ঢাকা ০৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চরফ্যাশনে ৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে সড়ক সবুজ করলেন ইমাম রেজাউল অনাপত্তি সনদ বাতিল: ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ সিরাজগঞ্জে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৪০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল ফাউন্ডেশন আফগানিস্তানের আটটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি পাকিস্তানের বাংলাদেশ পুলিশের ১৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদায়ন গুলশান ও বনানী থানায় নতুন ওসি নিয়োগ কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে পটুয়াখালীতে সেরা দশমিনার আরিফ ট্রাম্পের হুমকিকে কৌশলগত হতাশা বলে আরও তীব্র হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের সরকারি সব কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে, বাদ পড়ছেন আওয়ামীপন্থীরা সরকারি কলেজের ক্লাস রুটিন চেয়ে মাউশির জরুরি নির্দেশনা জারি

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: পদদলিত হয়ে মৃত্যুর তথ্য নাকচ প্রশাসনের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:১৯:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও তাঁদের কেউ পদদলিত হয়ে মারা যাননি বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তাঁদের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে পরিবার নিশ্চিত করেছে এবং অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার এই ঘটনার পর পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর যে তথ্য ছড়িয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির।

সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির এবং ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। বিভাগীয় কমিশনার জানান, ফায়ার সার্ভিস, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্স ও অন্য কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এবং রেজিস্টার যাচাই করে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো প্রমাণ মেলেনি। কথিত পাঁচজনের মৃত্যুর তালিকার মধ্যে একজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি চারজনের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন। অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ চিকিৎসকেরা এখনো স্পষ্টভাবে জানাতে পারেননি, যা তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। হাসপাতালে স্বাভাবিক নিয়মে রোগী মারা যেতে পারেন, তবে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর তথ্যটি অসত্য। তবে হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাঁদের কারও হাত-পা কেটে যাওয়া বা মাথায় আঘাত লাগার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

নিরাপত্তার কারণে হাসপাতালের দুটি সিঁড়ির একটি বন্ধ থাকার কারণে রোগী ও স্বজনেরা নামতে গিয়ে হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়েন—এমন অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বিষয়টি তাঁরা জেনেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালের কিছু সিঁড়ি বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হাসপাতালের কোনো অনিয়ম থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, মৃত ব্যক্তিদের তালিকায় এমন একজনের নাম রয়েছে, যিনি এখনো জীবিত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জাহানারা নামের যে রোগীর নাম মৃতের তালিকায় দেওয়া হয়েছে, তিনি জীবিত আছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি সাংবাদিকদের ওই রোগীকে দেখে তালিকার সঙ্গে বাস্তবতা মিলিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে হাসপাতালে আগুন লাগার পর আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ির সময় সিঁড়িতে পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁদের স্বজনেরা। তাঁরা হলেন তারাকান্দার বালিখা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী কুলসুম আক্তার (৩৫) এবং ফুলপুরের রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামের শাহাজাহান মনির (৪৫)।

তারাকান্দার কুলসুম আক্তারের ননদ নাজমা আক্তার জানান, কুলসুম ১২ দিন ধরে তাঁর জন্ডিসে আক্রান্ত ১২ বছর বয়সী ছেলে স্বাধীনকে নিয়ে হাসপাতালের ৩১ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে ছিলেন। কুলসুমের সঙ্গে তাঁর ১৮ বছর বয়সী মেয়ে মিমও ছিলেন। আগুন লাগার পর হুড়োহুড়ি শুরু হলে কুলসুম তাঁর ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। মিম আগে বের হয়ে যান। পরে তিনি ফিরে এসে দেখেন, লোকজন স্বাধীনকে টেনে বের করছেন; কিন্তু মাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে কুলসুমকে উদ্ধার করে অক্সিজেন দেওয়া হলেও তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে তাঁদের অভিযোগ রয়েছে এবং হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তাঁরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

অন্যদিকে শাহাজাহান মনির প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন ধরে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তাঁর ছেলে পলাশ মোল্লা জানান, আগুন লাগার সময় তাঁর বাবা, মা হারিসা আক্তার ও খালা জাহানারা আক্তার একসঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন। এ সময় পেছন থেকে লোকজনের ধাক্কায় তাঁরা পড়ে যান। পরে তাঁর মা ও খালাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পলাশ তখন হাসপাতালে ছিলেন না, পরে এসে মায়ের কাছে যান এবং স্বজনেরা তাঁর বাবার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ১০টি ইউনিট একসঙ্গে ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের একটি লিফটের কন্ট্রোল রুমের কন্ট্রোলার মেশিনের সঙ্গে থাকা বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ময়মনসিংহ মেডিকেলে আগুন: পদদলিত হয়ে মৃত্যুর তথ্য নাকচ প্রশাসনের

