ঢাকা ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে চকবাজারের মনসুর খান প্লাজার আগুন ১২ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে চকবাজারের মনসুর খান প্লাজার আগুন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ফের কিছুটা পতন টিকাটুলিতে বাসের রেষারেষিতে প্রাণ গেল গৃহকর্মী রিনা রানীর ফিলিস্তিন রক্ষার দায়বদ্ধতা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় আগুন: সাত ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি ইসরায়েলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর জীবন ও প্রতিকূলতার বাস্তব চিত্র পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করল ইসি বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্টের সঙ্গে থাকছে চ্যাম্পিয়নস লিগের জমজমাট লড়াই ঢাকা-দিল্লি বাণিজ্য আলোচনা: অমীমাংসিত রয়ে গেল পুরনো সব বাধা

সামিটের টার্মিনালে এলএনজি সরবরাহ শুরু, এক্সিলারেটে নতুন কারিগরি ত্রুটি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট চলছে। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সামিটের টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধ হলে সংকট আরও বেড়ে যায়। তবে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় এলএনজি নিয়ে নতুন একটি জাহাজ বঙ্গোপসাগরে এসেছে। এই জাহাজ থেকে রাতের মধ্যে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর করা হবে। সে কারণে সামিটের টার্মিনাল থেকে ইতিমধ্যে স্বল্পমাত্রায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আগামীকাল শনিবার সকালের মধ্যে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করবে।

জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা, আর আমদানির কাজটি করে পেট্রোবাংলার রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। আমদানির সঙ্গে যুক্ত এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে আজ বিকেল চারটায় আবার বন্ধ হয়ে গেছে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল। রাত আটটা পর্যন্ত সেখান থেকে সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হয়নি, যা গ্যাসের সংকটকে আরও তীব্র করেছে।

পেট্রোবাংলার দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরামকোর পাঠানো আগের জাহাজটি থেকে এলএনজি নেওয়া যায়নি। জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সক্ষমতা ওই জাহাজের ছিল না, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণেও এলএনজি নেওয়া সম্ভব হয়নি। গতকাল জাহাজটি ফেরত পাঠানোর কথা বলা হয়েছে এবং আরামকো এর বদলে আরেকটি জাহাজ পাঠাবে। তবে আজ সন্ধ্যা ৭টায় ভিটল এশিয়ার নতুন জাহাজটি সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হয়েছে। এলএনজি স্থানান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহ শুরু করতে সাধারণত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। সেই হিসেবে আজ রাত ২টায় সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা। এরপর ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ানো হবে এবং সকালে এটি ৫০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে। ইতিমধ্যে সামিট তাদের টার্মিনালে থাকা আগের মজুত থেকে ৯ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ দিতে শুরু করেছে।

এর আগে মজুত ফুরিয়ে যাওয়া রোধ করতে গত সোমবার সন্ধ্যা থেকেই সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমানো হয়েছিল। মঙ্গলবার এটি ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে এবং বুধবার থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা হচ্ছিল। গতকাল বিকেল ৫টায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ রাতে জানান, বৈরী আবহাওয়ায় আরামকোর জাহাজ থেকে এলএনজি নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এক্সিলারেটের টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি যেকোনো সময় ঠিক হয়ে সরবরাহ শুরু হবে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়, যা গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেয়। এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার আছে, যার প্রতিটি ৩০ কোটি ঘনফুট সক্ষমতার। একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছিল। এটি বন্ধের পর সরবরাহ শূন্য হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টার্মিনাল থেকে ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে, তবে এর সময় এখনো নির্দিষ্ট হয়নি।

দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়, যার মধ্যে এলএনজি থেকে আসে ১০৫ কোটি ঘনফুট। গতকাল বিকেলের আগেও মোট সরবরাহ ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট, যা বিকেলের পর থেকে কমে ১৯৩ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এলএনজি সরবরাহ ৩০ কোটি ঘনফুটের কম হচ্ছে। সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ শুরু হলে ধাপে ধাপে ৫০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত করা হবে, এতে এলএনজি থেকে মোট সরবরাহ ৮০ কোটি ঘনফুট এবং দিনের মোট সরবরাহ ২৪৩ কোটি ঘনফুটে দাঁড়াবে। তবে এক্সিলারেটের টার্মিনাল রাতে ঠিক না হলে আগামীকালও সরবরাহ ২০৩ কোটি ঘনফুটে থাকতে পারে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান নেই। গত দুই দিন বৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা ও লোডশেডিং কিছুটা কমেছে, তবে গরম বাড়লে আবার ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সামিটের টার্মিনালে এলএনজি সরবরাহ শুরু, এক্সিলারেটে নতুন কারিগরি ত্রুটি

আপডেট সময় : ০৯:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট চলছে। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সামিটের টার্মিনাল থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধ হলে সংকট আরও বেড়ে যায়। তবে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় এলএনজি নিয়ে নতুন একটি জাহাজ বঙ্গোপসাগরে এসেছে। এই জাহাজ থেকে রাতের মধ্যে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর করা হবে। সে কারণে সামিটের টার্মিনাল থেকে ইতিমধ্যে স্বল্পমাত্রায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আগামীকাল শনিবার সকালের মধ্যে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করবে।

জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা, আর আমদানির কাজটি করে পেট্রোবাংলার রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। আমদানির সঙ্গে যুক্ত এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে আজ বিকেল চারটায় আবার বন্ধ হয়ে গেছে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল। রাত আটটা পর্যন্ত সেখান থেকে সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হয়নি, যা গ্যাসের সংকটকে আরও তীব্র করেছে।

পেট্রোবাংলার দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরামকোর পাঠানো আগের জাহাজটি থেকে এলএনজি নেওয়া যায়নি। জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সক্ষমতা ওই জাহাজের ছিল না, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণেও এলএনজি নেওয়া সম্ভব হয়নি। গতকাল জাহাজটি ফেরত পাঠানোর কথা বলা হয়েছে এবং আরামকো এর বদলে আরেকটি জাহাজ পাঠাবে। তবে আজ সন্ধ্যা ৭টায় ভিটল এশিয়ার নতুন জাহাজটি সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হয়েছে। এলএনজি স্থানান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহ শুরু করতে সাধারণত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় লাগে। সেই হিসেবে আজ রাত ২টায় সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা। এরপর ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ানো হবে এবং সকালে এটি ৫০ কোটি ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে। ইতিমধ্যে সামিট তাদের টার্মিনালে থাকা আগের মজুত থেকে ৯ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ দিতে শুরু করেছে।

এর আগে মজুত ফুরিয়ে যাওয়া রোধ করতে গত সোমবার সন্ধ্যা থেকেই সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমানো হয়েছিল। মঙ্গলবার এটি ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে এবং বুধবার থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা হচ্ছিল। গতকাল বিকেল ৫টায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ রাতে জানান, বৈরী আবহাওয়ায় আরামকোর জাহাজ থেকে এলএনজি নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এক্সিলারেটের টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি যেকোনো সময় ঠিক হয়ে সরবরাহ শুরু হবে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়, যা গ্যাসের সরবরাহ কমিয়ে দেয়। এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার আছে, যার প্রতিটি ৩০ কোটি ঘনফুট সক্ষমতার। একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছিল। এটি বন্ধের পর সরবরাহ শূন্য হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য টার্মিনাল থেকে ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে, তবে এর সময় এখনো নির্দিষ্ট হয়নি।

দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়, যার মধ্যে এলএনজি থেকে আসে ১০৫ কোটি ঘনফুট। গতকাল বিকেলের আগেও মোট সরবরাহ ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট, যা বিকেলের পর থেকে কমে ১৯৩ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এলএনজি সরবরাহ ৩০ কোটি ঘনফুটের কম হচ্ছে। সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ শুরু হলে ধাপে ধাপে ৫০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত করা হবে, এতে এলএনজি থেকে মোট সরবরাহ ৮০ কোটি ঘনফুট এবং দিনের মোট সরবরাহ ২৪৩ কোটি ঘনফুটে দাঁড়াবে। তবে এক্সিলারেটের টার্মিনাল রাতে ঠিক না হলে আগামীকালও সরবরাহ ২০৩ কোটি ঘনফুটে থাকতে পারে। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান নেই। গত দুই দিন বৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা ও লোডশেডিং কিছুটা কমেছে, তবে গরম বাড়লে আবার ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo