ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানবজমিন-এ রিপোর্টার পদে লিখিত পরীক্ষা ২৯ সেপ্টেম্বর বরিশালে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ ভাঙ্গায় ১২০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপসহ মা-মেয়েসহ তিনজন আটক জুড়ী সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ৩৮ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ নতুন তিন আইনে বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা সংকুচিত হয়েছে: এইচআরডব্লিউ ৮৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে মার্কিন অভিনেতা জেমস স্লোয়ান নবীনগরে নতুন এসিল্যান্ড হিসেবে যোগ দিলেন শারমিন সুলতানা জাতিসংঘে প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর ১০ কর্মসূচি ও কূটনৈতিক তৎপরতা টাঙ্গাইলে রডের বদলে বাঁশ: সাব-ঠিকাদার গ্রেপ্তার, তদন্ত কমিটি গঠন কিশোরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ আওয়ামী লীগ নেতা

বাবার ২৮ বছরের পুরোনো ঋণ শোধ করতে পাওনাদারের খোঁজে সন্তান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পিরোজপুরের বাসিন্দা আবদুল খালেক শিকদার ১৯৯৮ সালে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী রণজিত ঘোষের কাছ থেকে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। নানা প্রতিকূলতার কারণে সেই ঋণ পরিশোধ করার আগেই ২০১১ সালে খালেক শিকদার মারা যান। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বাবার সেই অসমাপ্ত দায় মেটাতে পাওনাদারের সন্ধানে নেমেছেন খালেক শিকদারের জ্যেষ্ঠ সন্তান কাঞ্চন শিকদার।

কাঞ্চন শিকদার জানান, মৃত্যুর আগে বাবা তাকে ঋণের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে সে সময় পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পিরোজপুর সদরে গরু পালন ও মাছের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ৪৫ বছর বয়সী কাঞ্চন এখন সেই দায়মুক্ত হতে চান। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ‘বঙ্গভিটা’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্টের মাধ্যমে তিনি পাওনাদারের খোঁজ শুরু করেন।

স্মৃতি হাতড়ে কাঞ্চন শিকদার জানান, নব্বইয়ের দশকে তার বাবা পিরোজপুর থেকে কাঁচা-পাকা ফল এনে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটের ‘প্রদীপ ভান্ডার’ নামের প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করতেন। সেখানকার আড়তদার ছিলেন রণজিত ঘোষ। সে সময় কাঞ্চন নিজেও পিরোজপুর থেকে লঞ্চে মালামাল নিয়ে ঢাকায় আসতেন এবং শাঁখারীবাজারে রণজিত ঘোষের বাসায় যেতেন।

কাঞ্চনের কাছে সেই সময়ের একটি রসিদ রয়েছে, যেখানে ঠিকানা লেখা আছে ‘আহসান উল্লাহ রোড, আল ফেসানী মার্কেট, লোতনাল, ওয়াইজঘাট, ঢাকা-১১০০’। এই ঠিকানার সূত্র ধরে মাস তিনেক আগে তিনি ঢাকায় এলেও পাওনাদারের দেখা পাননি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে রণজিত ঘোষ তার ব্যবসা গুটিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে তাদের অবস্থান সম্পর্কে কারোরই জানা নেই।

কাঞ্চন শিকদার আক্ষেপ করে বলেন, ‘৯৮ সালে যে বাসাবাড়ি দেখেছি, বর্তমানের সঙ্গে তো আর কোনো মিল নেই। সেই সময় বাসার এক পাশে মসজিদ ও এক পাশে মন্দির ছিল, যা এখনো আছে কিন্তু সেই বাসা নেই, সেখানে এখন বড় বড় ভবন।’ বাবার সেই দায় শোধ করার বিষয়ে কাঞ্চন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘একসময় আমরা অভাবগ্রস্ত ছিলাম। দেনা শোধ করতে পারি নাই। অহন আল্লায় সুযোগ দিছে। বাবার দায়ডা শোধ করবার চাই।’

তবে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ব্যবসা করেও টাকা শোধ করতে পারেননি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

বাবার ২৮ বছরের পুরোনো ঋণ শোধ করতে পাওনাদারের খোঁজে সন্তান

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিরোজপুরের বাসিন্দা আবদুল খালেক শিকদার ১৯৯৮ সালে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী রণজিত ঘোষের কাছ থেকে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। নানা প্রতিকূলতার কারণে সেই ঋণ পরিশোধ করার আগেই ২০১১ সালে খালেক শিকদার মারা যান। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বাবার সেই অসমাপ্ত দায় মেটাতে পাওনাদারের সন্ধানে নেমেছেন খালেক শিকদারের জ্যেষ্ঠ সন্তান কাঞ্চন শিকদার।

কাঞ্চন শিকদার জানান, মৃত্যুর আগে বাবা তাকে ঋণের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে সে সময় পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পিরোজপুর সদরে গরু পালন ও মাছের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ৪৫ বছর বয়সী কাঞ্চন এখন সেই দায়মুক্ত হতে চান। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ‘বঙ্গভিটা’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্টের মাধ্যমে তিনি পাওনাদারের খোঁজ শুরু করেন।

স্মৃতি হাতড়ে কাঞ্চন শিকদার জানান, নব্বইয়ের দশকে তার বাবা পিরোজপুর থেকে কাঁচা-পাকা ফল এনে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটের ‘প্রদীপ ভান্ডার’ নামের প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করতেন। সেখানকার আড়তদার ছিলেন রণজিত ঘোষ। সে সময় কাঞ্চন নিজেও পিরোজপুর থেকে লঞ্চে মালামাল নিয়ে ঢাকায় আসতেন এবং শাঁখারীবাজারে রণজিত ঘোষের বাসায় যেতেন।

কাঞ্চনের কাছে সেই সময়ের একটি রসিদ রয়েছে, যেখানে ঠিকানা লেখা আছে ‘আহসান উল্লাহ রোড, আল ফেসানী মার্কেট, লোতনাল, ওয়াইজঘাট, ঢাকা-১১০০’। এই ঠিকানার সূত্র ধরে মাস তিনেক আগে তিনি ঢাকায় এলেও পাওনাদারের দেখা পাননি। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে রণজিত ঘোষ তার ব্যবসা গুটিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে তাদের অবস্থান সম্পর্কে কারোরই জানা নেই।

কাঞ্চন শিকদার আক্ষেপ করে বলেন, ‘৯৮ সালে যে বাসাবাড়ি দেখেছি, বর্তমানের সঙ্গে তো আর কোনো মিল নেই। সেই সময় বাসার এক পাশে মসজিদ ও এক পাশে মন্দির ছিল, যা এখনো আছে কিন্তু সেই বাসা নেই, সেখানে এখন বড় বড় ভবন।’ বাবার সেই দায় শোধ করার বিষয়ে কাঞ্চন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, ‘একসময় আমরা অভাবগ্রস্ত ছিলাম। দেনা শোধ করতে পারি নাই। অহন আল্লায় সুযোগ দিছে। বাবার দায়ডা শোধ করবার চাই।’

তবে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ব্যবসা করেও টাকা শোধ করতে পারেননি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo