ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট ওমান উপকূলে মিসাইল হামলার কবলে বাংলাদেশি নাবিকদের জাহাজ ইবির সাদ্দাম হলের একই কক্ষের তিন বন্ধু হলেন সিভিল জজ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান নিউইয়র্কে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

জলঢাকায় প্রতিবন্ধী নারীর ঠাই  ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় প্রয়োজন মাথা গোঁজার ঠাঁই

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, বুরো চিপ, রংপুর বিভাগ:
  • আপডেট সময় : ১২:৪৫:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫ ১৮৩ বার পড়া হয়েছে

জলঢাকায় প্রতিবন্ধী নারীর ঠাই  ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় প্রয়োজন মাথা গোঁজার ঠাঁই

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান,
বুরো চিপ, রংপুর বিভাগ:

আকাশে মেঘ ডাকলে আমার ভয় করে, ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে আমার কি হবে।রাতে আকাশে যখন যতক্ষণ মেঘ ডাকে আমি তখন বসে বসে কেঁদেছি। বিশেষ করে রাতে যখন আশে পাশে কেউ থাকে না। তাই আমাকে একটু মাথা গোজার ঠাই দিন যতদিন বাচবো দোয়া করবো।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কেঁদে-কেঁদে এসব কথা বলছিলেন নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় আশ্রয় নেওয়া ভুমিহীন অসহায় দারিদ্র্য ও প্রতিবন্ধী নারী সুমাইয়া বেগম (৪১)। বাবা মারা যাওয়ার পর অসহায় এই অবিবাহিত নারীর আপন বলতে কেউ নেই।
সুমাইয়া বলেন, তিনি অবিবাহিত, তার বাড়ী ছিল কৈমারী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের পাটবাড়ী এলাকায়। তার বাবা মৃত সইদার ও মাতা ছানু বেগম।তার কোন ভাই বোন নাই,তবে মা আছেন, কিন্তু খবর নেননা। তিনি আরও বলেন ১৩ বছর বয়সে আমার প্রতিবন্ধিতা দেখা দেয়। বাবার মৃত্যুর পর মায়ের সঙ্গে থেকেছি।মা আমায় রেখে চলে গেছেন অনেক আগে। তাই কোথাও আশ্রয় না পেয়ে পরিষদের এই বারান্দায় ২ মাস আগে আশ্রয় নিই। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কখনো খেয়ে আবার না খেয়ে থাকি। তারা দিলে খাই না দিলে খাই না ।তিনি আরও বলেন, আমাকে একটি থাকার জায়গা করে দেন। আমি সরকারী কোন সাহায্য ও সহযোগিতা পাইনি।

কৈমারী ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার এক দোকানদার বলেন, প্রতিবন্ধী অসহায় সুমাইয়া ২ মাস যাবৎ পরিষদের বারান্দায় থাকছেন। আমরা সবাই মিলে তাকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করি। এলাকাবাসী তাকে খাবার দেয়। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার একটি থাকার জায়গা করে দেওয়া প্রয়োজন

কৈমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলমগীর জানান, পরিষদের বারান্দায় আশ্রয় নেওয়া নারীকে আমরা সহযোগিতা করছি যাতে তার কোন সমস্যা না হয়। তিনি আরও বলেন এই প্রতিবন্ধীরা এক ধরণের অবহেলার শিকার।তাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় তারা এখন পরিষদের বারান্দা সহ বিভিন্ন স্থানে থাকছে। তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করার দাবী জানান।

ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের সর্দার আজহারুল ইসলাম জানান,ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় দুই মাস ধরে আশ্রয় নেওয়া প্রতিবন্ধী সুমাইয়া কে আমি আমার সাধ্যমত তিনবেলা খাওয়ার ব্যাবস্থা করি ও তার ভালো মন্দ দেখাশুনা করি। এবং এলাকাবাসী ও তাকে খাওয়া সহ বিভিন্ন সহযোগিতা করে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধীদের থাকার কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই, তাই তারা ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দার মতো খোলা জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। তাদের থাকার জন্য আশ্রয় কেন্দ্র করার দাবী জানান।

কৈমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেকুল সিদ্দিক সাদেক জানান, একজন প্রতিবন্ধী নারী আশ্রয়হীন হয়ে পরিষদের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছে। এই ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। তবে আমি শুনেছি পরিষদের বারান্দায় আশ্রয় নেওয়া প্রতিবন্ধী সুমাইয়া ভুমিহীন অসহায় দারিদ্র্য।তার মা থেকেও নাই। তার কোন বাড়ী ঘর নাই,তাই সে বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছে।চেষ্টা করছি তার জন্য কিছু করার।তিনি আর ও জানান প্রতিবন্ধীদের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্রের অভাব থাকায় তারা বারান্দায় সহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। তাই তাদের জন্য উন্নত আশ্রয় ও সেবার দরকার।ও তাদের প্রতি সমাজের বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ মনোযোগ দেওয়ার আহবান জানান।

জলঢাকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ইউএনও ও এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবন্ধী সুমাইয়ার জন্য কিছু করার চেষ্টা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

জলঢাকায় প্রতিবন্ধী নারীর ঠাই  ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় প্রয়োজন মাথা গোঁজার ঠাঁই

আপডেট সময় : ১২:৪৫:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান,
বুরো চিপ, রংপুর বিভাগ:

আকাশে মেঘ ডাকলে আমার ভয় করে, ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে আমার কি হবে।রাতে আকাশে যখন যতক্ষণ মেঘ ডাকে আমি তখন বসে বসে কেঁদেছি। বিশেষ করে রাতে যখন আশে পাশে কেউ থাকে না। তাই আমাকে একটু মাথা গোজার ঠাই দিন যতদিন বাচবো দোয়া করবো।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কেঁদে-কেঁদে এসব কথা বলছিলেন নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় আশ্রয় নেওয়া ভুমিহীন অসহায় দারিদ্র্য ও প্রতিবন্ধী নারী সুমাইয়া বেগম (৪১)। বাবা মারা যাওয়ার পর অসহায় এই অবিবাহিত নারীর আপন বলতে কেউ নেই।
সুমাইয়া বলেন, তিনি অবিবাহিত, তার বাড়ী ছিল কৈমারী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের পাটবাড়ী এলাকায়। তার বাবা মৃত সইদার ও মাতা ছানু বেগম।তার কোন ভাই বোন নাই,তবে মা আছেন, কিন্তু খবর নেননা। তিনি আরও বলেন ১৩ বছর বয়সে আমার প্রতিবন্ধিতা দেখা দেয়। বাবার মৃত্যুর পর মায়ের সঙ্গে থেকেছি।মা আমায় রেখে চলে গেছেন অনেক আগে। তাই কোথাও আশ্রয় না পেয়ে পরিষদের এই বারান্দায় ২ মাস আগে আশ্রয় নিই। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কখনো খেয়ে আবার না খেয়ে থাকি। তারা দিলে খাই না দিলে খাই না ।তিনি আরও বলেন, আমাকে একটি থাকার জায়গা করে দেন। আমি সরকারী কোন সাহায্য ও সহযোগিতা পাইনি।

কৈমারী ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার এক দোকানদার বলেন, প্রতিবন্ধী অসহায় সুমাইয়া ২ মাস যাবৎ পরিষদের বারান্দায় থাকছেন। আমরা সবাই মিলে তাকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করি। এলাকাবাসী তাকে খাবার দেয়। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার একটি থাকার জায়গা করে দেওয়া প্রয়োজন

কৈমারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলমগীর জানান, পরিষদের বারান্দায় আশ্রয় নেওয়া নারীকে আমরা সহযোগিতা করছি যাতে তার কোন সমস্যা না হয়। তিনি আরও বলেন এই প্রতিবন্ধীরা এক ধরণের অবহেলার শিকার।তাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় তারা এখন পরিষদের বারান্দা সহ বিভিন্ন স্থানে থাকছে। তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করার দাবী জানান।

ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের সর্দার আজহারুল ইসলাম জানান,ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দায় দুই মাস ধরে আশ্রয় নেওয়া প্রতিবন্ধী সুমাইয়া কে আমি আমার সাধ্যমত তিনবেলা খাওয়ার ব্যাবস্থা করি ও তার ভালো মন্দ দেখাশুনা করি। এবং এলাকাবাসী ও তাকে খাওয়া সহ বিভিন্ন সহযোগিতা করে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধীদের থাকার কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই, তাই তারা ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দার মতো খোলা জায়গায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। তাদের থাকার জন্য আশ্রয় কেন্দ্র করার দাবী জানান।

কৈমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেকুল সিদ্দিক সাদেক জানান, একজন প্রতিবন্ধী নারী আশ্রয়হীন হয়ে পরিষদের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছে। এই ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। তবে আমি শুনেছি পরিষদের বারান্দায় আশ্রয় নেওয়া প্রতিবন্ধী সুমাইয়া ভুমিহীন অসহায় দারিদ্র্য।তার মা থেকেও নাই। তার কোন বাড়ী ঘর নাই,তাই সে বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছে।চেষ্টা করছি তার জন্য কিছু করার।তিনি আর ও জানান প্রতিবন্ধীদের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্রের অভাব থাকায় তারা বারান্দায় সহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে। তাই তাদের জন্য উন্নত আশ্রয় ও সেবার দরকার।ও তাদের প্রতি সমাজের বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ মনোযোগ দেওয়ার আহবান জানান।

জলঢাকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, ইউএনও ও এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবন্ধী সুমাইয়ার জন্য কিছু করার চেষ্টা করা হবে।