সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে দেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ১২:১০:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন জেলার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা থেকে সামরিক বিমানে প্রথমে রংপুর, পরে রাজশাহী এবং শেষে চট্টগ্রাম জেলায় সফর করেন তিনি। এই জেলাগুলোতে বেশ কয়েকটি পথসভা ও জনসভায় বক্তব্য রাখার পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে দেশ গড়ার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে সীমান্তের ওপার থেকে একটি পক্ষ এবং দেশের ভেতরে আরেকটি পক্ষ অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়ে ৯টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বেলা ১২টা ৪ মিনিটে মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে শিশুরা নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে তাকে অভ্যর্থনা জানায়। সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দু’টি পথসভায় অংশ নেন তিনি। এরপর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে সৈয়দপুর থেকে সামরিক বিমানে রওনা হয়ে ২টা ৫৫ মিনিটে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখ চাষির মধ্যে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ করেন তিনি। রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে তিনি চট্টগ্রাম সফর করেন এবং জেএম সেন হল ও রহমতগঞ্জ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
রংপুরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি, সব ধর্মের মানুষ যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল। দুই-আড়াই বছর আগে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানেও সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করেছে। তিনি বলেন, হাজার বছর ধরে আমরা শান্তিতে বসবাস করছি এবং আগামী দিনেও সব ধর্ম-মতের মানুষকে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে চাই। বর্তমান সরকার দল-মত নির্বিশেষে সবার সরকার হিসেবে কাজ করতে চায়। রংপুর মহানগরের উন্নয়নের জন্য গত দুই সপ্তাহে ১৮শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিভ্রান্তি ছড়ানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা সফল হয়নি, তেমনি ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান নিয়েও কোনো মহলকে বিতর্কিত চেষ্টা না করার আহ্বান জানান তিনি। কোনো কিছু বলার থাকলে সংসদে আলোচনার আহ্বান জানান তিনি। এদিকে রাজশাহী ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এতে রাজশাহীসহ ১৪টি জেলার মানুষ উপকৃত হবে। এছাড়া কৃষকদের কৃষি ঋণ মওকুফ, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং ধর্মীয় গুরুদের ভাতার ব্যবস্থাসহ খেটে খাওয়া মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ বিএনপি ও সরকারের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



























