ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গোয়াইনঘাটে ২৬ কোটির মহাসড়ক নির্মাণে বাধা ৯০ গাছ মধুমতি নদীর ভাঙনে দিশেহারা বোয়ালমারীর লংকারচর নীচুপাড়ার বাসিন্দারা শৈলকুপা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পুরস্কারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নেপালে হিমবাহ ধসে মৃতের সংখ্যা ৪৭২, নতুন বন্যার ঝুঁকিতে এলাকা কারওয়ান বাজারে শুরু হলো প্রথম আলো বন্ধুসভার ‘লেখক বন্ধু উৎসব’ সিলেটে হাম ও উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু নেপাল সীমান্তে হিমালয় কন্যার বুকে প্রলয়ংকরী জলবোমার আঘাত সিরাজগঞ্জের হাড়ের গুঁড়ো এখন ওষুধ শিল্পের বড় চাহিদা মেটাচ্ছে অর্থনৈতিক চাপে ‘ভূমিকম্পের মতো’ পাল্টা আঘাতের হুমকি ইরানের ঢাকার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

তিন টাকায় কেনা বাইসাইকেল: ৮০ বছর ধরে তিন প্রজন্মের সঙ্গী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৯৪৬ সালে যশোর শহর থেকে মাত্র তিন টাকায় কেনা ইংল্যান্ডের ‘র‍্যালি’ ব্র্যান্ডের একটি বাইসাইকেল ৮০ বছর পার হওয়ার পরও এখনো সচল রয়েছে। সেই সময় তহশিল অফিসে কর্মরত ইউসুফ আলী শেখ যাতায়াতের সুবিধার জন্য সাইকেলটি কিনেছিলেন। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় সাইকেলটি এখন তাঁর ভাতিজার ছেলে ওয়াহেদ আলী শেখের (৫২) কাছে রয়েছে। ওয়াহেদ আলী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চাপালী গ্রামের মৃত আনসার আলী শেখের বড় ছেলে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, ইউসুফ আলী অসুস্থ হওয়ার পর সাইকেলটি তাঁর ভাইঝি জাহারন নেছাকে উপহার দিয়েছিলেন। জাহারন নেছা চালাতে না পারায় তাঁর ভাই আনসার আলী শেখ সাইকেলটি নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। পেশায় সাইকেলমিস্ত্রি আনসার আলী কালীগঞ্জ শহরের ভূষণ স্কুল সড়ক ও পরে গান্না সড়কে তাঁর দোকানে যাতায়াতের জন্য এটি ব্যবহার করতেন। তিনি সাইকেলটির অত্যন্ত যত্ন নিতেন এবং কোনো সমস্যা হলে নিজেই মেরামত করে নিতেন। সাইকেলটির মূল কাঠামো আজও অপরিবর্তিত রয়েছে।

আনসার আলীর মৃত্যুর পর সাইকেলটি তাঁর বড় ছেলে ওয়াহেদ আলীর কাছে আসে। ওয়াহেদ আলী জানান, তিনি বাবার কাছ থেকে পাওয়া এই স্মৃতিময় বাহনটি খুব যত্ন করে ব্যবহার করছেন এবং জরুরি প্রয়োজনে এটিই তাঁর সঙ্গী। ওয়াহেদ আলীর ভাই আবদুস সামাদ জানান, তাঁর বাবা শুধু যাতায়াতের জন্য নয়, পণ্য পরিবহনের কাজেও সাইকেলটি ব্যবহার করতেন। এমনকি এলাকার অনেকে প্রয়োজনে সাইকেলটি ধার নিয়ে আবার ফিরিয়ে দিতেন।

চাপালী গ্রামের বাসিন্দা গোলাম সরোয়ার (৭৫) ছোটবেলা থেকেই আনসার আলী শেখকে এই সাইকেলটি ব্যবহার করতে দেখেছেন। আট দশক পরেও সাইকেলটি সচল থাকার রহস্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ভালোবাসা আর যত্ন নিলে যেকোনো জিনিসই দীর্ঘদিন ব্যবহার করা সম্ভব। তিন টাকায় কেনা এই বাইসাইকেলটি এখন কেবল একটি বাহন নয়, বরং একটি পরিবারের তিন প্রজন্মের ভালোবাসা ও যত্নের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

তিন টাকায় কেনা বাইসাইকেল: ৮০ বছর ধরে তিন প্রজন্মের সঙ্গী

আপডেট সময় : ০৮:৪১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

১৯৪৬ সালে যশোর শহর থেকে মাত্র তিন টাকায় কেনা ইংল্যান্ডের ‘র‍্যালি’ ব্র্যান্ডের একটি বাইসাইকেল ৮০ বছর পার হওয়ার পরও এখনো সচল রয়েছে। সেই সময় তহশিল অফিসে কর্মরত ইউসুফ আলী শেখ যাতায়াতের সুবিধার জন্য সাইকেলটি কিনেছিলেন। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় সাইকেলটি এখন তাঁর ভাতিজার ছেলে ওয়াহেদ আলী শেখের (৫২) কাছে রয়েছে। ওয়াহেদ আলী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চাপালী গ্রামের মৃত আনসার আলী শেখের বড় ছেলে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, ইউসুফ আলী অসুস্থ হওয়ার পর সাইকেলটি তাঁর ভাইঝি জাহারন নেছাকে উপহার দিয়েছিলেন। জাহারন নেছা চালাতে না পারায় তাঁর ভাই আনসার আলী শেখ সাইকেলটি নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। পেশায় সাইকেলমিস্ত্রি আনসার আলী কালীগঞ্জ শহরের ভূষণ স্কুল সড়ক ও পরে গান্না সড়কে তাঁর দোকানে যাতায়াতের জন্য এটি ব্যবহার করতেন। তিনি সাইকেলটির অত্যন্ত যত্ন নিতেন এবং কোনো সমস্যা হলে নিজেই মেরামত করে নিতেন। সাইকেলটির মূল কাঠামো আজও অপরিবর্তিত রয়েছে।

আনসার আলীর মৃত্যুর পর সাইকেলটি তাঁর বড় ছেলে ওয়াহেদ আলীর কাছে আসে। ওয়াহেদ আলী জানান, তিনি বাবার কাছ থেকে পাওয়া এই স্মৃতিময় বাহনটি খুব যত্ন করে ব্যবহার করছেন এবং জরুরি প্রয়োজনে এটিই তাঁর সঙ্গী। ওয়াহেদ আলীর ভাই আবদুস সামাদ জানান, তাঁর বাবা শুধু যাতায়াতের জন্য নয়, পণ্য পরিবহনের কাজেও সাইকেলটি ব্যবহার করতেন। এমনকি এলাকার অনেকে প্রয়োজনে সাইকেলটি ধার নিয়ে আবার ফিরিয়ে দিতেন।

চাপালী গ্রামের বাসিন্দা গোলাম সরোয়ার (৭৫) ছোটবেলা থেকেই আনসার আলী শেখকে এই সাইকেলটি ব্যবহার করতে দেখেছেন। আট দশক পরেও সাইকেলটি সচল থাকার রহস্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ভালোবাসা আর যত্ন নিলে যেকোনো জিনিসই দীর্ঘদিন ব্যবহার করা সম্ভব। তিন টাকায় কেনা এই বাইসাইকেলটি এখন কেবল একটি বাহন নয়, বরং একটি পরিবারের তিন প্রজন্মের ভালোবাসা ও যত্নের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo