শয্যাশায়ী স্ত্রীকে কোলে নিয়ে কাঁদা সাজু শেখের পাশে প্রশাসন
- আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া চরপাড়া গ্রামে দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করছেন সাজু শেখ (৮৮) ও নূরজাহান বেগম (৮২) দম্পতি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই দম্পতির কষ্টের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন ও একটি সামাজিক সংগঠন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় এক ব্যক্তির মুঠোফোনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঘরের দরজার সামনে অসুস্থ স্ত্রী নূরজাহান বেগমকে পাঁজাকোলা করে দাঁড়িয়ে আছেন সাজু শেখ। তাঁর চোখ দিয়ে জল পড়ছে এবং কাঁপাকাঁপা কণ্ঠে আল্লাহর কাছে খাবার প্রার্থনা করছেন। এই হৃদয়স্পর্শী ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তা শেরপুর জেলা প্রশাসনের নজরে আসে。
এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক ওই বৃদ্ধ দম্পতির বাড়িতে যান। তাঁরা এই অসহায় দম্পতির খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের হাতে খাদ্যসামগ্রী, নতুন পোশাক, কম্বল ও নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন। এছাড়া তাঁদের জন্য প্রতি মাসে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে পা পিছলে পড়ে কোমরের হাড় ভেঙে যায় নূরজাহানের। অর্থের অভাবে তাঁর চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। সেই থেকে তিনি বিছানায় পড়ে আছেন। কানেও কম শোনেন তিনি। স্ত্রীকে দেখাশোনা করতে গিয়ে সাজু শেখ নিজেও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। প্রতিদিন সকালে তিনি স্ত্রীকে কোলে করে ঘরের বাইরে উঠানে নিয়ে আসেন এবং পাশে বসে তাঁর ইশারা বোঝার চেষ্টা করেন। সাজু শেখ আগে ব্যবসা করলেও এখন বয়সের কারণে কোনো কাজ করতে পারেন না। কাজের খোঁজে বাজারে গেলেও দুর্বল শরীরের কারণে কেউ তাঁকে কাজে নিতে চায় না।
এই দম্পতির তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। মেয়েদের অনেক আগেই বিয়ে হয়ে গেছে এবং তাঁরা মাঝে মাঝে মা-বাবার খোঁজ নেন। তিন ছেলের মধ্যে একজন করোনা মহামারির সময় নিখোঁজ হন। আরেক ছেলে ঢাকায় রিকশা চালান, যিনি বছরে এক-দুবার বাড়ি আসেন। আর শেরপুরে থাকা ছোট ছেলে নূর ইসলাম দিনমজুরি ও ঠেলাগাড়ি চালান। কয়েক বছর আগে তাঁর স্ত্রীও ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। তিন কন্যাসন্তান নিয়ে নিজের সংসার চালাতেই নূর ইসলামকে হিমশিম খেতে হয়, ফলে বৃদ্ধ মা-বাবার দেখভাল করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয় না।
জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি এই দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘রক্তসৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আল আমিন জানান, তাঁরা ওই পরিবারের দেড় মাসের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করেছেন।
শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ৯ সেপ্টেম্বরই ওই পরিবারকে জরুরি খাদ্যসামগ্রী, কাপড় ও অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, এই দম্পতি আগে থেকেই বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন। বিষয়টি জানার পরপরই ইউএনওকে পাঠানো হয়েছিল এবং সোমবার তিনি নিজে গিয়ে তাঁদের খোঁজ নিয়েছেন। জেলা প্রশাসক আরও জানান, দম্পতির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে জেলা প্রশাসন।





























