ঢাকা ০২:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সারের ডিলার নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্ত দাবি জামায়াতের সিরাজগঞ্জে ৪০০ গ্যাস সিলিন্ডার লুটের ঘটনায় গ্রেফতার ৩ মহা ষষ্ঠীতে বোধনের মধ্য দিয়ে আগামীকাল শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা অবৈধ সম্পদের মামলায় আবেদ আলীর ছেলে সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড পেশোয়ারে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ শিশুসহ ২৯ জনের মৃত্যু, আহত ৪০ এআই দিয়ে মিথ্যা কনটেন্ট ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী মেহজাবীন মক্কায় মসজিদে অনৈতিক কাজের দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর উত্তরায় ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর পোশাকশ্রমিকদের সরাল পুলিশ ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বার কাউন্সিল এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নতুন বেতনকাঠামোয় বেতন পাওয়ার অপেক্ষায় অনিশ্চয়তা

অধ্যাদেশ বাতিলের ৭ দিনের মাথায় মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:১১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিলের মাত্র সাত দিনের মাথায় মিরাজ শেখ নামের এক ব্যক্তিকে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় দলটির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ এই অভিযোগ করেন। ‘গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম গুম: মিরাজ শেখ কোথায়?’ শীর্ষক এই সভায় তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার ৫৭ দিনের মাথায় মিরাজ শেখকে গুমের মধ্য দিয়ে সরকার শেখ হাসিনা আমলের গুমের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করছে।

নাঈম আহমাদ জানান, গত ৩ এপ্রিল গণমাধ্যমের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিল করা হচ্ছে। এর ঠিক সাত দিনের মাথায় ১০ এপ্রিল বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার জেলে মিরাজ শেখকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ধারণা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার পতনের পর এটিই গুমের প্রথম ঘটনা।

জেডিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, গুমের পথ সহজ করতেই সরকার ওই অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। সরকারের নতুন আইন ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা থাকলেও মিরাজ নিখোঁজের ১৩৩ দিন পার হয়ে গেছে, অথচ সরকার ঘটনাটি অস্বীকার করছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, মিরাজ বেঁচে আছেন কি না, নাকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ইলিয়াস আলীর মতো হত্যা করে সুন্দরবনের নোনা জলে ভাসিয়ে দিয়েছে।

নতুন আইনের সমালোচনা করে নাঈম আহমাদ বলেন, এই আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগের তদন্তের ক্ষমতা পুলিশকেই দেওয়া হয়েছে। তার মতে, কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরিও যেখানে পুলিশ গ্রহণ করেনি, সেখানে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তে সত্য বেরিয়ে আসবে—এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। এছাড়া ২১ ধারা অনুযায়ী, তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগ আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে, যা মিরাজের পরিবারের ক্ষেত্রেও অপব্যবহার হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অবিলম্বে মিরাজ শেখের অবস্থা জনসমক্ষে প্রকাশ এবং অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান জেডিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর প্রস্তাবনা অনুযায়ী মামলার তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে এবং কমিশনকে সব ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা এবং জুলাইয়ের অঙ্গীকার ও সনদ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

অধ্যাদেশ বাতিলের ৭ দিনের মাথায় মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:১১:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিলের মাত্র সাত দিনের মাথায় মিরাজ শেখ নামের এক ব্যক্তিকে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় দলটির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ এই অভিযোগ করেন। ‘গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম গুম: মিরাজ শেখ কোথায়?’ শীর্ষক এই সভায় তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার ৫৭ দিনের মাথায় মিরাজ শেখকে গুমের মধ্য দিয়ে সরকার শেখ হাসিনা আমলের গুমের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি করছে।

নাঈম আহমাদ জানান, গত ৩ এপ্রিল গণমাধ্যমের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিল করা হচ্ছে। এর ঠিক সাত দিনের মাথায় ১০ এপ্রিল বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার জেলে মিরাজ শেখকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ধারণা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার পতনের পর এটিই গুমের প্রথম ঘটনা।

জেডিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, গুমের পথ সহজ করতেই সরকার ওই অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। সরকারের নতুন আইন ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা থাকলেও মিরাজ নিখোঁজের ১৩৩ দিন পার হয়ে গেছে, অথচ সরকার ঘটনাটি অস্বীকার করছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, মিরাজ বেঁচে আছেন কি না, নাকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ইলিয়াস আলীর মতো হত্যা করে সুন্দরবনের নোনা জলে ভাসিয়ে দিয়েছে।

নতুন আইনের সমালোচনা করে নাঈম আহমাদ বলেন, এই আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগের তদন্তের ক্ষমতা পুলিশকেই দেওয়া হয়েছে। তার মতে, কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরিও যেখানে পুলিশ গ্রহণ করেনি, সেখানে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তে সত্য বেরিয়ে আসবে—এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। এছাড়া ২১ ধারা অনুযায়ী, তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগ আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে, যা মিরাজের পরিবারের ক্ষেত্রেও অপব্যবহার হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অবিলম্বে মিরাজ শেখের অবস্থা জনসমক্ষে প্রকাশ এবং অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান জেডিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর প্রস্তাবনা অনুযায়ী মামলার তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে এবং কমিশনকে সব ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে তিনি দেশে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা এবং জুলাইয়ের অঙ্গীকার ও সনদ বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh