মুম্বাইয়ে জয়শঙ্কর-রুবিও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, গুরুত্ব পেল জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা
- আপডেট সময় : ০২:১৩:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

ভারতের মুম্বাইয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় প্রকাশ করা হয়। এতে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং উদীয়মান প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক জোর দেওয়ার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়।
বৈঠকের বিস্তারিত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও মজবুত করার পাশাপাশি আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরও আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যেই এ আলোচনা পরিচালিত হয়েছে।
এই কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত কর্তৃক রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। এটি ছিল টানা দ্বিতীয় মাসের মতো রুশ তেল আমদানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা। তবে আমদানির পরিমাণ কমলেও ভারতের বৃহত্তম জীবাশ্ম জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে মস্কো, যার আর্থিক মূল্য সেপ্টেম্বরে ছিল প্রায় ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউরো। আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার জ্বালানির সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন এবং দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত।
এর আগে গত জুলাই মাসে রাশিয়া থেকে মোট চাহিদার রেকর্ড প্রায় ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ তেল আমদানি করেছিল নতুন দিল্লি। বর্তমানে তা কমে প্রায় ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ওয়াশিংটন থেকে বিভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রক্রিয়াজাত তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে রাশিয়া থেকে তেল কেনা চালু রেখেছে ভারতীয় শোধনাগারগুলো। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মস্কোবান্ধব অবস্থানের প্রেক্ষাপটে মার্কো রুবিওর এই সফরের পর রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির প্রবণতায় কতটুকু পরিবর্তন আসে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর জয়শঙ্কর ও রুবিও যুক্ত হন একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেও, যেখানে উপস্থিত ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। এক্স বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানান, ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় জ্বালানি, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সমসাময়িক নানা বিষয়ে অত্যন্ত কার্যকর মতবিনিময় হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও এই বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং যৌথ অর্থনৈতিক লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করতে পেরে তিনি আনন্দিত।
ত্রিপক্ষীয় আলোচনা প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর মন্তব্য করেন, এই উদ্যোগের ফলে তিন দেশের পারস্পরিক বাণিজ্যিক, প্রযুক্তিগত ও জ্বালানি সম্পর্ক বাস্তবভিত্তিক ফলাফলে রূপ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারত নতুন কোনো রূপরেখা তৈরি করছে কি না, এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক মূলত সেই সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।



























