ফ্রান্সে কারফিউতে সহিংসতা কমলেও নতুন বিক্ষোভের আশঙ্কা
- আপডেট সময় : ১১:৫০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

ফ্রান্সের বড় শহরগুলোর সহিংসতাপ্রবণ এলাকায় রাতের কারফিউ জারির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। সাম্প্রতিক এই সহিংসতাকে কয়েক বছরের মধ্যে ফ্রান্সের অন্যতম ভয়াবহ অস্থিরতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এখনো কাটেনি।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত গত রাতের পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সহায়তা করেছে। প্রয়োজন হলে সপ্তাহের বাকি সময়েও এই কারফিউ বাড়ানো হতে পারে। প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে প্লাস দে লা রিপাবলিক এলাকা থেকে পুলিশ লোকজনকে সরিয়ে দিয়েছে এবং আকাশে হেলিকপ্টার টহলসহ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া উত্তর ফ্রান্সের লিলে শহরে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে এবং পুলিশ পথচারীদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করছে। মারসেইয়ের মেয়র বেনোয়া পায়ান জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তের দাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে মঙ্গলবার রাত থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কারফিউ জারি করা হবে।
ফ্রান্সের এই বিক্ষোভের প্রভাব ইতালি ও আলবেনিয়াসহ অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জীবনমানের অবনতি নিয়ে ক্ষোভ থেকে সেসব দেশেও মানুষ রাস্তায় নেমেছে এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সে জীবনমানের অবনতি ও বিভিন্ন স্থাপনার বেহাল দশার প্রতিবাদে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ধর্মঘট ও বৃহত্তর জনঅসন্তোষের সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও সামাজিক কল্যাণের চাহিদা পূরণ না হওয়ার অভিযোগ যুক্ত হয়েছে।
বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ বিএফএম টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে আটক ১৪৯ জন বিচার শুরুর অপেক্ষায় কারাগারে রয়েছেন এবং সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার মানুষ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে ছিলেন। এদিকে সহিংসতার কারণে ফ্রান্সের সরকারি বন্ডের সুদ গত ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ।
রাজনৈতিক পরিস্থিতিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, কারণ দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে আর মাত্র ছয় মাস বাকি। জনমত জরিপ অনুযায়ী নির্বাচনী দৌড়ে কট্টর ডানপন্থী ও কট্টর বামপন্থী প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। সংকট কাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং বাজেট বিল পাসের দিকে মনোযোগ ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু সরকার ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাদের বৃহস্পতিবার আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সরকার স্বীকার করেছে যে, বিক্ষোভের সময় প্যারিস, মার্সেই ও লিওঁর মতো শহরের কেন্দ্রস্থলে দাঙ্গাকারী ও লুটপাটকারীদের ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল না এবং এ থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছে।
নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মঙ্গলবার ফরাসি সরকারি বন্ডের সুদ আরও বেড়েছে। ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ গত ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীরা ফ্রান্সের ঋণপত্র কিনতে যে অতিরিক্ত মুনাফা দাবি করছেন, বন্ডের সুদ তারই একটি সূচক।



























