ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সার্বিয়ার ভিসা দেওয়ার নামে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র সামাজিক নিরাপত্তায় ধনীরা বেশি সুবিধা পান, গরিবেরা বঞ্চিত: বিশ্বব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংকে আটকে আছে বরিশাল জেলা পরিষদের পৌনে ১১ কোটি টাকা মালয়েশিয়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শেরপুরের এক প্রবাসী নিহত ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে শিগগিরই আসছে নীতিমালা পুলিশের চোখ এড়িয়ে আকাশবাণী ভবনে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, দিল্লিতে তুমুল বিক্ষোভ জাজিরায় খেলনা ভেবে ককটেল তুলতে গিয়ে বিস্ফোরণ, কিশোর আহত আজমিরীগঞ্জে শয্যাশায়ী বাবাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে আটক পাকিস্তানের ডেরা ইসমাইল খানে সশস্ত্র হামলায় নিহত ৫ ক্যাম্পাসে না ফেরায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষকের পদ শূন্য ঘোষণা

উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন শেষ করবে ইসি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:২১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় আসন্ন উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির চেয়েও আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু উপনির্বাচন সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

ইসি সানাউল্লাহ জানান, উপনির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে আগামী বছরের ৬ জুনের আগেই সব নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ইউপি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে কমিশনের পরবর্তী বৈঠকে এই তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার উল্লেখ করেন, বর্তমানে কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ পরিচালনা করছে। আইন অনুযায়ী অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় হলে সেগুলোও যথাসময়ে আয়োজন করা হবে। তবে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার কারণে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

এই পরিস্থিতির কারণে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে নির্বাচনী কার্যক্রমের জন্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। নির্বাচনে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তুলে ধরে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বে নামার আগে একজন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য প্রস্তুতির জন্য কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় দিতে হয়। এর পাশাপাশি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন এবং প্রাক-প্রস্তুতির বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। কমিশন এই দাবিগুলোকে যৌক্তিক মনে করে এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে এর সমাধানের চেষ্টা করছে।

নির্বাচনের উপযুক্ত সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সময়সূচির বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়ে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা চলবে। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এবং ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত যে সময়টুকু পাওয়া যাবে, মূলত সেই সীমিত সময়ের মধ্যেই সব নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে কমিশন।

ইউপি নির্বাচনের পূর্ববর্তী প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে কমিশন সরে এসেছে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ তা নাকচ করে দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগে যে সময়সূচির কথা বলা হয়েছিল তা ছিল প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভার ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি সাময়িক বা টেন্টেটিভ পরিকল্পনা। ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভার পর পাওয়া সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তাই কমিশন আগের অবস্থান থেকে সরে যায়নি। সব তথ্য ও উপাত্ত পর্যালোচনার পর কমিশনের নিজস্ব বৈঠকেই চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। এর আগে প্রাথমিকভাবে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের একটি খসড়া পরিকল্পনা করা হলেও তখনই জানানো হয়েছিল যে এটি চূড়ান্ত নয় এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর তা পুনর্বিবেচনা করা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, জুনের আগেই ইউপি নির্বাচন শেষ করবে ইসি

আপডেট সময় : ০৬:২১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় আসন্ন উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির চেয়েও আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু উপনির্বাচন সম্পন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

ইসি সানাউল্লাহ জানান, উপনির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে আগামী বছরের ৬ জুনের আগেই সব নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ইউপি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে কমিশনের পরবর্তী বৈঠকে এই তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার উল্লেখ করেন, বর্তমানে কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ পরিচালনা করছে। আইন অনুযায়ী অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় হলে সেগুলোও যথাসময়ে আয়োজন করা হবে। তবে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার কারণে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

এই পরিস্থিতির কারণে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে নির্বাচনী কার্যক্রমের জন্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়। নির্বাচনে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি তুলে ধরে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বে নামার আগে একজন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য প্রস্তুতির জন্য কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় দিতে হয়। এর পাশাপাশি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন এবং প্রাক-প্রস্তুতির বিষয়গুলোও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। কমিশন এই দাবিগুলোকে যৌক্তিক মনে করে এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে এর সমাধানের চেষ্টা করছে।

নির্বাচনের উপযুক্ত সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সময়সূচির বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়ে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা চলবে। জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এবং ৬ জুন থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত যে সময়টুকু পাওয়া যাবে, মূলত সেই সীমিত সময়ের মধ্যেই সব নির্বাচন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে কমিশন।

ইউপি নির্বাচনের পূর্ববর্তী প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে কমিশন সরে এসেছে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ তা নাকচ করে দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আগে যে সময়সূচির কথা বলা হয়েছিল তা ছিল প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভার ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি সাময়িক বা টেন্টেটিভ পরিকল্পনা। ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভার পর পাওয়া সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তাই কমিশন আগের অবস্থান থেকে সরে যায়নি। সব তথ্য ও উপাত্ত পর্যালোচনার পর কমিশনের নিজস্ব বৈঠকেই চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। এর আগে প্রাথমিকভাবে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের একটি খসড়া পরিকল্পনা করা হলেও তখনই জানানো হয়েছিল যে এটি চূড়ান্ত নয় এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর তা পুনর্বিবেচনা করা হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin