জামিনে মুক্ত হলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক
- আপডেট সময় : ০৬:২৪:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

এক বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকার পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। আজ বুধবার বিকেল সোয়া চারটার দিকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। তাঁর আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কারামুক্তির পর সাবেক প্রধান বিচারপতি ধানমন্ডির বাসার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মোট নয়টি মামলা রয়েছে এবং সবকটি মামলায় তিনি আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।
আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, খায়রুল হকের বিরুদ্ধে থাকা ৯টি মামলার মধ্যে সর্বশেষ বনানী থানার মামলায় গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল। গত ১৭ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর ‘নো অর্ডার’ বা কোনো আদেশ দেননি। এর ফলে তাঁর জামিন বহাল থাকে এবং তাঁর কারাগার থেকে মুক্তির পথ সুগম হয়।
এর আগে, পৃথক ছয়টি মামলায় জামিন পাওয়ার পর নতুন করে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে গত ১৩ মে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ১৭ মে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ এই আদেশ স্থগিত চেয়ে লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি) আবেদন করে। গত ৯ আগস্ট আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে আদেশ দেন।
আপিল বিভাগের ওই আদেশে হাইকোর্টের রুলটি দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের অনুমতি ছাড়া সাবেক এই প্রধান বিচারপতি দেশ ত্যাগ করতে পারবেন না বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি হওয়ায় সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া তাঁকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করার হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ববর্তী নির্দেশনা বহাল রয়েছে।
উল্লেখ্য, এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চই ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী (তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা) বাতিল করে রায় দিয়েছিলেন।





























