ঈশ্বরদীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
- আপডেট সময় : ০২:৫৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

পাবনার ঈশ্বরদীতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনের সড়কে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম শরিফ নিজের প্রাইভেটকার চালিয়ে জয়নগরে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। তিনি জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার গাড়ি লক্ষ্য করে সামনে থেকে গুলি চালায়। এতে গাড়িটি থেমে গেলে হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত তৈরি হয়।
হামলার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা জিয়া সাংস্কৃতিক সংসদ (জাসাস)-এর সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক জানান, শরিফুল ইসলাম শরিফের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহত শরিফকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে সম্প্রতি উপজেলার মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। শরিফ ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি পদপ্রত্যাশী হলেও অন্য একজনকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপর শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা বিএনপির আহ্বায়ককে উদ্দেশ্য করে ‘কত টাকায় সভাপতির পদ বেচলেন’ লিখে একটি স্ট্যাটাস দেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া শরিফসহ উপজেলা বিএনপির ছয়টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাঠান। এরপর থেকেই হাবিবপন্থীদের সঙ্গে শরিফের বিরোধটি প্রকাশ্যে রূপ নেয় বলে দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এই রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরেই শরিফের ওপর হামলা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তারা জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।





























