ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, যুক্তিতর্ক ৪ আগস্ট

- আপডেট সময় : ০৩:০৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আগামী ৪ আগস্ট এ মামলার যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
রোববার (২ আগস্ট) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আদালতের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এদিন তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান জেরা করেন। এই জেরার মাধ্যমেই সাক্ষ্যগ্রহণের পর্যায়টি শেষ হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে এ সময় শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সাথে ছিলেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।
মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই সাংবাদিক আশরাফ কায়সার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তিনি তার জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিবরণ দেন। এর আগে ২৭ এপ্রিল প্রথম দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয় এবং তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় সাক্ষ্য দেওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।
তালিকায় থাকা অন্য অভিযুক্তরা হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। বর্তমানে তারা সবাই পলাতক রয়েছেন।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত। এরপর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরুর আদেশ প্রদান করা হয়। প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য, প্ররোচনা এবং বিভিন্ন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাদের নির্দেশনায় সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশজুড়ে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে প্রসিকিউশন উল্লেখ করেছে।
























