ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমেই হবে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ, আশ্বস্ত শিক্ষক নেতারা বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সরাসরি দেখবেন যেভাবে বিএনপি অলিগার্ক তোষণের পথে হাঁটছে, অভিযোগ নাহিদ ইসলামের গাজীপুর সাফারি পার্কে দুই হাতির মৃত্যু ১১ অক্টোবর সিডনিতে বসছে চট্টগ্রাম ক্লাবের স্প্রিং ফেয়ার ২০২৬ সাংবাদিক নুর মোহাম্মদকে হত্যার হুমকি, ইরাব ও বিএসআরএফের তীব্র নিন্দা ব্রেন ক্যানসারে আক্রান্ত শিশু নূরের চিকিৎসায় সাহায্যের আকুল আবেদন বরিশালে আদালত প্রাঙ্গণে বিস্ফোরণ, সাভারে জেএমবি আস্তানায় অভিযান বোয়ালমারীতে আওয়ামী লীগ নেতা এস এম ফারুক গ্রেপ্তার আনসার ও ভিডিপির ফ্রিল্যান্সিং কোর্সের প্রশিক্ষণার্থী বাছাই সম্পন্ন

তিস্তায় ফের বিপৎসীমার ওপরে পানি, বন্যার আশঙ্কায় নদীপাড়ের বাসিন্দারা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৯:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আবারও ফুলে-ফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী। সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করায় তিস্তা অববাহিকাজুড়ে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ দুপুর ৩টায় পানি ছিল বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবো ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। তিনি জানান, উজান থেকে প্রবল ঢল নেমে আসছে এবং আগাম পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার প্রায় ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। পাউবোর পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, রোববার রাত ৯টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৮ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও রাতের মধ্যে তা অতিক্রমের আশঙ্কা রয়েছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়ন এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে, কেবল পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার ২০০ এবং টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গত দুই মাসে পঞ্চমবারের মতো পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীপাড়ের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। কৃষক হাসান আলী জানান, বারবার বন্যার পানিতে তার আমন ধানের চারা, ভুট্টা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ভারতের সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার উজানে জলপাইগুড়ির দো-মোহনী এবং কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে ওঠায় কমলা সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকায়। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে গাইবান্ধার তিস্তা এবং কুড়িগ্রামের ধরলা নদীও সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে পঞ্চমবারের মতো তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা ওপরে ওঠায় কৃষি ও জনজীবনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

তিস্তায় ফের বিপৎসীমার ওপরে পানি, বন্যার আশঙ্কায় নদীপাড়ের বাসিন্দারা

আপডেট সময় : ০৮:১৯:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আবারও ফুলে-ফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী। সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করায় তিস্তা অববাহিকাজুড়ে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ দুপুর ৩টায় পানি ছিল বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাউবো ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। তিনি জানান, উজান থেকে প্রবল ঢল নেমে আসছে এবং আগাম পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার প্রায় ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। পাউবোর পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, রোববার রাত ৯টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৮ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও রাতের মধ্যে তা অতিক্রমের আশঙ্কা রয়েছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়ন এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে, কেবল পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার ২০০ এবং টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গত দুই মাসে পঞ্চমবারের মতো পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীপাড়ের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। কৃষক হাসান আলী জানান, বারবার বন্যার পানিতে তার আমন ধানের চারা, ভুট্টা, বাদাম ও মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ভারতের সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার উজানে জলপাইগুড়ির দো-মোহনী এবং কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে ওঠায় কমলা সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকায়। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে গাইবান্ধার তিস্তা এবং কুড়িগ্রামের ধরলা নদীও সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে পঞ্চমবারের মতো তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা ওপরে ওঠায় কৃষি ও জনজীবনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin