সদরপুরে পদ্মার ভয়াল ভাঙন, ঝুঁকিতে শতবর্ষী হাট-বসতভিটা
- আপডেট সময় : ০৯:৩৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

বর্ষা মৌসুম শেষ হয়ে গেলেও ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন থামছে না। নদীর ভয়াল স্রোতে প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। এছাড়াও নদীপাড়ে থাকা ২০০ বছরের পুরোনো পিঁয়াজখালী হাট, ঘাট, আশ্রয়ণ প্রকল্প, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বাজার ও লোকালয়ও বর্তমানে ভাঙনের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষা শেষে পদ্মায় এমন তীব্র স্রোত ও ভাঙন আগে কখনো দেখা যায়নি। তাদের দাবি, বাগড়া ঘাট থেকে দিয়ারা ও চরনাসিরপুর-ঝাউকান্দা পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার পদ্মা নদী শাসনের কাজ স্থগিত হয়ে আছে। এর ফলে নদীর মূল স্রোত সদরপুরের দিকে ঘুরে এসে ভাঙনের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন জানান, তিনি শুনেছেন উজানে নদী শাসনের কাজ বন্ধ রয়েছে এবং সেখানে বিশাল বালুরূপ জমে আছে, যার ফলে নদীর স্রোতের গতিপথ পরিবর্তন হতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী ঘাট, চেয়ারম্যান ঘাট ও মুন্সীরচর এবং পার্শ্ববর্তী চরনাছিরপুর ইউনিয়নের বাবুরালি মোল্যার কান্দি, শিমুলতলী, নাজির শিকদার কান্দি, মনিরুদ্দিন ফকির কান্দি, কাজী কান্দি ও শিকদারকান্দিসহ মাইলের পর মাইল নদীপাড় একযোগে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। নদীপাড়ের বাসিন্দারা তাদের বসতি নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিলেও রোপিত ফসলসহ জমিগুলো ভাঙনের কবলে পড়েছে। চরনাসিরপুরের কৃষক জয়নাল আক্ষেপ করে বলেন, আর কিছুদিন থাকলেই তিনি ধান ঘরে তুলতে পারতেন, কিন্তু এখন বাধ্য হয়ে আধাপাকা ধান গরুর খাদ্য হিসেবে কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।
ভাঙনের চরম ঝুঁকিতে থাকা স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে চরনাসিরপুর ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্প ভবন, ঢেউখালীর শতবর্ষী পিঁয়াজখালী হাট, জনসংঘ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, চরনাসিরপুর উচ্চবিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, ছোট-বড় বাজার ও লোকালয়। শয়তানখালী ঘাটের ইজারাদার মানিক ব্যাপারী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যে হারে নদী ভাঙছে, তাতে আগামী বছর পিঁয়াজখালী হাট বলে আর কিছু থাকবে না। জনসংঘ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আইয়ুব আলী বলেন, নদীর ভাঙন অত্যন্ত তীব্র এবং এর পরিধি প্রতিদিন বাড়ছে, যা তাদের চরম আতঙ্কে রেখেছে। তিনি কখনো ভাবেননি এত অল্প সময়ের মধ্যে নদী এতটা কাছাকাছি চলে আসবে।
চরনাসিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রোকন উদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ইতোমধ্যে তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। তিনি সতর্ক করেন যে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভবনটিও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে এবং দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে এই ইউনিয়নটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে। ঢেউখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বয়াতি তার জীবনে এত তীব্র ভাঙন দেখেননি উল্লেখ করে বলেন, চোখের সামনে মাত্র ২০ মিনিটে ৫০০ ফুট লম্বা ও ৩০ ফুট প্রস্থের এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ বা নদী শাসনের কাজ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন বলেন, সরকার এ এলাকার মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি গভীরভাবে অবগত রয়েছে। পদ্মা নদী শাসনের বিষয়টি প্রকল্প আকারে একনেকে (ECNEC) তোলা হয়েছে এবং তা বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে কাজ করছেন এবং খুব শীঘ্রই একটি স্থায়ী সমাধান পাওয়া যাবে।


























