শিক্ষায় বিনিয়োগ অপচয় নয়, ভবিষ্যতের ভিত্তি: রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ
- আপডেট সময় : ০৪:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষায় বিনিয়োগ কোনো অপচয় বা ব্যয় নয়, বরং এটিই হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যতের ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেবল ভালো শিক্ষার্থী হওয়াই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি একজন ভালো মানুষ হতে হবে। জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে বিনয়, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া জরুরি।
বুধবার রাজধানীর গোড়ান-খিলগাঁও এলাকার শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন রুবলের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজ যে সম্মাননা তোমরা পাচ্ছ, তা কেবল একটি পুরস্কার নয়। এটি তোমাদের মেধা, পরিশ্রম ও প্রজ্ঞার স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ জীবনের প্রস্তুতি। তিনি যোগ করেন, শুধু ভালো ফলাফল করাই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়। মেধা মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু সততা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধই মানুষকে প্রকৃত অর্থে মহান করে তোলে। সফল হতে হলে প্রথমে লক্ষ্য স্থির করে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত কোনোভাবেই হাল ছাড়া যাবে না। এ সময় তিনি বিশ্ববিজয়ী আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের বিখ্যাত উক্তি ‘যে চেষ্টা করে, তার কাছে কিছুই অসম্ভব নয়’ উদ্ধৃত করে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করেন。
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাণী স্মরণ করে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, শিক্ষা হলো মানুষের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের মূল চালিকাশক্তি। এই আদর্শকে সামনে রেখেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে একটি আধুনিক, যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাস্তাঘাট, সেতু বা দালানকোঠার মতো অবকাঠামো উন্নয়নের দৃশ্যমান প্রতীক হলেও, শিক্ষিত ও মানবিক জনশক্তিই হলো সেই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। আর এই দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে শিক্ষা খাত।
শিক্ষা খাতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাজেটে মোট জিডিপির ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে দেশের ১০ হাজার ৩৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার ৬৮০টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ১ লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থীকে ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ১৯ হাজার মাধ্যমিক স্কুলছাত্রীর মাঝে পিঙ্ক কালারের সাইকেল বিতরণের বিষয়টি বিবেচনাধীন আছে। আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিডডে মিল বা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।
শিক্ষকদের অবদান ও সম্মাননা প্রসঙ্গে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষক সমাজকে উপযুক্ত সম্মান দেওয়া। তাদের স্বীকৃতি ও উৎসাহিত করতে ইতোমধ্যে ১০০ জন শিক্ষককে ১ লাখ টাকা করে সম্মাননা ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে ঘোষণা দেন যে, শান্তিপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ তার নির্বাচনী এলাকার কোনো শিক্ষক যদি এই সরকারি অনুদান পান, তবে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে তাকে আরও ১ লাখ টাকা পুরস্কার দেবেন।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেনশন প্রসঙ্গে তিনি বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার শিক্ষকদের পেনশন বন্ধ রেখে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছিল। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৬ মাসের মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা করেছেন। পর্যায়ক্রমে অবসরপ্রাপ্ত সব শিক্ষকের বকেয়া পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।



























