ঢাকা ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও বিদ্যুতের আলো দেখেনি কাপ্তাইয়ের ৫৬০ পরিবার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪১:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশের একটি বড় অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ি জনপদের কয়েকটি গ্রাম স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও বিদ্যুতের আলো দেখেনি। গোলাবারুদছড়া, ভাইজ্যতলী ও হরিণছড়াসহ এই দুর্গম এলাকাগুলোর শত শত পরিবার দীর্ঘবছর ধরে বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

কাপ্তাই উপজেলা সদর ও নিকটবর্তী এলাকার মধ্যে এসব গ্রামের অবস্থান হলেও ভৌগোলিকভাবে এগুলো অত্যন্ত দুর্গম। পাহাড়-অরণ্যবেষ্টিত এ গ্রামগুলো একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন এবং উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী আধুনিক জীবনযাত্রার অন্যতম মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

৪ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ভানুমতি চাকমা জানান, তিনি দীর্ঘ তিন বছর ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ ও আলোচনা করে আসছেন, তবে স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। তিনি জানান, ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড মিলিয়ে প্রায় ৫৬০টি পরিবার রয়েছে যারা স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও বিদ্যুতের মুখ দেখেনি। তিনি সরকারি অর্থায়নে প্রতিটি বাড়িতে সোলার সিস্টেম স্থাপনের প্রস্তাব দেন, যা এই মানুষগুলোর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, এই এলাকার মানুষের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের পড়াশোনার জন্য বিদ্যুতের কোনো বিকল্প নেই। সোলার প্ল্যান্ট বা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার সহযোগিতা করলে দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল ব্যয় হতে পারে। তাই সরকারি উদ্যোগে বাড়িভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও নিরাপদ পানির সমস্যা দ্রুত ও টেকসইভাবে নিরসন সম্ভব। স্থানীয়রা প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই ৫৬০ পরিবারের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও বিদ্যুতের আলো দেখেনি কাপ্তাইয়ের ৫৬০ পরিবার

আপডেট সময় : ০৬:৪১:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশের একটি বড় অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ি জনপদের কয়েকটি গ্রাম স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও বিদ্যুতের আলো দেখেনি। গোলাবারুদছড়া, ভাইজ্যতলী ও হরিণছড়াসহ এই দুর্গম এলাকাগুলোর শত শত পরিবার দীর্ঘবছর ধরে বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

কাপ্তাই উপজেলা সদর ও নিকটবর্তী এলাকার মধ্যে এসব গ্রামের অবস্থান হলেও ভৌগোলিকভাবে এগুলো অত্যন্ত দুর্গম। পাহাড়-অরণ্যবেষ্টিত এ গ্রামগুলো একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন এবং উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী আধুনিক জীবনযাত্রার অন্যতম মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

৪ নম্বর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ভানুমতি চাকমা জানান, তিনি দীর্ঘ তিন বছর ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ ও আলোচনা করে আসছেন, তবে স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। তিনি জানান, ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড মিলিয়ে প্রায় ৫৬০টি পরিবার রয়েছে যারা স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও বিদ্যুতের মুখ দেখেনি। তিনি সরকারি অর্থায়নে প্রতিটি বাড়িতে সোলার সিস্টেম স্থাপনের প্রস্তাব দেন, যা এই মানুষগুলোর জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, এই এলাকার মানুষের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের পড়াশোনার জন্য বিদ্যুতের কোনো বিকল্প নেই। সোলার প্ল্যান্ট বা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার সহযোগিতা করলে দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, দুর্গম পাহাড়ি গ্রামগুলোতে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল ব্যয় হতে পারে। তাই সরকারি উদ্যোগে বাড়িভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও নিরাপদ পানির সমস্যা দ্রুত ও টেকসইভাবে নিরসন সম্ভব। স্থানীয়রা প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগ ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এই ৫৬০ পরিবারের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh