ঢাকা ০১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুদ্ধ ছড়াতে চায় না ইরান, সীমান্ত রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: পেজেশকিয়ান সিরাজগঞ্জে ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানলে সাত শতাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত সিরাজগঞ্জে ট্রেন লাইনচ্যুত: ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ঘিরে দেশজুড়ে র‍্যাবের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পান্ডব নদীর ভাঙনে মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার পথে দক্ষিণ সাদিস পোশাক রপ্তানিতে টানা পঞ্চমবারের মতো দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ বগুড়ায় ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের ভারত থেকে বেনাপোল স্থলবন্দরে কাঁচা মরিচের প্রথম চালান পৌঁছাল ঢাকায় ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে ৪৫৮ জন গ্রেপ্তার

রাঙ্গুনিয়ায় থামছে না পাহাড় কাটা, সক্রিয় নতুন সিন্ডিকেট

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৯:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না অবৈধভাবে পাহাড় কাটা। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও এই পাহাড়খেকোদের তৎপরতা থামেনি, বরং নতুন করে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাহাড়ি মাটি বিক্রির সিন্ডিকেট। উত্তর রাঙ্গুনিয়ার ১ নম্বর রাজানগর, ইসলামপুর ও দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে পাহাড় কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে। এর ফলে উজাড় হয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের ফলদ গাছপালা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাহাড় কেটে সংগৃহীত এই মাটি মূলত স্থানীয় ব্রিকফিল্ড (ইটের ভাটা) এবং আশপাশের ফসলি জমি ভরাট করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা খবর পেয়ে মাঝেমধ্যে অভিযানে গেলেও, তারা পৌঁছানোর আগেই পাহাড় কাটার সরঞ্জাম নিয়ে পালিয়ে যায় চক্রটি। স্থানীয়রা জানান, নিজস্ব জায়গার পাশাপাশি বন বিভাগের মালিকানাধীন সরকারি খাস পাহাড় থেকেও মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি এই সিন্ডিকেট ঢালু থেকে শুরু করে প্রায় ২০ ফুট উঁচু পাহাড়গুলোও কেটে সাবাড় করছে, যা রক্ষার দায়িত্ব ছিল বন বিভাগের।

গত মঙ্গলবার গভীর রাতে দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের মুহাম্মদপুর গ্রামে বেলাল নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে পাহাড় কাটার সময় অভিযান চালায় বন বিভাগ ও পুলিশ। এ সময় মাটি ফেলে অন্য ট্রাকগুলো পালিয়ে গেলেও একটি ট্রাক জব্দ করতে সক্ষম হয় বন বিভাগ। স্থানীয় বন রেঞ্জার জানান, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে এসব পাহাড় কেটে বিভিন্ন ব্রিকফিল্ডসহ বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে। এই বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং উপজেলা প্রশাসন অনেক কিছু জেনেও না জানার ভান করে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে এই অঞ্চলের পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

তবে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন সব সময় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করে আসছে। যেখানেই পাহাড় কাটার খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাহাড় কাটার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এ কাজে জড়িত কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১০: ০৮আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১০: ৩৯

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়ায় থামছে না পাহাড় কাটা, সক্রিয় নতুন সিন্ডিকেট

আপডেট সময় : ১০:৪৯:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
print news

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না অবৈধভাবে পাহাড় কাটা। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও এই পাহাড়খেকোদের তৎপরতা থামেনি, বরং নতুন করে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাহাড়ি মাটি বিক্রির সিন্ডিকেট। উত্তর রাঙ্গুনিয়ার ১ নম্বর রাজানগর, ইসলামপুর ও দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতের আঁধারে ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে পাহাড় কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে। এর ফলে উজাড় হয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের ফলদ গাছপালা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পাহাড় কেটে সংগৃহীত এই মাটি মূলত স্থানীয় ব্রিকফিল্ড (ইটের ভাটা) এবং আশপাশের ফসলি জমি ভরাট করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা খবর পেয়ে মাঝেমধ্যে অভিযানে গেলেও, তারা পৌঁছানোর আগেই পাহাড় কাটার সরঞ্জাম নিয়ে পালিয়ে যায় চক্রটি। স্থানীয়রা জানান, নিজস্ব জায়গার পাশাপাশি বন বিভাগের মালিকানাধীন সরকারি খাস পাহাড় থেকেও মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি এই সিন্ডিকেট ঢালু থেকে শুরু করে প্রায় ২০ ফুট উঁচু পাহাড়গুলোও কেটে সাবাড় করছে, যা রক্ষার দায়িত্ব ছিল বন বিভাগের।

গত মঙ্গলবার গভীর রাতে দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের মুহাম্মদপুর গ্রামে বেলাল নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে পাহাড় কাটার সময় অভিযান চালায় বন বিভাগ ও পুলিশ। এ সময় মাটি ফেলে অন্য ট্রাকগুলো পালিয়ে গেলেও একটি ট্রাক জব্দ করতে সক্ষম হয় বন বিভাগ। স্থানীয় বন রেঞ্জার জানান, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে এসব পাহাড় কেটে বিভিন্ন ব্রিকফিল্ডসহ বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে। এই বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর এবং উপজেলা প্রশাসন অনেক কিছু জেনেও না জানার ভান করে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে এই অঞ্চলের পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

তবে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন সব সময় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করে আসছে। যেখানেই পাহাড় কাটার খবর পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাহাড় কাটার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, এ কাজে জড়িত কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১০: ০৮আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১০: ৩৯

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh