ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাহিত্যে নোবেল জয়: অ্যান কারসনের সৃষ্টিশীলতায় মুগ্ধ বিশ্বজুড়ে লেখককুল রোববার ভারত সফরে যাচ্ছে তিন সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল শান্তিতে নোবেল পেলেন মানবাধিকার কর্মী নাভি পিল্লাই জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্যের ভূমিকা রাবিতে সাংবাদিকের ওপর হামলা: ৪ ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিল সিরাজগঞ্জে সেপ্টেম্বর মাসের শ্রেষ্ঠ সম্মাননা পেলেন ২ পুলিশ কর্মকর্তা ৩০ বছর পর কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী খোকন স্মার্ট ডাকসেবার প্রত্যয়ে বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডাক দিবস ইতালিতে বিতর্কিত নির্বাচনী সংস্কার পাস, বিরোধীদের ‘প্রতারণার’ অভিযোগ বাগেরহাটে শ্রেণিকক্ষ সংকট, বটগাছের নিচে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

শেখ হাসিনাকে অবতরণের অনুমতি না দিলে পরিস্থিতি অন্য রকম হতো: দীনেশ ত্রিবেদী

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:২১:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মন্তব্য করেছেন যে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া ভারতের কাছে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। তিনি বলেন, এই অনুমতি না দিলে সেখানে এক ভিন্ন ও অন্য রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং কার সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক বজায় রাখবে, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে এ দেশের জনগণ ও সরকারের নিজস্ব বিষয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এর আগে ১৯৯৬ এবং ২০০৯ সালে দুই দফায় দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা শেখ হাসিনা সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ার পর তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন, ১৯৮১ সাল থেকে তিনি এই পদে রয়েছেন।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড়। শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন গণ-আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্রসংসদের সহসভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রলীগ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। পরে ওই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সে সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। এরপর দীর্ঘ ছয় বছর ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে কাটানোর পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এর আগে ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে অবস্থানকালে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছিলেন। দেশে ফিরে ১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হন।

রাজনৈতিক জীবনে শেখ হাসিনাকে বহুবার কারাবরণ ও গৃহবন্দী হতে হয়েছে। ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সামরিক সরকার তাঁকে আটক করে ১৫ দিন অন্তরীণ রাখে। ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও নভেম্বর মাসে দুবার এবং ১৯৮৫ সালের ২ মার্চ প্রায় তিন মাসের জন্য তাঁকে গৃহবন্দী করা হয়। ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে ১৫ দিন, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর থেকে এক দেশ ও এক মাস এবং ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ও ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর তাঁকে গৃহবন্দী বা অন্তরীণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ১৬ জুলাই তিনি পুনরায় কারাবন্দী হন এবং ২০০৮ সালের ১১ জুন মুক্তি পান। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তাঁর দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এক ডজনেরও বেশি আর্জেস গ্রেনেড হামলায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানে অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো শেখ হাসিনাকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার দেয়। ২০০৯ সালে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট তাঁকে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারে ভূষিত করে। এ ছাড়া তিনি ব্রিটেনের গ্লোবাল ডাইভার্সিটি পুরস্কার, দুবার সাউথ সাউথ পুরস্কার, ২০১৪ সালে ইউনেস্কোর ‘শান্তির বৃক্ষ’, ২০১৫ সালে উইমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল ফোরামের রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার এবং গ্লোবাল সাউথ-সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ ভিশনারি পুরস্কার লাভ করেন। কৃষির উন্নয়ন ও খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতার জন্য ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মাননা দেয়। একই বছর পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নে অবদানের জন্য জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ এবং আইটিইউ ‘আইসিটিজ ইন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে।

