৩০ বছর ধরে সেতুহীন পাখিমারা খাল, চরম দুর্ভোগে কৃষকরা
- আপডেট সময় : ০৫:১৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ৪২। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর স্থায়ী কোনো সেতু না থাকায় দীর্ঘ তিন দশক ধরে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পাঁচ শতাধিক সবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী কৃষক। কুমিরমারা, নেয়ামতপুর ও এলেমপুর গ্রামের কৃষকদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাদা মাড়িয়ে, নৌকায় অথবা ভাসমান সেতু পার হয়ে পাখিমারার পাইকারি বাজারে পণ্য নিয়ে যেতে হয়।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলের গ্রামগুলোতে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার সবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। কলাপাড়া উপজেলার মোট সবজির চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই এখান থেকে পূরণ হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত সবজি ট্রাক, বাস ও পিকআপে দেশের বিভিন্ন এলাকার আড়তে পাঠানো হয়। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়, কারণ অভ্যন্তরীণ মাটির রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানান, ৩০০ ফুট প্রশস্ত এই খাল পার হতে কৃষকরা নিজেদের অর্থায়নে ড্রামের ওপর কাঠের পাটাতন দিয়ে ভাসমান সেতু তৈরি করেছেন। বিভিন্ন সময় এনজিও ও নিজেদের উদ্যোগে মেরামত করা হলেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। সুলতান গাজী নামের এক প্রবীণ কৃষক জানান, ৪০-৪৫ বছর ধরে সবজি চাষ করলেও দীর্ঘ তিন দশকে এখানে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। স্থানীয়দের মতে, ২০১৬ সালে আরপাঙ্গাশিয়া নদীর ভেঙে পড়া একটি আয়রন ব্রিজের মালামাল দিয়ে এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলেও দুই বছরের মাথায় তা নষ্ট হয়ে যায়।
নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাহিদ হাসান জানিয়েছেন, কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পাখিমারা খালের ওপর একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, ৪৯০ মিটার দীর্ঘ গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের ডিজাইন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং নেভিগেশন ছাড়পত্রও পাওয়া গেছে। একনেকের অনুমোদন মিললে দ্রুততম সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



























