টাঙ্গুয়ার হাওরে ৪ মাসে ৫ মৃত্যু, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
- আপডেট সময় : ১১:০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে আনন্দভ্রমণে গিয়ে গত চার মাসে পাঁচটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। হাওরে পর্যটকদের ভিড় বাড়লেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানার ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাজশাহী থেকে বেড়াতে আসা শিক্ষার্থী আবদুল মাজেদ (২৪) হাওরের পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি হাউসবোট থেকে গোসল করতে নেমে আর ভেসে ওঠেননি।
নিহতদের তালিকায় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ই রয়েছেন। গত ২১ আগস্ট ফরিদপুর থেকে আসা ১০ বছর বয়সী শিশু রোকাইয়া নূর চলন্ত হাউসবোট থেকে পড়ে মারা যায়। এর আগে ৭ আগস্ট সিরাজগঞ্জের আলী আকবর খান (৭২) গোসল করতে নেমে তলিয়ে যান। এছাড়া জুনে নৌকার ইঞ্জিনে পড়ে মৌমাতা সরকার (৮) এবং মে মাসে তামিম ইসলাম (১৭) নামের এক কিশোরের করুণ মৃত্যু হয়। গত বছরের ১৫ আগস্ট মা-বাবার সঙ্গে সিলেট থেকে বেড়াতে আসা মাসুম আহমদ (৫) নামের এক শিশু নৌকার জানালা দিয়ে পানিতে পড়ে প্রাণ হারিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অধিকাংশ পর্যটকই লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারের নির্দেশনা মানেন না, এছাড়া নৌযানগুলোতে নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে।
টাঙ্গুয়ার হাওরে বর্তমানে দুই শতাধিক বিলাসবহুল হাউসবোট এবং চার শর মতো ছোট নৌকা পর্যটকদের নিয়ে যাতায়াত করে। ১২ হাজার ৬৫৫ হেক্টর আয়তনের এই হাওরে ১০৯টি বিল ও অসংখ্য খাল রয়েছে। গত ৩ আগস্ট জেলা প্রশাসন টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশের আওতায় ১৩ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে। এতে হাওরের সংরক্ষিত এলাকায় পর্যটকবাহী হাউসবোট ও নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, এসব নৌযানের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রকৃতি রক্ষার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান খান জানিয়েছেন, প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সপ্তাহে দুই দিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করছে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো নৌযান পর্যটক বহন করতে পারবে না। ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘টাঙ্গুয়ার হাওর সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি’র সভায় সব হাউসবোট ও নৌযানকে দুই দিনের মধ্যে নিবন্ধনের আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় জানানো হয়, এ পর্যন্ত মাত্র ৪৯টি হাউসবোট ও নৌকার পক্ষ থেকে নিবন্ধনের আবেদন জমা পড়েছে। হাউসবোট অ্যাসোসিয়েশন ও তাহিরপুর নৌকা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আবেদনের জন্য আরও দুই দিন সময় চাওয়া হয়েছে। হাউসবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আরাফাত হোসাইন জানান, হাওরে এখন দুই থেকে আড়াই শ হাউসবোট আছে। অনেক বোটে নিরাপত্তা সরঞ্জাম থাকে না, তবে অনেক হাউসবোট নিয়ম মেনে চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, সব নৌযানকে নিবন্ধনের আওতায় এনে প্রশাসনের নির্দেশনা মানতে বাধ্য করা এখন সবচেয়ে জরুরি। প্রশাসন, মালিক-শ্রমিক এবং পর্যটক—সবার আন্তরিক অংশগ্রহণ ছাড়া হাওরের শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়।


