শেখ হাসিনা বেশ কিছু বই লিখেছেন, যার মধ্যে ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘ওরা টোকাই কেন?’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’, ‘দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা’, ‘আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’, ‘সাদা কালো, সবুজ মাঠ পেরিয়ে’ এবং ‘Miles to Go, The Quest for Vision-2021’ অন্যতম। ব্যক্তিগত জীবনে বই পড়া, রান্না, প্রযুক্তি ও সংগীতের প্রতি তাঁর আগ্রহ রয়েছে। তাঁর স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ২০০৯ সালের ৯ মে মারা যান। তাঁদের সংসারে এক ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ (তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আইটি উপদেষ্টা) এবং এক মেয়ে সায়মা হোসেন ওয়াজেদ (মনোবিজ্ঞানী ও অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণকর্মী) রয়েছেন। শেখ হাসিনার নাতি-নাতনির সংখ্যা সাতজন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

শেখ হাসিনাকে অবতরণের অনুমতি না দিলে পরিস্থিতি অন্য রকম হতো: দীনেশ ত্রিবেদী

আপডেট সময় : ০৩:২১:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মন্তব্য করেছেন যে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া ভারতের কাছে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। তিনি বলেন, এই অনুমতি না দিলে সেখানে এক ভিন্ন ও অন্য রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র এবং কার সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক বজায় রাখবে, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে এ দেশের জনগণ ও সরকারের নিজস্ব বিষয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এর আগে ১৯৯৬ এবং ২০০৯ সালে দুই দফায় দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা শেখ হাসিনা সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ার পর তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন, ১৯৮১ সাল থেকে তিনি এই পদে রয়েছেন।

১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড়। শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন গণ-আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্রসংসদের সহসভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রলীগ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। পরে ওই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সে সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। এরপর দীর্ঘ ছয় বছর ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে কাটানোর পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন। এর আগে ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে অবস্থানকালে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু করেছিলেন। দেশে ফিরে ১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হন।

রাজনৈতিক জীবনে শেখ হাসিনাকে বহুবার কারাবরণ ও গৃহবন্দী হতে হয়েছে। ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সামরিক সরকার তাঁকে আটক করে ১৫ দিন অন্তরীণ রাখে। ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও নভেম্বর মাসে দুবার এবং ১৯৮৫ সালের ২ মার্চ প্রায় তিন মাসের জন্য তাঁকে গৃহবন্দী করা হয়। ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে ১৫ দিন, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর থেকে এক দেশ ও এক মাস এবং ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ও ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর তাঁকে গৃহবন্দী বা অন্তরীণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ১৬ জুলাই তিনি পুনরায় কারাবন্দী হন এবং ২০০৮ সালের ১১ জুন মুক্তি পান। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তাঁর দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এক ডজনেরও বেশি আর্জেস গ্রেনেড হামলায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানে অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো শেখ হাসিনাকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার দেয়। ২০০৯ সালে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট তাঁকে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারে ভূষিত করে। এ ছাড়া তিনি ব্রিটেনের গ্লোবাল ডাইভার্সিটি পুরস্কার, দুবার সাউথ সাউথ পুরস্কার, ২০১৪ সালে ইউনেস্কোর ‘শান্তির বৃক্ষ’, ২০১৫ সালে উইমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল ফোরামের রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার এবং গ্লোবাল সাউথ-সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ ভিশনারি পুরস্কার লাভ করেন। কৃষির উন্নয়ন ও খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতার জন্য ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মাননা দেয়। একই বছর পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নে অবদানের জন্য জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ এবং আইটিইউ ‘আইসিটিজ ইন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করে।

শেখ হাসিনা বেশ কিছু বই লিখেছেন, যার মধ্যে ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘ওরা টোকাই কেন?’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’, ‘দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা’, ‘আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’, ‘সাদা কালো, সবুজ মাঠ পেরিয়ে’ এবং ‘Miles to Go, The Quest for Vision-2021’ অন্যতম। ব্যক্তিগত জীবনে বই পড়া, রান্না, প্রযুক্তি ও সংগীতের প্রতি তাঁর আগ্রহ রয়েছে। তাঁর স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ২০০৯ সালের ৯ মে মারা যান। তাঁদের সংসারে এক ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ (তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আইটি উপদেষ্টা) এবং এক মেয়ে সায়মা হোসেন ওয়াজেদ (মনোবিজ্ঞানী ও অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণকর্মী) রয়েছেন। শেখ হাসিনার নাতি-নাতনির সংখ্যা সাতজন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo