ঢাকা ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
লঞ্চ ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের যুদ্ধ জিতলে লুটের মালে বিজয়ীরই অধিকার, জাতিসংঘে ঘোষণা ট্রাম্পের বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসনিক পদে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ জাতিসংঘের বিকল্প কেবলই কল্পনাতীত: ড. খলিলুর রহমান পুলিশের দাবি উন্নতি, বাস্তবে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা ও উৎকণ্ঠা পাকিস্তানে অনলাইনে যৌন নিপীড়নের ফাঁদে ১৫ লাখ শিশু গাজায় বিশ্ববাসীর নিষ্ক্রিয়তা লজ্জাজনক: জাতিসংঘে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাইবান্ধা সরকারি কলেজে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে স্থানীয়ভাবে প্রতিহত করার আহ্বান প্রিন্সের স্ত্রীর মৃত্যুর তদন্তে ঘুষ: অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার

জ্বালানির দাম বাড়ায় বেড়েছে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া, কমেছে রাইড শেয়ারিং আয়

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশের পরিবহন খাতে। রাজধানীর সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, দূরপাল্লার সব ধরনের বাসেই যাত্রীদের কাছ থেকে আগের চেয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। রুটের দূরত্ব ও বাসের ধরন অনুযায়ী এই বাড়তি ভাড়া কোথাও ৫০ টাকা, আবার কোথাও ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রী মুজাহিদ ইসলাম জানান, সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে কক্সবাজারগামী ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেসের এসি বাসের টিকিট তিনি ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনেছেন। কয়েক দিন আগেও এই ভাড়ার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা। কাউন্টারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসি বাসের ক্ষেত্রে সব কাউন্টারেই ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেসের সহকারী মো. সোহান জানান, সব যাত্রী সমান বাড়তি ভাড়া না দিলেও, যাত্রীর সংকটের সময় ছাড় দিয়েও টিকিট বিক্রি করতে হয়। একইভাবে সেন্ট মার্টিন লেক্সাস এক্সপ্রেসে কক্সবাজারের ভাড়া ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ভাড়া ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার টাকা করা হয়েছে।

ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে নন-এসি বাসেও অন্তত ৫০ টাকা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। টুংগীপাড়া এক্সপ্রেসের যাত্রী হোসনে আরা বেগম জানান, তিনি গোপালগঞ্জের দুটি টিকিটের জন্য ১ হাজার ১০০ টাকা দিয়েছেন, যা আগে ১ হাজার টাকা ছিল। এছাড়া ফাল্গুনী এক্সপ্রেসে ঢাকা-খুলনা এসি বাসের ভাড়া ৯০০ থেকে বেড়ে ১ হাজার টাকা এবং হানিফ পরিবহনে নন-এসি বাসের ভাড়া ৬৯০ থেকে বেড়ে ৭৪০ টাকা হয়েছে। ফুলবাড়িয়া থেকে ফরিদপুর, মেহেরপুর, নড়াইল, বাগেরহাট, যশোর, বরিশাল ও পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জেলার রুটেও বাসের ভাড়া ৫০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

বাস ভাড়ার পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং চালকদের আয়েও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মোটরসাইকেল চালক সাব্বির হোসেন জানান, তেলের দাম বাড়লেও যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে রাজি নন। শাহবাগে যাত্রী অপেক্ষায় থাকা সাব্বির বলেন, দিনে ৪০০ টাকা আয় করলেও তার তেল খরচই চলে যাচ্ছে ৩০০ টাকা। রাইড শেয়ারিংয়ের বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সব খরচ বাদে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা আয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গোলাপবাগ বাসস্ট্যান্ডের আরেক চালক মো. মাসুম জানান, তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়লেও যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানান। অনেক যাত্রী যুক্তি দেখান যে তাদের বেতন বাড়েনি, তাই তারা বাড়তি ভাড়া দেবেন না।

এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ডিজেলচালিত সাধারণ বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, এই বাড়তি ভাড়া কেবল ডিজেলচালিত সাধারণ বাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে সরকার এসি বাস কিংবা পণ্যবাহী যানবাহনের ভাড়া নির্ধারণ করে না বলে এগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি এই ভাড়ার হার কার্যকর হবে না।

