পুতিন ও শির সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প, ইউক্রেন যুদ্ধও আলোচনায়
- আপডেট সময় : ০২:৩১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আগামী মাসে চীনের শেনচেন শহরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই শীর্ষ সম্মেলনের মূল বিষয় পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ হলেও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও এতে আলোচনা হতে পারে। আগামী ১৮-১৯শে নভেম্বর চীনের শেনচেন শহরে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে চীন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র—সবাই সদস্য।
ডনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেন ইস্যুতে ঠিকঠাকই কাজ করছে, তাই তিনি ইউক্রেনের জন্য ততটা আগ্রহী নন। তিনি সম্প্রতি পুতিনের একটি ডিজেল চুক্তি এবং মস্কোর ওপর থেকে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন, যা কিয়েভের সঙ্গে তার ব্যাপক দূরত্ব তৈরি করেছে। জেলেনস্কির মন্তব্যের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “জেলেনস্কি জানেন না তিনি কী বলছেন। সত্যি বলতে, ইউক্রেনের পক্ষে অন্য কারও এখন দরকষাকষি করার সময় এসেছে।”
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মস্কোর অনুকূলে একটি শান্তি চুক্তির জন্য পুতিন এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক চাইছেন। এ বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ উল্লেখ করেন যে, তিন রাষ্ট্রপ্রধানের চীনে উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা থাকায় এমন একটি সম্ভাব্য বৈঠকের কথা বলা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, বৈঠক বা এর আলোচ্যসূচি নিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা চুক্তি নিয়ে কারও সঙ্গে আলোচনা হয়নি। অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, সম্ভাব্য এই বৈঠক সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
তবে কিয়েভকে ছাড়া এমন বৈঠকের প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। তিনি জানান, এমন ত্রিপক্ষীয় বৈঠক কেবল পুতিনকেই এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে। সিবিহা সামাজিক মাধ্যমে পুতিনকে বিশ্বনেতার বদলে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এর জবাবে পেসকভ বলেছেন, দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত কিয়েভের এমন কারও অংশগ্রহণ ছাড়া চূড়ান্ত মীমাংসা অসম্ভব। পুতিন সর্বদাই বলে এসেছেন যে, চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি প্রস্তুত হওয়ার আগে তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসবেন না। এছাড়া, সামরিক আইনের অধীনে পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চুক্তিতে সই করার বিষয়ে জেলেনস্কির কর্তৃত্ব নিয়েও বারবার প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।



























