গোলাপি লবণ কি সাধারণ লবণের চেয়ে বেশি উপকারী?
- আপডেট সময় : ০৭:২৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

নানা পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত উপকারের কথা ভেবে অনেকেই সাধারণ লবণের বিকল্প হিসেবে হিমালয়ান পিংক সল্ট বা গোলাপি লবণ বেছে নেন। এর আকর্ষণীয় গোলাপি রঙ, প্রাকৃতিক উৎস এবং খনিজ উপাদানের উপস্থিতির কারণে একে বেশি স্বাস্থ্যকর মনে করা হয়। তবে সাধারণ লবণের তুলনায় এটি আসলেই কতটা উপকারী, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে রয়েছে ভিন্ন মত।
হিমালয়ান পিংক সল্ট মূলত পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলের সল্ট রেঞ্জ ও খেওড়া লবণখনি থেকে সংগ্রহ করা হয়। ধারণা করা হয়, লাখ লাখ বছর আগে প্রাচীন কোনো জলাধারের পানি শুকিয়ে এই লবণের স্তর তৈরি হয়েছিল। এটি সম্পূর্ণ হাতে সংগ্রহ করা হয় এবং অত্যন্ত কম প্রক্রিয়াজাতকরণের মধ্য দিয়ে যায় বলে এতে সাধারণত বাড়তি কোনো কৃত্রিম উপাদান থাকে না। সাধারণ লবণের মতো এই গোলাপি লবণেরও প্রধান উপাদান হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড। তবে এতে খুবই সামান্য পরিমাণে আয়রনসহ প্রায় ৮৪ ধরনের খনিজ ও অন্যান্য উপাদান থাকতে পারে। মূলত আয়রনের উপস্থিতির কারণেই এই লবণের রঙ গোলাপি দেখায়।
অনেকের দাবি, এই গোলাপি লবণ শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা দূর করতে, শরীরের পিএইচ (pH) ভারসাম্য বজায় রাখতে, বার্ধক্যের লক্ষণ কমাতে, ভালো ঘুমে সহায়তা করতে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। তবে এসব দাবির সপক্ষে পর্যাপ্ত কোনো বৈজ্ঞানিক বা গবেষণাভিত্তিক প্রমাণ নেই।
উদাহরণস্বরূপ, ভালো ঘুমের জন্য পর্যাপ্ত সোডিয়ামের প্রয়োজন হতে পারে এবং অত্যন্ত কম লবণযুক্ত খাবার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। তবে এই উপকারটি কেবল পিংক সল্টের জন্য সুনির্দিষ্ট নয়, বরং যেকোনো লবণে থাকা সোডিয়ামের মাধ্যমেই এই চাহিদা পূরণ সম্ভব। একইভাবে, গোলাপি লবণে থাকা খনিজের পরিমাণ এতটাই সামান্য যে তা শরীরের পিএইচের ভারসাম্য বজায় রাখতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। মানুষের ফুসফুস ও কিডনি প্রাকৃতিকভাবেই শরীরের পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
এছাড়া রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, বার্ধক্য রোধ কিংবা যৌন আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পিংক সল্টের বিশেষ কোনো কার্যকারিতার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি। সাধারণ লবণের সঙ্গে এই লবণের স্বাস্থ্যগত প্রভাব তুলনা করে কোনো নির্ভরযোগ্য গবেষণাও এখন পর্যন্ত করা হয়নি। তাই একটিকে অন্যটির চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর বা উপকারী বলার মতো যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।





























