ঢাকা ০২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নোয়াখালীতে গ্যারেজে অভিযান, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ আটক ৩ রংপুর রেঞ্জে সেরা নীলফামারী জেলা পুলিশ ৩৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে ‘ব্রেকিং ব্যাড’ অভিনেতা আরজে মেটি সানজি গ্রুপের ১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ: এজিএম পার্থ সারথী গ্রেপ্তার আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় আঘাত: পিল্লাই ভোট চুরির পর এবার বিক্ষোভের স্থানও চুরি করছে মোদি সরকার চরফ্যাশনে সারের ডিলারশিপ বিতর্কে স্ট্যাম্পে লিখে দায়িত্ব হস্তান্তর যুবদল নেতার শাহজালালে আটকা ১৩ হাজার যাত্রী, বাতিল ৮২ ফ্লাইট বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন করতে চায় সরকার : সালাহউদ্দিন আহমদ জামালপুরের বকশীগঞ্জে ঘরের চালের সাথে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রংপুরে চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবক আটক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৩৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল এবং তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ মোট চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার ভোরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) এবং বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে তারা নিয়মিত মাদক সেবন ও আড্ডা দিতেন। গত ২০ আগস্ট শেষ রাতের দিকে মাদক সেবনের সময় গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেলায় প্রথমে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর শব্দ শুনে বেরিয়ে এলে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা, মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং সবশেষে ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকে তারা একে একে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর তারা বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে পালিয়ে যান।

নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাতে পুলিশ গণপতি চক্রবর্তীর (৬৫) দোতলা বাড়ির ছাদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এছাড়া স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালার (৫০) ও মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থীর (২৫) মরদেহ পাওয়া যায় ছাদে ওঠার সিঁড়িতে এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয় খাটের নিচ থেকে।

স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে ওই পরিবারের সদস্যদের আর দেখা যায়নি এবং বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। শনিবার রাত ৯টার দিকে বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সর্বশেষ ফোনের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল। শনিবার যোগাযোগ করতে গিয়ে ফোন বন্ধ পান তিনি। পরে তিনি স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িটিতে গিয়ে গেট তালাবদ্ধ দেখতে পান এবং ৯৯৯-এ কল করে সহায়তা চান। এসময় বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলেও জানা গেছে।

নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ছিলেন এবং গত ডিসেম্বরে অবসরে যাওয়ার পর রংপুর সমবায় মার্কেটের একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিতেন। তার মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। পুলিশ কমিশনার জানান, এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

রংপুরে চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবক আটক

আপডেট সময় : ০২:৩৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল এবং তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ মোট চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার ভোরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) এবং বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।

রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে তারা নিয়মিত মাদক সেবন ও আড্ডা দিতেন। গত ২০ আগস্ট শেষ রাতের দিকে মাদক সেবনের সময় গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেলায় প্রথমে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর শব্দ শুনে বেরিয়ে এলে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা, মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং সবশেষে ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মকে তারা একে একে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর তারা বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে পালিয়ে যান।

নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাতে পুলিশ গণপতি চক্রবর্তীর (৬৫) দোতলা বাড়ির ছাদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এছাড়া স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালার (৫০) ও মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থীর (২৫) মরদেহ পাওয়া যায় ছাদে ওঠার সিঁড়িতে এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয় খাটের নিচ থেকে।

স্থানীয়রা জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে ওই পরিবারের সদস্যদের আর দেখা যায়নি এবং বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। শনিবার রাত ৯টার দিকে বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সর্বশেষ ফোনের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল। শনিবার যোগাযোগ করতে গিয়ে ফোন বন্ধ পান তিনি। পরে তিনি স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িটিতে গিয়ে গেট তালাবদ্ধ দেখতে পান এবং ৯৯৯-এ কল করে সহায়তা চান। এসময় বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলেও জানা গেছে।

নিহত গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক ছিলেন এবং গত ডিসেম্বরে অবসরে যাওয়ার পর রংপুর সমবায় মার্কেটের একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিতেন। তার মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। পুলিশ কমিশনার জানান, এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh