ঢাকা ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

রাজধানীর বাজারে মাছ, মাংস ও ডিমের দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ডিম, সবজি, মাছ ও মাংসের দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সীমিত আয়ের মানুষ আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ১৬০ টাকা, তবে এক মাস আগে এই ডিম ১২০-১৩০ টাকায় পাওয়া যেত। ডিমের এই দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। কাওরান বাজারে আসা মো. হাকিম অভিযোগ করেন, বাজারে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছেন। অন্যদিকে, ডিম বিক্রেতা আমিনুল ইসলামের দাবি, আড়ত থেকে তাদের বাড়তি দামে কিনতে হয় এবং তারা ডজনপ্রতি মাত্র ৪ থেকে ৬ টাকা লাভ করেন। বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যা ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে খামারে মুরগি মারা যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দামে।

মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০-৩৩০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০-৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর মাংস ৮০০-৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিংড়ি ৮০০-৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, রুই ৩০০-৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, বাইন ৬০০-৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০-৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। কাঁচা মরিচ ১৪০-১৫০ টাকা, বেগুন ১০০-১২০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা, করলা ৮০-১০০ টাকা, ঝিঙা ৮০-৮৫ টাকা, পটল ৬০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, কচুরমুখি ৭০ টাকা এবং কাঁকরোল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নয়াবাজারে বাজার করতে আসা রাকিব হাসান বলেন, নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে ব্যাগ ভরে বাজার করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। ডিম, সবজি, মাছ, মাংস কিংবা ব্রয়লার মুরগি—দামে মিলছে না স্বস্তি। খুচরা পর্যায়ে এক ডজন ডিমের দাম গিয়ে ঠেকেছে ১৫০ টাকায়। একাধিক সবজির কেজি ১০০ টাকার ওপরে। কিছু সবজির কেজি ৮০ টাকার আশপাশে।

নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রাকিব হাসান বলেন, সবজির দাম শুনলেই এখন অবাক হতে হয়। একেকটা সবজির কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার ওপরে। মাছ-মাংসের দামও অনেক বেড়েছে। পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে গিয়ে বাজেটের সঙ্গে কোনোভাবেই মিলাতে পারছি না। আগে যে টাকায় ব্যাগ ভরে বাজার করা যেত, এখন সেই টাকায় অল্প কিছু পণ্য কেনা যায়। আয় না বাড়লেও নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে। তাতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজধানীর বাজারে মাছ, মাংস ও ডিমের দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ডিম, সবজি, মাছ ও মাংসের দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সীমিত আয়ের মানুষ আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ১৬০ টাকা, তবে এক মাস আগে এই ডিম ১২০-১৩০ টাকায় পাওয়া যেত। ডিমের এই দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। কাওরান বাজারে আসা মো. হাকিম অভিযোগ করেন, বাজারে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছেন। অন্যদিকে, ডিম বিক্রেতা আমিনুল ইসলামের দাবি, আড়ত থেকে তাদের বাড়তি দামে কিনতে হয় এবং তারা ডজনপ্রতি মাত্র ৪ থেকে ৬ টাকা লাভ করেন। বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যা ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে খামারে মুরগি মারা যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দামে।

মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০-৩৩০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০-৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর মাংস ৮০০-৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে পাঙাশ ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিংড়ি ৮০০-৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, রুই ৩০০-৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, বাইন ৬০০-৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০-৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। কাঁচা মরিচ ১৪০-১৫০ টাকা, বেগুন ১০০-১২০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা, করলা ৮০-১০০ টাকা, ঝিঙা ৮০-৮৫ টাকা, পটল ৬০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, কচুরমুখি ৭০ টাকা এবং কাঁকরোল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নয়াবাজারে বাজার করতে আসা রাকিব হাসান বলেন, নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে ব্যাগ ভরে বাজার করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। ডিম, সবজি, মাছ, মাংস কিংবা ব্রয়লার মুরগি—দামে মিলছে না স্বস্তি। খুচরা পর্যায়ে এক ডজন ডিমের দাম গিয়ে ঠেকেছে ১৫০ টাকায়। একাধিক সবজির কেজি ১০০ টাকার ওপরে। কিছু সবজির কেজি ৮০ টাকার আশপাশে।

নয়াবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রাকিব হাসান বলেন, সবজির দাম শুনলেই এখন অবাক হতে হয়। একেকটা সবজির কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার ওপরে। মাছ-মাংসের দামও অনেক বেড়েছে। পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে গিয়ে বাজেটের সঙ্গে কোনোভাবেই মিলাতে পারছি না। আগে যে টাকায় ব্যাগ ভরে বাজার করা যেত, এখন সেই টাকায় অল্প কিছু পণ্য কেনা যায়। আয় না বাড়লেও নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে। তাতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor