নিজ দপ্তরে ১২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ চুয়েটের উপাচার্য, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন
- আপডেট সময় : ০২:৩০:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম সোমবার দুপুর ১২টা থেকে দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা ধরে নিজ দপ্তরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিলে তিনি ভেতরে আটকা পড়েন। রাত ১২টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। উপাচার্য ছাড়াও চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, তাঁর সহযোগী এবং কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছেন।
উপাচার্যের দপ্তরে অবরুদ্ধ থাকাকালীন সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন। যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, তাদের আন্দোলন কোনো ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে নয়, তবে উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার আগে শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন আটকে দেওয়া এবং তালা ভেঙে অফিসে প্রবেশের ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপাচার্য চুয়েটের বাসে হামলা করিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, উপাচার্য পদত্যাগ না করলে বিদ্যুৎ, পানিসহ কোনো সুযোগ–সুবিধা তাঁকে দেওয়া হবে না। রাত ১০টার দিকে রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা ক্যাম্পাসে এসে অবরুদ্ধদের জন্য খাবার ও পানির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানালে শিক্ষার্থীরা খাবার ও পানি প্রবেশের অনুমতি দিলেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন, যার ফলে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সোমবার শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সভায় নতুন উপাচার্যের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তারা ‘সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি’ পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।



























