ইসরায়েলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর জীবন ও প্রতিকূলতার বাস্তব চিত্র
- আপডেট সময় : ০৭:৫৯:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

দখলদার ইসরায়েলের জন্ম ইতিহাস রাজনৈতিক সংঘাত, উপনিবেশবাদী হস্তক্ষেপ এবং জটিল আন্তর্জাতিক রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ভৌগোলিকভাবে ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরের তীরবর্তী এই দেশটি লেবানন, সিরিয়া, জর্দান, ফিলিস্তিন ও মিসরের সীমান্তে অবস্থিত। তেল আবিবকে অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হলেও জেরুজালেম নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক বিদ্যমান।
২০২৩ সালের শেষ নাগাদ ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার ১৮.১ শতাংশ বা প্রায় ১৭.৮২ মিলিয়ন মানুষ মুসলিম, যাদের অধিকাংশ আরব সুন্নি। জেরুজালেমে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার মুসলমান বাস করেন, যা শহরের মোট জনসংখ্যার ৩৮.১ শতাংশ। দেশটিতে নাগরিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে মুসলিমরা প্রতিনিয়ত জটিলতা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হন। যদিও তাদের ভোটাধিকার রয়েছে এবং সংসদে প্রতিনিধিত্বও করেন, তবে মূলধারার রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ সীমিত এবং তাদের কণ্ঠস্বর প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। এছাড়া কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নমূলক কার্যক্রমেও তারা নানা বাধার সম্মুখীন হন। অনেক মুসলিম নাগরিক ভূমি ও নির্মাণ অনুমতির ক্ষেত্রে সরকারি ও সামাজিক কাঠামোগত বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন।
তবে ইসরায়েলের সব শহরের পরিস্থিতি অভিন্ন নয়। আমেরিকান অ্যাক্টিভিস্ট আইজা মেরকের মতে, হাইফা শহরটি 'নো নিউজ সিটি' হিসেবে পরিচিত, যেখানে মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস ও কাজ করেন। তিনি একটি হাসপাতালের উদাহরণ দিয়ে জানান, সেখানে সমান সংখ্যক মুসলিম ও ইহুদি চিকিৎসক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। তবে অন্যান্য এলাকায় ধর্মীয় স্বাধীনতা পালনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় ও ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার অজুহাতে প্রবেশ সীমিত করার অভিযোগ রয়েছে।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের কারণে মুসলিম জনগোষ্ঠীর জীবনে দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলিদের উগ্র আচরণ তাদের জন্য চরম বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। জেরুজালেমের পুরোনো শহরে মিছিলের সময় উগ্রপন্থীদের 'আরবদের মৃত্যু হোক' বা 'তোমাদের গ্রাম জ্বলে যাক' স্লোগান দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ ও জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর কার্যালয়ে আগ্রাসী অনুপ্রবেশ, ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগও গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।



























