বসুন্ধরায় জন্মদিনের আড়ালে নাশকতার ছক, গ্রেপ্তার ৫৪
- আপডেট সময় : ০৭:১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের আড়ালে নাশকতার পরিকল্পনা চলছিল। ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ড ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ওই ফ্ল্যাটে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে অভিযান চালিয়ে ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৫২ জনকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় দুজনকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী ও মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে যুব মহিলা লীগের নেত্রী মেহজাবিন আক্তার মালা এবং তার স্বামী রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোতালেব হোসেনের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দম্পতি অতীতে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও বালুর ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং বসুন্ধরা এলাকায় তাদের একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে।
অভিযানটি চালানো হয় বসুন্ধরা এম ব্লকের ২৮ নম্বর সড়কের ২১৭৩ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে, যা একজন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের মালিকের। বাড়ির মালিকের সন্দেহ হওয়ায় এবং স্থানীয়দের অস্বস্তির কারণে রাত ৯টার দিকে ভাটারা থানা পুলিশ বাসাটি ঘেরাও করে। তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ প্ররোচনামূলক ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, ফেসমাস্ক এবং নাশকতার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ১৫ আগস্টের আগে রাজধানীতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশ এখন গ্রেপ্তারকৃতদের অর্থের উৎস, কার নির্দেশে বৈঠক হয়েছে এবং তাদের পরবর্তী কর্মসূচি কী ছিল তা খতিয়ে দেখছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ৩১ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে মোট ৯১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে বনানীতে মিছিলের প্রস্তুতি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজন এবং আর্মি স্টেডিয়ামের কাছে মশাল মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।


























