নেত্রকোণায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ: বিএনপি নেতা অব্যাহতি, গ্রেপ্তার ১
- আপডেট সময় : ০৩:১৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল ও দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাবেক সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত ওই নেতাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ধর্ষণ মামলায় আসামি হওয়ার পর বুধবার রাতে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় বিএনপি। কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলার ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান জানান, স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হওয়ায় আপাতত তাকে সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর পরিবারের বিবরণ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী মেয়েটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। সে যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত, ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বকুল মিয়া তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং গোপনে মুঠোফোনে সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্ন সময়ে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ করা হতো।
এজাহারে আরও জানানো হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার এক নারী সহযোগী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বকুলের নেতৃত্বে আরও কয়েকজন মিলে তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তার ওপর এই নির্যাতন অব্যাহত রাখা হয়। গত ১ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। পরবর্তীতে ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানোর পর জানা যায় যে, ভুক্তভোগী কিশোরী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গত ২৫ আগস্ট সে বাড়ি ফিরে পরিবারের কাছে বিস্তারিত খুলে বলে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি আবু মিয়াকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিসহ অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


