আপডেট সময় : ০২:১৯:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও তাঁদের কেউ পদদলিত হয়ে মারা যাননি বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তাঁদের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে পরিবার নিশ্চিত করেছে এবং অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার এই ঘটনার পর পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর যে তথ্য ছড়িয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির।

সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির এবং ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সহসভাপতি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। বিভাগীয় কমিশনার জানান, ফায়ার সার্ভিস, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক, নার্স ও অন্য কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এবং রেজিস্টার যাচাই করে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর কোনো প্রমাণ মেলেনি। কথিত পাঁচজনের মৃত্যুর তালিকার মধ্যে একজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাকি চারজনের মধ্যে দুজন স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন বলে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন। অপর দুজনের মৃত্যুর কারণ চিকিৎসকেরা এখনো স্পষ্টভাবে জানাতে পারেননি, যা তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। হাসপাতালে স্বাভাবিক নিয়মে রোগী মারা যেতে পারেন, তবে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর তথ্যটি অসত্য। তবে হুড়োহুড়িতে কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাঁদের কারও হাত-পা কেটে যাওয়া বা মাথায় আঘাত লাগার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

নিরাপত্তার কারণে হাসপাতালের দুটি সিঁড়ির একটি বন্ধ থাকার কারণে রোগী ও স্বজনেরা নামতে গিয়ে হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়েন—এমন অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বিষয়টি তাঁরা জেনেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালের কিছু সিঁড়ি বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হাসপাতালের কোনো অনিয়ম থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, মৃত ব্যক্তিদের তালিকায় এমন একজনের নাম রয়েছে, যিনি এখনো জীবিত এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জাহানারা নামের যে রোগীর নাম মৃতের তালিকায় দেওয়া হয়েছে, তিনি জীবিত আছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি সাংবাদিকদের ওই রোগীকে দেখে তালিকার সঙ্গে বাস্তবতা মিলিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে হাসপাতালে আগুন লাগার পর আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ির সময় সিঁড়িতে পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁদের স্বজনেরা। তাঁরা হলেন তারাকান্দার বালিখা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী কুলসুম আক্তার (৩৫) এবং ফুলপুরের রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুরামপুর গ্রামের শাহাজাহান মনির (৪৫)।

তারাকান্দার কুলসুম আক্তারের ননদ নাজমা আক্তার জানান, কুলসুম ১২ দিন ধরে তাঁর জন্ডিসে আক্রান্ত ১২ বছর বয়সী ছেলে স্বাধীনকে নিয়ে হাসপাতালের ৩১ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে ছিলেন। কুলসুমের সঙ্গে তাঁর ১৮ বছর বয়সী মেয়ে মিমও ছিলেন। আগুন লাগার পর হুড়োহুড়ি শুরু হলে কুলসুম তাঁর ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। মিম আগে বের হয়ে যান। পরে তিনি ফিরে এসে দেখেন, লোকজন স্বাধীনকে টেনে বের করছেন; কিন্তু মাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরে কুলসুমকে উদ্ধার করে অক্সিজেন দেওয়া হলেও তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে তাঁদের অভিযোগ রয়েছে এবং হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে তাঁরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

অন্যদিকে শাহাজাহান মনির প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন ধরে হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তাঁর ছেলে পলাশ মোল্লা জানান, আগুন লাগার সময় তাঁর বাবা, মা হারিসা আক্তার ও খালা জাহানারা আক্তার একসঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন। এ সময় পেছন থেকে লোকজনের ধাক্কায় তাঁরা পড়ে যান। পরে তাঁর মা ও খালাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পলাশ তখন হাসপাতালে ছিলেন না, পরে এসে মায়ের কাছে যান এবং স্বজনেরা তাঁর বাবার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ১০টি ইউনিট একসঙ্গে ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করে। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের একটি লিফটের কন্ট্রোল রুমের কন্ট্রোলার মেশিনের সঙ্গে থাকা বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo