ঢাকা ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিলেটে ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিন হত্যায় রেস্টুরেন্ট কর্মচারী জালালের স্বীকারোক্তি বেসিস নির্বাচন: ২৬ সেপ্টেম্বর ভোট, চূড়ান্ত তালিকা ৫ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিনে বাংলাদেশি ইউসুফ হত্যা: ঘাতকের ছবি প্রকাশ করল নিউইয়র্ক পুলিশ চারজনের খুনের রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থতা সরকারের চরম ব্যর্থতা: গোলাম পরওয়ার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেলেন ইমদাদুল হুদা সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট: সংস্কার নিয়ে ক্ষোভ ষড়ঋতুর সৌন্দর্য ও দেশপ্রেমের মেলবন্ধন: এক অনন্য বাংলাদেশ জয় বাংলা স্লোগান: শোকজ পেলেন সিরাজগঞ্জের বিএনপি নেতা মিন্টু শেখ নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিহত ৩৮৯, নিখোঁজ ৯ শতাধিক মানুষ ফেনীতে খুঁটিতে বেঁধে গৃহবধূ ও যুবদল নেতাকে নির্যাতন, আটক ৩

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী মাছুদা বেগমকে অমানবিক নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার মাছুদা বেগম বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে মারা যান।

ঘটনার পর মাছুদা বেগমের ভাই বছির উদ্দিন বাদী হয়ে কালাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ শুক্রবার রাতেই অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ওরফে শাপলাকে (৪০) গ্রেপ্তার করে। মেহেদী হাসান কালাই উপজেলার হারুঞ্জা শাহাপাড়া গ্রামের মৃত আবদুস সামাদের ছেলে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে মাছুদা বেগমের সঙ্গে মেহেদী হাসানের বিয়ে হয়। তাঁদের ১২ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মেহেদী বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে মাছুদাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। মাছুদার ভাই বছির উদ্দিন জানান, তাঁর বোন পৈতৃক সূত্রে ২০ শতক জমি পেয়েছিলেন। ওই জমি বিক্রির জন্য ভগ্নিপতি মেহেদী হাসান চাপ সৃষ্টি করেন। যদিও তাঁরা তাঁকে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন, কিন্তু এরপর আরও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন মেহেদী। এই টাকা না দেওয়ায় মাছুদার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে যৌতুকের দাবিতে মাছুদার হাত-পা বেঁধে ঘরের ভেতর উচ্চ শব্দে গান বাজানো হয়। এরপর প্লায়ার্স দিয়ে আঘাত করে তাঁর দুটি দাঁত ভেঙে ফেলা হয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে গরম কাস্তে দিয়ে মাছুদার হাত ও পায়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।

নির্যাতনের পর মাছুদাকে ঘরের ভেতর রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন ও হত্যা, স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৫:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী মাছুদা বেগমকে অমানবিক নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার মাছুদা বেগম বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে মারা যান।

ঘটনার পর মাছুদা বেগমের ভাই বছির উদ্দিন বাদী হয়ে কালাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ শুক্রবার রাতেই অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ওরফে শাপলাকে (৪০) গ্রেপ্তার করে। মেহেদী হাসান কালাই উপজেলার হারুঞ্জা শাহাপাড়া গ্রামের মৃত আবদুস সামাদের ছেলে।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে মাছুদা বেগমের সঙ্গে মেহেদী হাসানের বিয়ে হয়। তাঁদের ১২ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মেহেদী বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে মাছুদাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। মাছুদার ভাই বছির উদ্দিন জানান, তাঁর বোন পৈতৃক সূত্রে ২০ শতক জমি পেয়েছিলেন। ওই জমি বিক্রির জন্য ভগ্নিপতি মেহেদী হাসান চাপ সৃষ্টি করেন। যদিও তাঁরা তাঁকে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন, কিন্তু এরপর আরও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন মেহেদী। এই টাকা না দেওয়ায় মাছুদার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে যৌতুকের দাবিতে মাছুদার হাত-পা বেঁধে ঘরের ভেতর উচ্চ শব্দে গান বাজানো হয়। এরপর প্লায়ার্স দিয়ে আঘাত করে তাঁর দুটি দাঁত ভেঙে ফেলা হয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে গরম কাস্তে দিয়ে মাছুদার হাত ও পায়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।

নির্যাতনের পর মাছুদাকে ঘরের ভেতর রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo