেবল রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে—তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, হামাস শেষ হয়ে যায়নি, বরং তারা এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

হামাস কি আসলেই শেষ হয়ে গেছে? গাজার বর্তমান বাস্তবতার বিশ্লেষণ

আপডেট সময় : ০৭:৩৭:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

আজকের গাজার ধ্বংসস্তূপ, হামাসের শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু, সামরিক শক্তির ক্ষয়ক্ষতি এবং সাধারণ মানুষের চরম ক্ষোভ ও ক্লান্তির দিকে তাকালে খুব সহজেই মনে হতে পারে যে সংগঠনটির অবসান ঘটেছে। তবে এই বাস্তবতা থেকে ‘হামাসের ইতি ঘটেছে’—এমন সিদ্ধান্তে আসা একটি বড় ভুল হবে। আংশিক সামরিক পরাজয় মানেই একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের বিলুপ্তি নয়, ঠিক যেমন শাসনক্ষমতা কমে যাওয়া মানেই প্রভাব সম্পূর্ণ মুছে যাওয়া নয়।

হামাস এই যুদ্ধ থেকে একটি ভিন্ন রূপ নিয়ে বের হয়েছে। তারা এখন সামরিকভাবে দুর্বল হলেও রাজনৈতিকভাবে আগের চেয়ে বেশি ওজনদার। তারা এখন শাসন করার ক্ষমতার চেয়ে টিকে থাকার সক্ষমতার ওপর বেশি নির্ভরশীল। ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক ইতিহাসে হামাসের বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি এবং তারা বিলুপ্তও হয়ে যায়নি। ৭ অক্টোবরের আগের তুলনায় হামাস আগের মতো শক্তিশালী না হলেও, গাজার ভবিষ্যৎ, বন্দী বিনিময়, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কিংবা যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তারা এখনও একটি বড় ফ্যাক্টর। যারা হামাসকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায়, তারাও তাদের অস্ত্র ও প্রভাবকে ঘিরে আলোচনা করতে বাধ্য হচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে হামাস এখনও সমীকরণের অংশ।

খোদ ইসরায়েলও হামাস শেষ হয়ে গেছে এমন আচরণ করছে না। যদি হামাস সত্যিই শেষ হয়ে যেত, তবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বা গাজা দখল করে রাখার অজুহাত ইসরায়েলের শেষ হয়ে যেত। কিন্তু ইসরায়েল এখনও হামাসের অস্ত্র সমর্পণ ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে। মূলত ‘হামাস আতঙ্ক’ বাঁচিয়ে রেখে ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অজুহাত তৈরি করছে এবং গাজার ভবিষ্যৎ বা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের মতো কঠিন প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাচ্ছে।

গাজার মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ থাকা মানেই এই নয় যে তারা ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ বা বিকল্প মেনে নিয়েছে। নিজের নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্তের বিচার করা আর জাতীয় সংগ্রামের মূল ভিত্তি নস্যাৎ করে দেওয়া এক নয়। হামাস কেবল একটি সরকার নয়, বরং এটি একটি সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামরিক নেটওয়ার্ক। শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে এই সংগঠনকে শেষ করা সম্ভব নয়; তারা নতুন কৌশল ও নতুন নামে ফিরে আসতে পারে।

দখলদারি, অবরোধ, বসতি স্থাপন এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অভাব—যে কারণগুলো হামাসের জন্ম দিয়েছিল, সেগুলো এখনও বিদ্যমান। তাই হামাসের অবসান ঘোষণা করা বস্তুনিরপেক্ষ বিশ্লেষণের চেয়ে রাজনৈতিক ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ বেশি। এই যুদ্ধের পর হামাস কী রূপ ধারণ করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তারা কি শাসক দল হিসেবে থাকবে, নাকি কেবল রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে—তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, হামাস শেষ হয়ে যায়নি, বরং তারা এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo