ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪০ কিমি যানজট, অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু
- আপডেট সময় : ১১:২৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এই ভয়াবহ যানজটে আটকে থেকে অ্যাম্বুলেন্সেই প্রাণ হারিয়েছেন আমিরুন্নেছা নামের এক হৃদরোগী। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই যানজট আজ শনিবার সকালেও অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী ও চালক।
মারা যাওয়া আমিরুন্নেছা লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রাণভগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর স্বজন তারেক আল হাসান জানান, শুক্রবার রাত আটটার দিকে আমিরুন্নেছা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়া হয়। রাত ১১টার দিকে তাঁরা কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পৌঁছান। কিন্তু তীব্র যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্সটি আর সামনে এগোতে পারেনি। দীর্ঘ চার ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার পর রাত তিনটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই তাঁর মৃত্যু হয়।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সকাল আটটা থেকে সোনারগাঁয়ের আশরিয়ারচরে ঢাকাগামী লেনে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ার পর এই যানজটের সৃষ্টি হয়। আজ শনিবার সকাল আটটায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঢাকাগামী লেনে তীব্র যানজট লেগে ছিল। চট্টগ্রাম থেকে খুলনার বাগেরহাটগামী মুজাহিদ পরিবহনের যাত্রীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় রওনা হয়ে রাত আড়াইটার দিকে তাঁরা দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জে যানজটে আটকা পড়েন। সেখান থেকে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় মাত্র ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাঁরা দাউদকান্দির আমিরাবাদে পৌঁছাতে পেরেছেন।
ঢাকা থেকে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জগামী সুরমা পরিবহনের বাসের চালক রিপন মিয়া (৫৫) বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম অত্যন্ত ব্যস্ততম মহাসড়ক হওয়ায় প্রশাসনের এখানে সার্বক্ষণিক নজর রাখা উচিত। প্রচণ্ড গরমে বাসের ভেতরে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা চরম কষ্ট পাচ্ছেন। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ শামীম জানান, আশরিয়ারচরে সংস্কারকাজের কারণে সৃষ্ট এই যানজট এখনো অব্যাহত রয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি কমাতে হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।


























