৩০ বছর পর কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী খোকন
- আপডেট সময় : ০২:৫৩:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

উন্নত জীবনের আশায় প্রায় ৩০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন কাজী আজিজুল হক খোকন (৫৮)। দিন-রাত হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে উপার্জনের সিংহভাগই পাঠিয়েছেন দেশে থাকা পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে। কিন্তু যে গ্রিনকার্ডের স্বপ্ন নিয়ে জীবনের দীর্ঘ সময় পার করলেন, তা আর পূরণ হলো না তাঁর। অবশেষে তিন দশকেরও বেশি সময় পর তিনি দেশে ফিরছেন, তবে জীবিত নয়, কফিনবন্দি হয়ে।
গত ৩ অক্টোবর কর্মস্থলে যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন খোকন। বাসচালকের ফোন পেয়ে পুলিশ ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স তাঁকে নিউইয়র্কের জ্যামাইকা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর চার দিন পর, ৭ অক্টোবর তাঁর পরিবার ও পরিচিতরা এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হন।
কাজী আজিজুল হক খোকন নিউইয়র্কের কুইন্সের রিচমন্ড হিলে বসবাস করতেন। তিনি জ্যাকসন হাইটসের পরিচিত প্রতিষ্ঠান ‘অবকাশ বুক কর্নার’-এ কর্মরত ছিলেন। প্রবাসে দীর্ঘ সময় কাটালেও গ্রিনকার্ড অধরাই থেকে যায় তাঁর। বিয়েও করেননি। কঠোর পরিশ্রমের আয়ের সিংহভাগ মাগুরা জেলা সদরের বগিয়া ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামে থাকা মা-বাবা ও ভাই-বোনের জন্য পাঠিয়ে দেওয়ায় নিজের জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য সঞ্চয় গড়ে তুলতে পারেননি তিনি।
জীবিকার পাশাপাশি খোকন প্রবাসী রাজনীতিতেও বেশ সক্রিয় ছিলেন। বাংলাদেশে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের নিউইয়র্ক স্টেট শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সংগঠনটির যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। প্রায় ছয় বছর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের উপদেষ্টা আব্দুর রহিম বাদশা জানান, খোকনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ সোসাইটি। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাদ জুমা জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার্সিটি প্লাজায় খোকনের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ওই রাতেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি ফ্লাইটে তাঁর কফিন ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে।
খোকনের আকস্মিক এই মৃত্যুতে নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর গ্রিনকার্ড না পাওয়ার দীর্ঘ অনিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত ত্যাগের বিষয়টি প্রবাসীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর পেছনে অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো উদ্বেগের সরাসরি যোগসূত্র নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ৩০ বছর আগে একবুক স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখা মানুষটির শেষ বিদায়ের আয়োজন করতে হচ্ছে অন্যের সহযোগিতায়, যা প্রবাসীদের আবেগাপ্লুত করেছে।




























