স্মার্টফোনের আসক্তি: মন্টু ও ঝুমকির সংসারে অশান্তির কালো মেঘ
- আপডেট সময় : ০৯:২৮:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

পুরোনো দোতলা বাড়ির দুই কক্ষে মন্টু ও ঝুমকির সংসার বেশ সুখেই কাটছিল। সকালের শুরু থেকে দুপুরের আহার কিংবা বিকেলের পড়ন্ত বিকেলে বাড়ির কার্নিশে পাশাপাশি বসে থাকা—সব মিলিয়ে তাদের জীবন ছিল ছিমছাম। মন্টুর বাবার রেখে যাওয়া অঢেল সম্পত্তির কারণে পৈত্রিক ব্যবসায় খুব একটা সময় দিতে না হলেও তাদের দিনগুলো ভালোই চলছিল। কিন্তু সম্প্রতি তাদের এই সুখের সংসারে অশান্তির ছায়া ফেলেছে স্মার্টফোন।
ঘটনার সূত্রপাত একদিন দুপুরে। ঝুমকি রান্নাঘরে রুই মাছ ও সবজি রান্নায় ব্যস্ত থাকার সময় তার বড়বোন টিকলির ফোন আসে। রান্না করতে করতে ঝুমকি ও টিকলির দীর্ঘ আলাপ চলতে থাকে। টিকলি তাকে পাশের বাসার ময়না ও তার শাশুড়ির ঝগড়া, নতুন ফোন কেনা এবং বিভিন্ন আত্মীয়ের খবরাখবর নিয়ে নানা গল্প শোনাতে থাকেন। একদিকে ঝুমকির হাতে খুন্তি, অন্যদিকে কানে ফোন—এভাবে দীর্ঘসময় ধরে কথা বলতে থাকেন তিনি। কড়াইয়ের গরম তেলে পেঁয়াজ ও মসলা ভাজার সময়ও ঝুমকির ফোনের আলাপ শেষ হয় না।
দীর্ঘক্ষণ ফোন কানে রেখে কথা বলায় মন্টু মিয়া বিরক্ত হয়ে পড়েন। তিনি ঝুমকিকে সতর্ক করে বলেন, এভাবে দীর্ঘসময় ফোনের স্ক্রিনের নীল আলো চোখের সামনে রাখলে ব্রেন টিউমারসহ শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। মন্টু এ সময় উত্তর পাড়ার জসিমের ছোট বউ ও টিভি নায়িকা ময়নার অসুস্থতার উদাহরণও টেনে আনেন। কিন্তু ঝুমকি তার স্বামীর এই উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো রেগে যান। মন্টু ও ঝুমকির এই তর্কাতর্কি এক পর্যায়ে ঝগড়ায় রূপ নেয়। তাদের চিৎকারে আশেপাশের প্রতিবেশীরা, যেমন মোল্লার ছোট বউ ও লাভলু মাতুব্বর, বাড়ির গেটে জড়ো হন।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন পাশের বাড়ির হারেজের বউ শেফালী কাঁদতে কাঁদতে সেখানে হাজির হন। শেফালী জানান, তার স্বামী সারাদিন রিলস ও শর্টস দেখে সময় কাটান, যার ফলে তাদের সংসারেও অশান্তি বাড়ছে। লাভলু মাতুব্বরও যোগ করেন, গ্রামের অনেক সংসার টিকটক ও মোবাইলের কারণে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। মন্টু মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, শুধু গ্রাম নয়, শহরের মানুষও এখন বারান্দায় বসে চা খাওয়ার সময় ফোনে ব্যস্ত থাকে, কেউ কারো মুখের দিকে তাকানোর সময় পায় না।
একসময় ঝুমকির পরিচিত টুনটুনি ভাবি সেখানে এসে তাকে বোঝান যে, মোবাইলের স্ক্রিনের আলোর চেয়ে একে অন্যের চোখের আলোয় সংসার বেশি সুন্দর। টুনটুনি ভাবির কথাগুলো ঝুমকির মনে দাগ কাটে। নিজের ব্যবহারের জন্য অনুতপ্ত ঝুমকি ফোনটি চালের ড্রামের ভেতর রেখে মন্টুর কাছে ক্ষমা চান। মন্টুও তাকে কাছে টেনে নেন। বাড়ির উঠোনে বিকেলের রোদে তাদের সম্পর্কের কালো মেঘ কিছুটা কাটলেও, রাত ১২টার পর ঝুমকি আবার টিকলিকে কল দেবে কি না, তা অবশ্য অন্য গল্প।





























