এসএসসি পরীক্ষায় ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার
- আপডেট সময় : ০৩:১৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিন উচ্চ পাসের হারের পর টানা দুই বছর ধরে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিম্নমুখী দেখা যাচ্ছে। গত সোমবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার পাসের হার ৬৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার আরও কমেছে এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও প্রায় ১৯ হাজার হ্রাস পেয়েছে। গত বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা সার্বিক পাসের হার কমার প্রধান কারণ। কুমিল্লা ছাড়া আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডেই ইংরেজিতে পাসের হার ৮০ শতাংশের নিচে। গণিতেও কয়েকটি বোর্ডে ফল তুলনামূলক ভালো হয়নি। যেহেতু এই দুটি বিষয় বাধ্যতামূলক, তাই এগুলোতে অকৃতকার্য হওয়ার প্রভাব সরাসরি সার্বিক পাসের হারে পড়েছে। এর সঙ্গে মানবিক বিভাগের দুর্বল ফলাফলও যুক্ত হয়েছে। মানবিক বিভাগে ছয় লাখের বেশি পরীক্ষার্থী থাকলেও বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষার তুলনায় পাসের হার অনেক কম, যা সামগ্রিক ফলাফলকে নিম্নমুখী করেছে।
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬১০ জন। অর্থাৎ ৫ লাখ ৪ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি, যা মোট পরীক্ষার্থীর এক-তৃতীয়াংশের বেশি। এছাড়া শতভাগ অকৃতকার্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। এবার ৫৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, যেখানে গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪৮টি।
লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, ছাত্রীরা পাসের হার ও পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা—উভয় ক্ষেত্রেই এগিয়ে। ছাত্রীদের পাসের হার প্রায় ৬৮ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের প্রায় ৬০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রীরা এগিয়ে; এবার জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৫৮ হাজারের বেশি এবং ছাত্রের সংখ্যা প্রায় ৪৭ হাজারের বেশি। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার মোট ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন। পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড শীর্ষে এবং ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, প্রায় ১০ বছর বিদ্যালয়ে পড়ার পর পাঁচ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হতে না পারা এবং ইংরেজি-গণিতে বড় ধরনের দুর্বলতা বিদ্যালয়ের শিখন মান, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি নতুন করে পর্যালোচনার দাবি রাখে। একই দিনে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ভোকেশনাল ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলও প্রকাশ করা হয়েছে।
ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবারের ফলাফলকে 'সুন্দর' বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, 'মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়া যায় না।' অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্র নির্মোহভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
এসএসসির পাসের হারে গত দুই দশকে বড় ওঠানামা হয়েছে। ২০০৭ সালে পাসের হার ছিল প্রায় ৫৭ শতাংশ। ২০০৮ সাল থেকে পাসের হার বাড়তে শুরু করে এবং দীর্ঘ সময় তা ৮০ শতাংশের ওপরে ছিল। ১৯৯০ সালে পাসের হার ছিল প্রায় ৩২ শতাংশ। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত পাসের হার ৬১ থেকে ৭৩ শতাংশের মধ্যে ছিল। শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু পাস বা অকৃতকার্য নিয়ে আলোচনা সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
২০২৫ সালে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।


























