রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল, আবেগঘন বিদায় সভায়
- আপডেট সময় : ০৮:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দুপুর ২টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক চলে। সভায় নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি আগামীকালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।
সভায় দলীয় সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের ঐক্য অটুট রাখা এবং সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব তৈরি না হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। বিএনপির চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের ধারণা দেন এবং মির্জা ফখরুলের পক্ষে ভোট চান। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং মির্জা ফখরুল নিজেও ভোট দেবেন। নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলে তার ঠাকুরগাঁও-৩ আসনটি শূন্য হবে।
বক্তব্য দিতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবেগাপ্লুত হয়ে কয়েকবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময়ে কোনো ভুলভ্রান্তি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে আঘাত দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, জীবন দিয়ে হলেও তা রক্ষা করবেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না বলে জানান তিনি। বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সহকর্মীদের মিস করবেন উল্লেখ করে তিনি সবার কাছে দোয়া চান। সভায় উপস্থিত সংসদ সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মিনিটের বক্তব্যে তিনি চার-পাঁচবার কেঁদেছিলেন, যা সভাকক্ষে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, আজ ঐতিহাসিক একটি দিন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি অপরিহার্য। মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে তিনি দলের হাল ধরেছেন এবং কখনো হাল ছাড়েননি। তাকে কারাবন্দিও করা হয়েছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সতর্ক করে তারেক রহমান বলেন, অনেক সংসদ সদস্যের সঙ্গে এলাকায় দলের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, যা কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে বিধায় এটি চ্যালেঞ্জিং হবে। তিনি যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দিয়ে বিজয়ী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, সেলিমা রহমান ও এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দুপুর ২টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক চলে।




























