ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দিনাজপুরে আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা, লক্ষ্য ভালো দাম ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ: ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা কক্সবাজারে নিখোঁজ পর্যটক ইব্রাহিমের মরদেহ সোনাদিয়ায় উদ্ধার নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ দলবাজ ও দলদাসের সূক্ষ্ম পার্থক্য নিয়ে মহিউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ গোপন সূচির রোমাঞ্চ নিয়ে বসছে ৫৩তম টেলুরাইড চলচ্চিত্র উৎসব ঠাকুরগাঁওয়ে হাফ ম্যারাথন: রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করে দৌড়বিদের মিলনমেলা ইন্টার মায়ামির নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেলেন কিলি গঞ্জালেস প্রকৌশলী অধিকার দিবস উপলক্ষে বেরোবিতে মোমবাতি প্রজ্বলন ২০৩০ সালে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে ৩২তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ

অধ্যাদেশ বাতিলের ৭ দিনের মাথায় মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিলের মাত্র সাত দিনের মাথায় মিরাজ শেখ নামের এক ব্যক্তিকে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় দলটির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ এই অভিযোগ করেন। ‘গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম গুম: মিরাজ শেখ কোথায়?’ শীর্ষক এই সভায় তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার ৫৭ দিনের মাথায় মিরাজ শেখকে গুমের মধ্য দিয়ে সরকার শেখ হাসিনা আমলের গুমের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করছে।

নাঈম আহমাদ জানান, গত ৩ এপ্রিল গণমাধ্যমের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিল করা হচ্ছে। এর ঠিক সাত দিনের মাথায় ১০ এপ্রিল বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার জেলে মিরাজ শেখকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ধারণা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার পতনের পর এটিই গুমের প্রথম ঘটনা।

জেডিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, গুমের পথ সহজ করতেই সরকার ওই অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। সরকারের নতুন আইন ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা থাকলেও মিরাজ নিখোঁজের ১৩৩ দিন পার হয়ে গেছে, অথচ সরকার ঘটনাটি অস্বীকার করছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, মিরাজ বেঁচে আছেন কি না, নাকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ইলিয়াস আলীর মতো হত্যা করে সুন্দরবনের নোনা জলে ভাসিয়ে দিয়েছে।

নতুন আইনের সমালোচনা করে নাঈম আহমাদ বলেন, এই আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগের তদন্তের ক্ষমতা পুলিশকেই দেওয়া হয়েছে। তার মতে, কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরিও যেখানে পুলিশ গ্রহণ করেনি, সেখানে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তে সত্য বেরিয়ে আসবে—এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। এছাড়া ২১ ধারা অনুযায়ী, তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগ আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে, যা মিরাজের পরিবারের ক্ষেত্রেও অপব্যবহার হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অবিলম্বে মিরাজ শেখের অবস্থা জনসমক্ষে প্রকাশ এবং অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান জেডিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর প্রস্তাবনা অনুযায়ী মামলার তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে এবং কমিশনকে সব ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা এবং জুলাইয়ের অঙ্গীকার ও সনদ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

অধ্যাদেশ বাতিলের ৭ দিনের মাথায় মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:১১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিলের মাত্র সাত দিনের মাথায় মিরাজ শেখ নামের এক ব্যক্তিকে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় দলটির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ এই অভিযোগ করেন। ‘গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম গুম: মিরাজ শেখ কোথায়?’ শীর্ষক এই সভায় তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার ৫৭ দিনের মাথায় মিরাজ শেখকে গুমের মধ্য দিয়ে সরকার শেখ হাসিনা আমলের গুমের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করছে।

নাঈম আহমাদ জানান, গত ৩ এপ্রিল গণমাধ্যমের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিল করা হচ্ছে। এর ঠিক সাত দিনের মাথায় ১০ এপ্রিল বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার জেলে মিরাজ শেখকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ধারণা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার পতনের পর এটিই গুমের প্রথম ঘটনা।

জেডিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, গুমের পথ সহজ করতেই সরকার ওই অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। সরকারের নতুন আইন ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা থাকলেও মিরাজ নিখোঁজের ১৩৩ দিন পার হয়ে গেছে, অথচ সরকার ঘটনাটি অস্বীকার করছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, মিরাজ বেঁচে আছেন কি না, নাকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ইলিয়াস আলীর মতো হত্যা করে সুন্দরবনের নোনা জলে ভাসিয়ে দিয়েছে।

নতুন আইনের সমালোচনা করে নাঈম আহমাদ বলেন, এই আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগের তদন্তের ক্ষমতা পুলিশকেই দেওয়া হয়েছে। তার মতে, কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরিও যেখানে পুলিশ গ্রহণ করেনি, সেখানে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তে সত্য বেরিয়ে আসবে—এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। এছাড়া ২১ ধারা অনুযায়ী, তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগ আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে, যা মিরাজের পরিবারের ক্ষেত্রেও অপব্যবহার হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অবিলম্বে মিরাজ শেখের অবস্থা জনসমক্ষে প্রকাশ এবং অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান জেডিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর প্রস্তাবনা অনুযায়ী মামলার তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে এবং কমিশনকে সব ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা এবং জুলাইয়ের অঙ্গীকার ও সনদ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh