পদোন্নতিতে মেধা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ১২:২৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে মেধা, দক্ষতা ও সততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। রোববার ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে 'নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬' এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। এই পর্ষদের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদবির যোগ্য কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় আত্মদানকারী বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন, তাদের অবদানের কথাও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী তথা নৌ ও বিমান বাহিনীর শহীদসহ সকল বীর সেনানীদের আত্মত্যাগের কথা তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলী, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর যেন বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নৌ ও বিমান বাহিনীর দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রে বাহিনী দুটির গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন সরকারপ্রধান। দেশের প্রয়োজনে এই ত্যাগের জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন এবং তাকে অভিনন্দন জানান। এ সময় নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে তার মূল্যবান পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা কামনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


























