দিনাজপুরে আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা, লক্ষ্য ভালো দাম
- আপডেট সময় : ০৪:৩৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

শীতের মূল মৌসুম শুরুর আগেই বাজারে সবজি সরবরাহ করে বাড়তি লাভের আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের কৃষকেরা। সাধারণ নিয়মে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে শীতকালীন সবজি বাজারে আসে। তবে সে সময় বাজারে সরবরাহ অনেক বেশি থাকায় কৃষকেরা প্রায়ই কাঙ্ক্ষিত দাম পান না। এই পরিস্থিতি এড়াতে এবং বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বাজারে সবজির ঘাটতি ও চড়া দামকে কাজে লাগাতে আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম চাষে ঝুঁকছেন জেলার চাষিরা।
দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উঁচু জমিগুলোতে আগাম শীতকালীন সবজির চারা রোপণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে চাষিদের। দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী, সুন্দরবন, ফাজিলপুর ও আউলিয়াপুর ইউনিয়ন এবং ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর, আলাদীপুর, খয়েরবাড়ী ও দৌলতপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হারে চাষ হচ্ছে শিম, মুলা, ফুলকপি, গাজর, বাঁধাকপি, বেগুন, করলা, কাকরোল, লাউ, লালশাক ও ধনিয়াপাতা। ইতিমধ্যে বাজারে চড়া দামে বিক্রি হতে শুরু করেছে করলা ও টমেটো।
সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামের ৪০ বছর বয়সী কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, এবার তিনি ৪৫ শতক জমিতে তিন ভাগে আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেন। তার ক্ষেতে ইতিমধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, কাঁঠালি বেগুন, টমেটো ও মুলা গাছ বড় হতে শুরু করেছে। আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসব সবজি বাজারে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে পারলে ভালো মুনাফা পাবেন বলে তার প্রত্যাশা।
একইভাবে আলাদীপুর ইউনিয়নের ছোট ভিমলপুর গ্রামের কৃষক হামিদুর ইসলামকে তার ফুলকপির ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করতে দেখা যায়। তিনি জানান, ৩৫ শতাংশ জমিতে আগাম জাতের কপি চাষ করতে এ পর্যন্ত ২২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফসল বাজারে তোলা পর্যন্ত মোট খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে কপি বাজারে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। কপির পাশাপাশি শিম ও শসাও চাষ করেছেন হামিদুর।
ভিমলপুর গ্রামের আরেক চাষি আলামিন হোসেন ৮০ শতাংশ জমিতে ফুলকপির চারা রোপণ করেছেন। তিনি জানান, তার ক্ষেতের আগাম জাতের শিম, মুলা, লালশাক, পুঁইশাক, করলা, পালংশাক, বরবটি, টমেটো ও শসা ইতিমধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে এবং তিনি এগুলোর বেশ ভালো দামও পাচ্ছেন।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩টি উপজেলায় মোট ২৬ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ১৫০ হেক্টর জমি। এছাড়া চলতি বছরে জেলায় ৩৬ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।


























