দরপত্র ছাড়াই ফরাসি কোম্পানি থেকে ১৮ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার
- আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ও মজুদ কমে যাওয়ায় জরুরি চাহিদা মেটাতে দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফরাসি বহুজাতিক জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম কোম্পানি টোটাল এনার্জিস থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই এলএনজি কেনা হবে। চলতি অর্থবছরের অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে দুটি করে মোট ১৮টি কার্গো এলএনজি দেশে আনা হবে।
বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে এই এলএনজি ক্রয়ের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে উভয় পক্ষের (সরকার ও টোটাল এনার্জিস) পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে অতিরিক্ত কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, দরপত্র ছাড়া সরাসরি কেনাকাটার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এর আগে গত আগস্ট মাসেও দরপত্র ছাড়া দুই দফায় মোট ২২ কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এর মধ্যে ১৯ আগস্ট সাতটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে দুটি করে মোট ১৪ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়। তার আগে ৬ আগস্ট একইভাবে ৮ কার্গো এলএনজি এবং দেশের আপৎকালীন চাহিদা পূরণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৫ হাজার টন এলপিজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল।
এদিকে একই দিনে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে সিঙ্গাপুরের ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেড থেকে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেল এবং ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল আমদানির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এই কেনাকাটায় সুপারিশকৃত দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা।
একই সময়ের জন্য সিঙ্গাপুরের আরেক প্রতিষ্ঠান ভাইটল এশিয়া থেকে আরও ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং ৪০ হাজার টন জেট ফুয়েল আমদানির প্রস্তাবে সায় দিয়েছে কমিটি। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।
এছাড়া সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর মেয়াদের জন্য ইউনিপে সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টন ডিজেল কেনার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে, যার সুপারিশকৃত দর ৭৯২ কোটি টাকা। পাশাপাশি ভাইটল এশিয়া থেকে ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টন ডিজেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা থেকে ৮০১ কোটি টাকায় ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টন ফার্নেস অয়েল কেনার সুপারিশও অনুমোদন করেছে কমিটি।
জ্বালানি ক্রয়ের এই প্রতিটি প্রস্তাবের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্রিমিয়াম এবং রেফারেন্স মূল্যের বিষয়ে সুপারিশকৃত দরদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত দর নির্ধারণ করা হবে। পরবর্তীতে সেই দর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।





