তিনিও জানান, যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে চান না।কথা বলতে বলতে মাসুম গোলাপবাগ থেকে ওয়ারী পর্যন্ত একটি রাইড নেন ১৫০ টাকায়।

তিনি জানান, আগেও এই পথে তিনি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় যেতেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

জ্বালানির দাম বাড়ায় বেড়েছে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া, কমেছে রাইড শেয়ারিং আয়

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশের পরিবহন খাতে। রাজধানীর সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, দূরপাল্লার সব ধরনের বাসেই যাত্রীদের কাছ থেকে আগের চেয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। রুটের দূরত্ব ও বাসের ধরন অনুযায়ী এই বাড়তি ভাড়া কোথাও ৫০ টাকা, আবার কোথাও ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রী মুজাহিদ ইসলাম জানান, সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে কক্সবাজারগামী ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেসের এসি বাসের টিকিট তিনি ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনেছেন। কয়েক দিন আগেও এই ভাড়ার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা। কাউন্টারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসি বাসের ক্ষেত্রে সব কাউন্টারেই ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়া হচ্ছে। ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেসের সহকারী মো. সোহান জানান, সব যাত্রী সমান বাড়তি ভাড়া না দিলেও, যাত্রীর সংকটের সময় ছাড় দিয়েও টিকিট বিক্রি করতে হয়। একইভাবে সেন্ট মার্টিন লেক্সাস এক্সপ্রেসে কক্সবাজারের ভাড়া ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ভাড়া ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার টাকা করা হয়েছে।

ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে নন-এসি বাসেও অন্তত ৫০ টাকা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। টুংগীপাড়া এক্সপ্রেসের যাত্রী হোসনে আরা বেগম জানান, তিনি গোপালগঞ্জের দুটি টিকিটের জন্য ১ হাজার ১০০ টাকা দিয়েছেন, যা আগে ১ হাজার টাকা ছিল। এছাড়া ফাল্গুনী এক্সপ্রেসে ঢাকা-খুলনা এসি বাসের ভাড়া ৯০০ থেকে বেড়ে ১ হাজার টাকা এবং হানিফ পরিবহনে নন-এসি বাসের ভাড়া ৬৯০ থেকে বেড়ে ৭৪০ টাকা হয়েছে। ফুলবাড়িয়া থেকে ফরিদপুর, মেহেরপুর, নড়াইল, বাগেরহাট, যশোর, বরিশাল ও পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জেলার রুটেও বাসের ভাড়া ৫০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

বাস ভাড়ার পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং চালকদের আয়েও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মোটরসাইকেল চালক সাব্বির হোসেন জানান, তেলের দাম বাড়লেও যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে রাজি নন। শাহবাগে যাত্রী অপেক্ষায় থাকা সাব্বির বলেন, দিনে ৪০০ টাকা আয় করলেও তার তেল খরচই চলে যাচ্ছে ৩০০ টাকা। রাইড শেয়ারিংয়ের বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সব খরচ বাদে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা আয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গোলাপবাগ বাসস্ট্যান্ডের আরেক চালক মো. মাসুম জানান, তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়লেও যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানান। অনেক যাত্রী যুক্তি দেখান যে তাদের বেতন বাড়েনি, তাই তারা বাড়তি ভাড়া দেবেন না।

এদিকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ডিজেলচালিত সাধারণ বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, এই বাড়তি ভাড়া কেবল ডিজেলচালিত সাধারণ বাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে সরকার এসি বাস কিংবা পণ্যবাহী যানবাহনের ভাড়া নির্ধারণ করে না বলে এগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি এই ভাড়ার হার কার্যকর হবে না।

তিনিও জানান, যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে চান না।কথা বলতে বলতে মাসুম গোলাপবাগ থেকে ওয়ারী পর্যন্ত একটি রাইড নেন ১৫০ টাকায়।

তিনি জানান, আগেও এই পথে তিনি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় যেতেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo